ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া নিয়ে ৫ ভুল ধারণা

প্রকৌশলের পড়ালেখা নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা বা ‘মিথ’ প্রচলিত আছে। কয়েকটির কথা জানাচ্ছেন তড়িৎ প্রকৌশলী পারভেজ মাহমুদ

আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা আছে যে পুরকৌশল বা যন্ত্রকৌশলের মতো বিষয় নারীদের জন্য নয়ছবি: পেক্সেলস

১. দেশে সরকারি চাকরি ছাড়া গতি নেই

অনেক শিক্ষার্থীই প্রকৌশল পড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন উচ্চশিক্ষা বা চাকরির জন্য। অনেকে আবার বিসিএস বা ব্যাংকের চাকরির পেছনে ছুটছেন। ফলে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে প্রকৌশলে পড়ে দেশে কাজ করার খুব একটা সুযোগ নেই। আদতে তা নয়। বরং দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, টেক্সটাইল, বিদ্যুৎ খাত এবং সফটওয়্যারশিল্পে প্রকৌশলীদের বিশাল চাহিদা আছে। গত কয়েক বছর বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেশি বলেই এমন ‘মিথ’ তৈরি হয়েছে। প্রকৌশলে পড়ে দেশে অনেকে উদ্যোক্তাও হচ্ছেন।

২. মেয়েদের জন্য নয়

আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা আছে যে পুরকৌশল বা যন্ত্রকৌশলের মতো বিষয় নারীদের জন্য নয়। রোদে পুড়ে বা বিভিন্ন কারখানায়, ল্যাবে, ওয়ার্কশপে কাজ করতে হয়। অথচ নারীরাও এসব কাজে পুরুষের সমান পারদর্শী। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে ডিজাইন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। পরামর্শক হিসেবেও অনেক নারী ক্যারিয়ারে দ্রুত এগোচ্ছেন।

৩. নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়া চাকরি পাওয়া কঠিন

অনেকের ধারণা বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, চুয়েটের মতো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল না পড়ালে ভালো ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব নয়। বাস্তবতা হলো, চাকরির বাজারে শিক্ষার্থীদের সনদের পাশাপাশি দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রকৌশলের অনেক ড্রপ আউট শিক্ষার্থীও কেবল দক্ষতার জোরে বিভিন্ন প্রকল্পে ডাক পান।

৪. সিজিপিএ ভালো হলেই ভালো চাকরি

সিজিপিএ একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও কর্মক্ষেত্রে কারিগরি দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং সফট স্কিলের গুরুত্ব অনেক বেশি। একাডেমিক ফলের চেয়ে ইন্ডাস্ট্রি পর্যায়ের দক্ষতা এখন অগ্রাধিকার পায়। চাকরির জন্য ক্লাসের তত্ত্বের চেয়ে ব্যবহারিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকৌশলের শিক্ষার্থীরা এখন ছাত্রজীবন থেকেই নানা ক্লাব, প্রতিযোগিতা, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। এতে নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।

৫. মানুষ নয়, যন্ত্র বুঝলেই হয়

এমন একটি সামাজিক মিথ আছে যে প্রকৌশলীরা আবেগহীন বা ‘রোবোটিক’ হন, তাঁদের মধ্যে ব্যবসায়িক বা সামাজিক ধারণা কম থাকে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান বিশ্বে প্রকৌশলীদের ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’ (আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা) এবং দল ব্যবস্থাপনায় (টিম ম্যানেজমেন্ট) বিশেষ দক্ষ হতে হয়। কারণ, তাঁদের একটি বিশাল দল পরিচালনা করতে হয়। শুধু কারিগরি দক্ষতা ক্যারিয়ারে সাফল্য আনবে না। সফট স্কিল ও ম্যানেজমেন্ট স্কিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক বিখ্যাত ব্যবসায়ী, লেখক কিংবা সাংবাদিক কিন্তু প্রকৌশল নিয়ে পড়েছেন।