বাথরুম পরিষ্কার, তবু দুর্গন্ধ? কারণ হতে পারে এই ৭টি জিনিস
বাথরুম নিয়মিত পরিষ্কার করেন। তবু কোথা থেকে যেন একটা দুর্গন্ধ আসছে! কখনো স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, কখনো পচা ডিমের মতো, আবার কখনো এমন গন্ধ, যার উৎসই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করেও লাভ হচ্ছে না?
বাথরুমে পানি ও আর্দ্রতা বেশি থাকে। ফলে ঠিকমতো পরিষ্কার ও শুকনো না রাখলে সেখানে জীবাণু ও ছত্রাক জন্মাতে পারে। এ ছাড়া জমে থাকা ময়লা, চুল কিংবা ব্যবহৃত কাপড় থেকেও দুর্গন্ধ ছড়ায়। অনেক সময় দুর্গন্ধের উৎস এমন জায়গায় লুকিয়ে থাকে, যেখানে সচরাচর নজর দেওয়া হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক বাথরুমে দুর্গন্ধের সাতটি সম্ভাব্য কারণ এবং তা দূর করার উপায়।
১. বেসিন বা গোসলের জায়গার পাইপে ময়লা জমা
বেসিন কিংবা গোসলের জায়গার পানিনিষ্কাশনের পাইপে চুল, সাবানের অবশিষ্টাংশ ও ময়লা জমে পানি চলাচলে বাধা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন এসব জমে থাকলে দুর্গন্ধও হতে পারে।
কী করবেন: হাতে গ্লাভস পরে ড্রেনের মুখে জমে থাকা চুল ও ময়লা সরিয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে ড্রেন পরিষ্কারের বিশেষ তার বা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন। ভবিষ্যতে চুল আটকে রাখার জন্য ড্রেনের মুখে ছাঁকনি লাগিয়ে রাখুন।
পাইপের ময়লা দূর করতে অনেকে বেকিং সোডা ও ভিনেগার ব্যবহার করেন। তবে গুরুতর ব্লক দূর করতে এ পদ্ধতি সব সময় কার্যকর নয়। আর রাসায়নিক ড্রেন ক্লিনারের সঙ্গে ভিনেগার, ব্লিচ বা অন্য কোনো পরিষ্কারক মেশাবেন না। এতে বিপজ্জনক গ্যাস তৈরি হতে পারে।
২. ভেজা তোয়ালে
গোসলের পর ভেজা তোয়ালে বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখেন অনেকেই। কিন্তু বাতাস চলাচল কম হলে তোয়ালে সহজে শুকায় না। দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে সেখানে জীবাণু ও ছত্রাক জন্মাতে পারে। ফলে তৈরি হয় স্যাঁতসেঁতে, বাসি গন্ধ। সেই গন্ধ শরীরেও লেগে যেতে পারে।
কী করবেন: গোসলের তোয়ালে তিন থেকে চারবার ব্যবহারের পর ধুয়ে ফেলুন। তোয়ালের পরিচর্যার নির্দেশনা অনুযায়ী যতটা সম্ভব উপযুক্ত তাপমাত্রার পানিতে ধুতে পারেন। কাপড়ের ধরন অনুমতি দিলে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ধোয়া যায়। অতিরিক্ত ডিটারজেন্ট বা ফ্যাব্রিক সফটনার ব্যবহার করবেন না। সবচেয়ে জরুরি, প্রতিবার ব্যবহারের পর তোয়ালে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
৩. টুথব্রাশ রাখার পাত্র
বাথরুমের দুর্গন্ধের উৎস হতে পারে টুথব্রাশ রাখার পাত্রও। ব্রাশ থেকে গড়িয়ে পড়া পানি, টুথপেস্টের অবশিষ্টাংশ ও ময়লা সেখানে জমতে থাকে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে পাত্রের তলায় পিচ্ছিল আস্তরণ তৈরি হয়। সেখান থেকে অস্বস্তিকর গন্ধ ছড়াতে পারে।
কী করবেন: টুথব্রাশ রাখার পাত্র নিয়মিত খালি করে গরম সাবানপানি দিয়ে ধুয়ে নিন। পাত্রের ভেতর ও তলার অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। এরপর শুকিয়ে আবার ব্যবহার করুন। ব্রাশগুলোও এমনভাবে রাখুন, যাতে পানি ঝরে যায় এবং সহজে শুকাতে পারে।
৪. ইলেকট্রিক টুথব্রাশের মাথার নিচে ময়লা
ইলেকট্রিক টুথব্রাশ ব্যবহার করলে এর খুলে ফেলা যায়, এমন মাথার নিচেও নজর দিন। সেখানে পানি, টুথপেস্ট ও লালার অবশিষ্টাংশ জমতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে পিচ্ছিল ময়লা বা ছত্রাকের আস্তরণ তৈরি হয়ে দুর্গন্ধ হতে পারে।
