ঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে লেবু–তেজপাতার ভাইরাল পদ্ধতি কতটা কার্যকর
সুগন্ধি মোমবাতি বা এয়ার ফ্রেশনার ছাড়াই ঘর সতেজ গন্ধে ভরিয়ে তোলার একটি সহজ ঘরোয়া উপায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, শুধু একটি লেবু আর কয়েকটি তেজপাতাই নাকি ঘরের দুর্গন্ধ দূর করতে পারে। কিন্তু এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর? বিজ্ঞান কী বলছে?
কী করতে হবে
এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে একটি লেবু পাতলা করে কেটে প্লেটে সাজিয়ে নিন। প্রতিটি লেবুর টুকরার সঙ্গে একটি করে তেজপাতা রাখুন। চাইলে লেবুটি মাঝখান থেকে কেটে ভেতরেও কয়েকটি তেজপাতা গুঁজে দিতে পারেন। এরপর প্লেটটি ঘরের এমন একটি জায়গায় রাখুন, যেখানে অবাধে হাওয়া খেলে।
কেন কাজ করে
লেবুর খোসা ও রসে থাকা প্রাকৃতিক সুগন্ধি যৌগ (এসেনশিয়াল অয়েল) বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে সতেজ সাইট্রাস ঘ্রাণ তৈরি করে। অন্যদিকে তেজপাতায় থাকা সুগন্ধি তেল ঘ্রাণকে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করে। এই দুইয়ের মিশ্রণে ঘরে একটি প্রাকৃতিক সাইট্রাস–হারবাল সুবাস তৈরি হয়, যা অনেকের কাছে আরামদায়ক।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, এই পদ্ধতি দুর্গন্ধ কিছুটা চেপে রাখে। অর্থাৎ আবর্জনা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বা অন্য কোনো কারণে দুর্গন্ধ হলে সেসব পরিষ্কার করাই মূল সমাধান।
মশা তাড়াতেও কি সাহায্য করে
অনেকে দাবি করেন, লেবু ও তেজপাতার গন্ধ মশা দূরে রাখে। তবে এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। গবেষণায় মশা প্রতিরোধে লেবু বা তেজপাতার ঘন এসেনশিয়াল অয়েল নিয়ে কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলেও শুধু কাটা লেবু ও তেজপাতা প্লেটে রেখে একই ধরনের কার্যকারিতা পাওয়া যায়, এমন প্রমাণ এখনো নেই।
তাই একে মশা প্রতিরোধের নির্ভরযোগ্য উপায় না ভেবে প্রাকৃতিক সুগন্ধ তৈরির একটি সহজ কৌশল হিসেবে দেখাই ভালো।
আরও সুগন্ধ চাইলে
শুধু লেবু ও তেজপাতাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে এর সঙ্গে দারুচিনি, লবঙ্গ, পুদিনাপাতা, লেবুজাতীয় অন্য ফল যোগ করতে পারেন। এতে ঘ্রাণে ভিন্নতা আসবে।
দু–তিন দিন পর লেবু শুকিয়ে গেলে বা গন্ধ কমে এলে নতুন লেবু ও তেজপাতা ব্যবহার করুন।
মনে রাখবেন
লেবুর রসে অ্যাসিড থাকে। তাই এটি সরাসরি কাঠের আসবাব বা পালিশ করা পৃষ্ঠে রাখলে দাগ পড়তে পারে। সব সময় একটি প্লেট বা বাটি ব্যবহার করুন।
সব মিলিয়ে লেবু ও তেজপাতার এই পদ্ধতি ঘরে প্রাকৃতিক সুগন্ধ আনতে নিরাপদ, সহজ ও সাশ্রয়ী একটি উপায় হতে পারে। তবে এটি এয়ার পিউরিফায়ার বা নিয়মিত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নয়।
সূত্র: এমএসএন