পরিবারের সবার জন্য খাবার আয়োজন করতে দিনের অনেকটা সময় গৃহিণীদের রান্নাঘরেই কেটে যায়। তাই রান্নাঘরটি যদি হয় ছিমছাম, সুন্দর আর হাতের নাগালেই থাকে প্রয়োজনীয় সবকিছু—তখন রান্না হয়ে ওঠে সহজ ও উপভোগ্য।
এমনই দৃষ্টিনন্দন ও গোছানো একটি রান্নাঘরে নিজেদের প্রিয় ‘সিচুয়ান বিফ’ তৈরি করলেন অভিনয়শিল্পী-দম্পতি মীর সাব্বির ও ফারজানা চুমকি। তবে সেটা নিজেদের বাসায় নয়, ‘হাতিল কিচেন কেবিন’ অনুষ্ঠানে। যেটি একযোগে প্রচারিত হয় প্রথম আলো ডটকম, প্রথম আলো ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন নীল হুরেজাহান। শুরুতেই কুশল বিনিময়ের পর হাতিলের কিচেনটি সম্পর্কে জানতে চান নীল। উত্তরে ফারজানা চুমকি জানান নিজের ভালো লাগার কথা। মীর সাব্বির যোগ করেন, ‘দেখেই মনে হচ্ছে এটি ভালোবাসার কিচেন।’
‘রান্নাঘরে কার বেশি থাকা হয়?’ প্রশ্নটি শেষ না হতেই মীর সাব্বির বলে ওঠেন, ‘চুমকির।’
মুচকি হেসে নীল বলেন, ‘মীর সাব্বিরের কি রান্নাঘরে যাওয়া হয় মাঝেমধ্যে? ও একদমই রান্নাঘরে যায় না’, কিছুটা অনুযোগের সুরেই বলেন চুমকি।
এবার মীর সাব্বির কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন, ‘একদমই যাই না, কথাটা ঠিক নয়। মাঝেমধ্যে যাওয়া হয়। তবে রান্না করতে নয়…।’
চুমকি বলেন, ‘কী কী রান্না হচ্ছে সেটা দেখতে আর আমি কেমন রান্না করছি, সেটা টেস্ট করতেই মূলত ও রান্নাঘরে যায়।’
চুমকির হাতের রান্না করা গরুর মাংস খেতে পছন্দ করেন মীর সাব্বির। তথ্যটা জানার পর নীল বলেন, ‘তাহলে হাতিল কিচেন কেবিনে আজ আমরা গরুর মাংসই রান্না করব।’
গরুর মাংস ছাড়াও আলুভর্তা, ডিম ভাজি আর ডাল-ভাত খেতে ভালোবাসেন মীর সাব্বির। তাই তিনজনই প্রস্তুতি নেন ‘সিচুয়ান বিফ’ রান্না করার। এরই মধ্যে রান্নাঘরের চারপাশটায় চোখ বুলিয়ে মীর সাব্বির ও চুমকি জানান, হাতিলের ফার্নিচারের রং ও ডিজাইন খুব সুন্দর ও রুচিসম্মত। যাঁরা নতুন ফ্ল্যাট বানাবেন বা কিনবেন, তাঁদের জন্য হাতিলের এমন কিচেন পারফেক্ট হবে বলে দুজনের অভিমত।
এরপর সিচুয়ান বিফ তৈরির উপকরণগুলো সম্পর্কে একে একে বলতে থাকেন নীল। তিনজন ব্যস্ত হয়ে যান রেসিপিটি তৈরিতে। রান্না আর গল্প একসঙ্গে চলতে থাকে।
নীল জানতে চান, ‘সংসার তো হয় দুজনের। কিন্তু বিয়ের পর শুধু স্ত্রীরাই কেন রান্নাঘর সামলাবে?’
নীল ও চুমকি—দুজনেরই দৃষ্টি চলে যায় মীর সাব্বিরের দিকে। অনুষ্ঠানে একমাত্র পুরুষ সদস্য হিসেবে বাধ্য হয়েই উত্তরটা দেন সাব্বির, ‘বিয়ের পর অনেক স্বামীও কিন্তু রান্না করে। তবে সেটা স্ত্রীরা ভুলে যায়। যেমন আমার বিষয়টা চুমকি ভুলে গেছে!’
চুমকি অবাক হয়ে বলেন, ‘ও মাই গড! তোমাকে রান্নাঘরে দেখেছি, তবে সেটা এক বা দুই দিনের বেশি হবে না।’
কথোপকথনেই বোঝা যায়, রান্নার ব্যাপারে সাব্বিরের আগ্রহ কতটুকু। তাই তাঁকে নীল বলেন, ‘ভাইয়া, আপনি চাইলে চেয়ারে গিয়ে বসতে পারেন।’
প্রস্তাবটা সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেন সাব্বির। অনুষ্ঠানের সেটে থাকা হাতিলের সুন্দর একটা উঁচু চেয়ারে বসে রান্না দেখতে থাকেন তিনি। বলেন, ‘ছোটবেলায় যখন মা রান্না করতেন, তখন শেষের দিকে খাবার চেখে দেখতাম আমি। সেই অভ্যাস আমার এখনো আছে।’
সাব্বিরের কথায় হেসে সায় দেন চুমকি। এরই মধ্যে শেষ হয় সিচুয়ান বিফ রান্না। যথারীতি মীর সাব্বিরই প্রথম রেসিপিটি চেখে দেখার দায়িত্ব পালন করেন।
সাব্বির জানতে চান, ‘আচ্ছা, যিনি রান্না করেন, তার কি খাবারের আগ্রহ কমে যায়?’
উত্তর দেন নীল, ‘এ কথাটা অনেকেই বলেন, তবে আমার ক্ষেত্রে কখনো এমনটা হয়নি। আমি নিজে রান্না করতে ও খেতে ভালোবাসি।’
এরপর শুরু হয় খাওয়ার পর্ব। খেতে খেতেই রেসিপিটির স্বাদ নিয়ে নিজেদের মত দেন অতিথিরা। সঙ্গে চলতে থাকে তিনজনের পেশাগত কাজ ও ব্যস্ততার গল্পও।