ক্লাসরুমে বসে থাকা কুকুরের যে ছবি ছড়িয়ে গেল সবখানে

ছবিটা একেবারেই সাদামাটা। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ঠিক নেই, ফ্রেম ঠিক নেই, আলো-আঁধারের খেলা নেই। তবু মুঠোফোনে তোলা এই ছবি যে এত মানুষের মনে দাগ কেটে যাবে, বুঝতে পারিনি। ফেসবুকে আপলোড করার পর কীভাবে যেন এই ছবি ছড়িয়ে গেছে। ক্লাসরুমে একটা কুকুর বসে আছে, দৃশ্যটা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ঠেকেছে।

এই সেই ছবি

অথচ আমরা যাঁরা চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, আমাদের কাছে এটা খুব স্বাভাবিক চিত্র। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন প্রায় ৩০টি কুকুর আছে। ওদের চলাফেরা, খাওয়াদাওয়া, খেলাধুলা, সবই এই ক্যাম্পাসে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও ওদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ওরা দিব্যি আমাদের ক্লাসে ঢুকে পড়ে। চুপচাপ বসে থাকে। কোনো বিরক্ত করে না। আমরাও ওগুলোকে কিছু বলি না।

কুকুরগুলো যেন শান্ত, বন্ধুত্বপূর্ণ হয়, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের  রাশেদুল আলম স্যার দীর্ঘদিন ধরে ‘অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার প্রজেক্ট’ নিয়ে কাজ করছেন। এটি আমাদের ভেটেরিনারি শিক্ষারই অংশ। সবার আন্তরিকতায় আমাদের ক্যাম্পাসে এই অদ্ভুত বন্ধন গড়ে উঠেছে।

ক্যাম্পাসে কুকুরগুলোর কয়েকটা দল আছে। এক দল থাকে ভেটেরিনারি অনুষদে। অন্যান্য অনুষদেও আলাদা আলাদা দল চোখে পড়ে। ওদের নিজেদের মধ্যেও একরকম মিথস্ক্রিয়া রয়েছে। আমাদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে লিফটেও উঠে পড়ে ওরা। এটা এখানে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। যেখানে ভালোবাসা, স্নেহ টের পায়, কুকুর সেখানেই থাকতে পছন্দ করে। এটাই ওদের স্বভাব। তাই আমাদের আশপাশে থাকতে নিশ্চয় ওদেরও ভালো লাগে।