কী করবেন: প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে ব্রাশের মাথা খুলে পরিষ্কার করুন। সরু জায়গায় জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে নরম ছোট ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কারের পর অংশগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। সাধারণভাবে তিন মাস পরপর টুথব্রাশের মাথা বদলানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ব্রিসল নষ্ট হয়ে গেলে আগেই বদলে ফেলুন।
৫. কমোডের আশপাশের ম্যাট
কমোডের সামনে বা আশপাশে কাপড়ের ম্যাট ব্যবহার করেন অনেকে। এতে পানি, প্রস্রাবের ছিটা ও ময়লা জমতে পারে। নিয়মিত না ধুলে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। ভেজা ম্যাটে জীবাণু ও ছত্রাক জন্মানোর পরিবেশও তৈরি হতে পারে।
কী করবেন: সপ্তাহে অন্তত একবার ম্যাট ধুয়ে নিন। পরিচর্যার নির্দেশনা অনুযায়ী গরম পানিতে ধুতে পারেন। ধোয়ার পর পুরোপুরি শুকিয়ে বাথরুমে রাখুন। ম্যাটের নিচের মেঝেও নিয়মিত পরিষ্কার করুন। সম্ভব হলে সহজে ধোয়া ও শুকানো যায়, এমন ম্যাট ব্যবহার করুন।
৬. গোসলের পর পরা গাউন বা বাথরোব
গোসলের পর অনেকে বাথরোব বা গাউন পরেন। কিন্তু নিয়মিত ধোয়ার কথা ভুলে যান। অথচ এতে ঘাম, শরীরের তেল, ক্রিম ও অন্যান্য প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ জমতে থাকে। ভেজা শরীরে পরার কারণে কাপড়টি আর্দ্রও হয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে।
কী করবেন: নিয়মিত ব্যবহার করলে সপ্তাহে অন্তত একবার বাথরোব ধুয়ে নিন। ধোয়ার আগে পকেট খালি করুন। আলাদা বেল্ট থাকলে সেটিও পরিষ্কার করুন। প্রতিবার ব্যবহারের পর বাথরোব এমন জায়গায় ঝুলিয়ে রাখুন, যেখানে বাতাস চলাচল করে এবং কাপড়টি ভালোভাবে শুকায়।
৭. গোসলের পর্দায় ছত্রাক
গোসলের জায়গায় পর্দা ব্যবহার করলে সেটিও দুর্গন্ধের উৎস হতে পারে। প্রতিবার গোসলের সময় পর্দা ভিজে যায়। এরপর ভাঁজ করে বা গুটিয়ে রাখলে সহজে শুকাতে পারে না। দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকায় সেখানে ছত্রাক জন্মাতে পারে। বিশেষ করে পর্দার নিচের অংশে কালচে দাগ ও স্যাঁতসেঁতে গন্ধ তৈরি হয়।
কী করবেন: পর্দার উপাদান ও পরিচর্যার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিষ্কার করুন। অনেক প্লাস্টিক বা ভিনাইলের পর্দা মৃদু ওয়াশিং মেশিন সাইকেলে ধোয়া যায়। কাপড়ের পর্দার ক্ষেত্রেও উপযুক্ত ডিটারজেন্ট ও তাপমাত্রা ব্যবহার করুন।
ছত্রাকের দাগ থাকলে পর্দার উপাদানের উপযোগী পরিষ্কারক ব্যবহার করুন। ব্লিচ ব্যবহার করলে নির্দেশনা মেনে চলুন এবং অন্য পরিষ্কারকের সঙ্গে মেশাবেন না। গোসলের পর পর্দাটি পুরোপুরি ছড়িয়ে দিন, যাতে দ্রুত শুকিয়ে যায়।
দুর্গন্ধ দূর করতে আরও যা মনে রাখবেন
বাথরুমে দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ আর্দ্রতা। তাই সম্ভব হলে এগজোস্ট ফ্যান চালান বা জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। ভেজা কাপড়, তোয়ালে ও ম্যাট দীর্ঘ সময় বাথরুমে ফেলে রাখবেন না। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি কোন জায়গায় পানি জমে থাকছে, সেদিকেও নজর দিন।
তবে সব দুর্গন্ধই ময়লা বা ছত্রাকের কারণে হয় না। ড্রেন থেকে পচা ডিমের মতো গন্ধ আসা, দীর্ঘদিন দুর্গন্ধ না কমা কিংবা পানিনিষ্কাশনে সমস্যা থাকলে পাইপ, ড্রেনের ট্র্যাপ বা পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থায় ত্রুটি থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ প্লাম্বারের সাহায্য নিন।
সূত্র: গুড হাউসকিপিং