আইইএলটিএস আর ‘কাগজে–কলমে’ নেই, করণীয় কী

কম্পিউটার বেজড পরীক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ঢুকে চাইলেই আপনি ‘ইউজার ইন্টারফেস’–এর সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেনছবি: প্রথম আলো

কাগজে–কলমে বাংলাদেশে আর আইইএলটিএস পরীক্ষা দেওয়া যাবে না, পরীক্ষা দিতে হবে কম্পিউটারে।

আইইএলটিএস পরীক্ষার আয়োজক আইডিপির ওয়েবসাইট বলছে, এ বছরের ৩১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে গেছে ‘পেপার টেস্ট’ পদ্ধতি। যাঁরাই পরীক্ষা দিতে চান, তাঁদের ‘কম্পিউটার বেজড’ আইইএলটিএসে অংশ নিতে হবে।

বেশ কয়েক বছর আগেই দেশে কাগজে–কলমে পরীক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটারনির্ভর আইইএলটিএস চালু হয়। এই পদ্ধতি অনেকের জন্য যেমন সুবিধাজনক, আবার অনেকে হয়তো এ নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ভুগছেন। ভয়ের কোনো কারণ নেই। কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলেই কম্পিউটারেও আপনি নিজের সেরাটা দিতে পারবেন।

আরও পড়ুন

পার্থক্য কোথায়

কম্পিউটার ও পেপারনির্ভর পরীক্ষার পার্থক্যটি বুঝিয়ে বললেন আইইএলটিএস প্রশিক্ষক মো. আশিকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘পেনসিল দিয়ে বৃত্ত ভরাট করতে হয় না, উত্তর হাতে লিখতে হয় না। লিসেনিং, রিডিং ও রাইটিং—তিন অংশেই কম্পিউটারে টাইপ করে উত্তর দেওয়া যায়। তবে স্পিকিং অংশ দুই পদ্ধতিতে একই রকম। একজন পরীক্ষকের সামনে ইন্টারভিউ দিতে হবে। পরীক্ষক সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেন, আবার অনলাইনেও ইন্টারভিউ নিতে পারেন।’

কম্পিউটারনির্ভর পরীক্ষার বেশ কিছু সুবিধার কথাও শোনালেন মো. আশিকুজ্জামান, ‘আগে পরীক্ষার তারিখ পাওয়াটাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন ছিল। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই পরীক্ষার তারিখ পাওয়া যায়। দিনের বিভিন্ন সময়ে (সকাল, দুপুর বা বিকেল) পছন্দ অনুযায়ী স্লট বেছে নিতে পারবেন। পেপার বেজড পরীক্ষার ফলাফল পেতে যেখানে ১৩ দিন লাগে, সেখানে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষায় মাত্র দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই ফলাফল পাওয়া যায়।’

আরও পড়ুন

কম্পিউটারে পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কৌশলগত সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ মাথায় রাখা দরকার। হাতের লেখা কতখানি স্পষ্ট হলো, সেটা নিয়ে আপনাকে আর মাথা ঘামাতে হচ্ছে না, এটা একটা ভালো দিক। শব্দ ও বাক্য যেন নির্ভুল হয়, সেদিকে মনোযোগ দিতে পারছেন। তবে টাইপিংয়ের গতি আপনাকে রপ্ত করতে হবে। দ্রুত টাইপ করতে না পারলে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা শেষ করা কঠিন হতে পারে।

কম্পিউটারের পর্দায় তাকিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্যারাগ্রাফ পড়ার অভ্যাস আপনার থাকতে হবে। রিডিং সেকশনে স্ক্রিনটি দুই ভাগে ভাগ করা থাকে। এক পাশে প্রশ্ন, অন্য পাশে প্যাসেজ। ফলে তথ্যের মিল খোঁজা অনেক সহজ। লিসেনিং টেস্টের সময় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন দেওয়া হয়।

আইডিপি বাংলাদেশের হেড অব আইইএলটিএস এক্সাম ইলোরা শর্মী বলেন, ‘কম্পিউটার ডেলিভারড আইইএলটিএস এই পরীক্ষার একটি আধুনিক সংস্করণ। পরীক্ষার্থীদের জন্য এতে বেশ ভালো সুবিধা আছে। পরীক্ষার্থীরা প্রতিদিনই নিজের মতো করে সময় বুক করতে পারছেন। আইডিপিতে এই পরীক্ষায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল পাওয়া যায়। পরীক্ষায় রাইটিং মডিউলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শব্দ গণনা দেখা যায়। পরীক্ষায় কপি, হাইলাইট, ড্র্যাগ, ড্রপ ইত্যাদি সুযোগের কারণে পরীক্ষার্থীর সময় বাঁচে। আইইএলটিএস পরীক্ষাকে আরও পরীক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতেই কম্পিউটারনির্ভর করা হয়েছে।’

কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন

কম্পিউটার বেজড আইইএলটিএসে ভালো করতে হলে প্রস্তুতির ধরনে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। তরুণ পেশাজীবী বিধান সাহা গত বছরের শেষে কম্পিউটার বেজড আইইএলটিএস পরীক্ষা দিয়ে ৭ পেয়েছিলেন। তাঁর পরামর্শ শুনুন, ‘প্রস্তুতির জন্য এখন আর কেবল নীলক্ষেতের হার্ডকপি বইয়ের ওপর নির্ভর করা ঠিক হবে না। ব্রিটিশ কাউন্সিল বা আইডিপির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফ্রি প্র্যাকটিস ম্যাটেরিয়ালগুলো নিয়মিত সমাধান করতে পারেন। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা কম্পিউটারে টাইপ করার অভ্যাস করতে পারলে ভালো। বিশেষ করে পাংচুয়েশন ও ক্যাপিটাল লেটারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার চর্চাটা জরুরি। ইংরেজি সংবাদ বা ব্লগ অনলাইনে পড়ার অভ্যাস করতে হবে। এটা আপনার আই মুভমেন্ট ও স্ক্রিন থেকে দ্রুত তথ্য খুঁজে বের করার সক্ষমতা বাড়াবে।’

মক টেস্টের সুযোগ

কম্পিউটার বেজড পরীক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, চাইলেই আপনি ‘ইউজার ইন্টারফেস’–এর সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। অর্থাৎ মক টেস্টে আপনি যেমনটা দেখবেন, মূল পরীক্ষায়ও একই রকম নিয়ম থাকবে। বারবার পরীক্ষা দিলে আপনার একরকম দক্ষতা তৈরি হয়ে যাবে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির গবেষক রুবিনা হক এ মাসেরই ৬ তারিখ কম্পিউটার বেজড আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির একটি বড় অংশজুড়ে থাকা উচিত মক টেস্ট। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে বিনা মূল্যে কম্পিউটার ডেলিভারড আইইএলটিএস ফ্যামিলিয়ারাইজেশন টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি আসল পরীক্ষার মতোই একটি ডেমো সফটওয়্যার। এই মক টেস্ট দিলে বুঝতে পারবেন, কীভাবে উত্তর সাবমিট করতে হয়, কীভাবে হাইলাইট করতে হয় কিংবা কীভাবে স্ক্রিনে থাকা ঘড়ির সময় দেখে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। অন্তত তিন থেকে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট না দিয়ে আসল পরীক্ষায় বসা একদমই অনুচিত। কম্পিউটার ফরম্যাটে পরীক্ষা দেওয়ার সময় কিছু ছোট টিপস আপনার স্কোর বাড়াতে পারে। রাইটিং সেকশনে আপনাকে আলাদাভাবে শব্দ গুনতে হবে না। স্ক্রিনের নিচেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়ার্ড কাউন্ট দেখাবে, যা সময় বাঁচায়। মাউসের রাইট বাটনে ক্লিক করে প্যাসেজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইলাইট করতে পারবেন। ভার্চ্যুয়াল নোট নিতে পারবেন। রাইটিং টাস্কে কোনো বাক্য ভুল মনে হলে বা নতুন কোনো আইডিয়া যুক্ত করতে চাইলে খুব সহজেই কাট–পেস্ট করতে পারবেন। হাতে লেখা পরীক্ষায় এসব সুযোগ ছিল না।’

যাঁরা সামনে পরীক্ষা দেবেন বলে ভাবছেন, আগে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষার ভিডিওগুলো দেখুন। ইন্টারফেসটা চিনুন। কোনো কোচিংয়ে যাওয়ার আগে নিজে একটি ফ্রি মক টেস্ট দিয়ে দেখুন, আপনি বর্তমানে কোন লেভেলে আছেন। এ ছাড়া রুটিন মেনে চর্চা করুন। লিসেনিং ও রিডিংয়ের জন্য প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে সময় দিন। লিসেনিং প্র্যাকটিসের সময় হেডফোন ব্যবহার করুন। কেবল পরীক্ষার ধরন জানলেই হবে না, ইংরেজি ভাষার মূল ভিত্তি অর্থাৎ শব্দভান্ডার ও ব্যাকরণে দক্ষতা বাড়াতে হবে। একটি তথ্য জেনে রাখা ভালো, স্পিকিং টেস্টের সময় পরীক্ষক সরাসরি থাকতে পারেন, আবার পরীক্ষার কেন্দ্রে অনলাইনেও যুক্ত হতে পারেন। দুই ভাবেই স্বাচ্ছন্দ্যে কথা বলার চর্চা করুন।