আম উঠেছে জাম উঠেছে কাঁঠাল পাকা পাকা
কিন্তু কিছুই কেনা যাচ্ছে না পকেটে নেই টাকা।
—নির্মলেন্দু গুণ
ফাঁকা পকেট কিংবা টানাপোড়েনের জীবন যাঁদের, তাঁরাই শুধু এই যন্ত্রণা বুঝতে পারেন। আম-জাম-কাঁঠাল কেনার প্রসঙ্গটি এখানে হয়তো নেহাতই রূপক। কিন্তু এই বিত্তহীনতার মধ্যে লুকিয়ে আছে আরও গভীরতর কিছু। সুখী-সুন্দর জীবনযাপনের জন্য চাই অর্থ। সত্যিই কি তা–ই? অর্থ বা টাকা কি সুখ নিশ্চিত করতে পারে! তবে যে নজরুল বললেন—‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান!’ হ্যাঁ, এসব তত্ত্বকথা টেনে এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে বিত্তের অপরিহার্যতা অস্বীকার করার উপায় আছে কি? পৃথিবীর গতিপথ বদলে গেছে। দিক পালটে গোটা দুনিয়া ঢুকে পড়েছে এক অদ্ভুত ‘টাকা-সর্বস্ব’ চোরাগলিতে। এই পরম সত্যটা যত দ্রুত স্বীকার করে নেওয়া যায়, তত ভালো। একটু ভালো স্কুল, ভালো চিকিৎসা, অবসরে ঘুরতে যাওয়া, একটুখানি ভালো থাকা—সবকিছুর জন্য চাই টাকা। হৃদয়ঘটিত ব্যাপার-স্যাপার—যেখানে অন্তত অর্থের সংযোগ প্রকটভাবে না থাকারই কথা, সেখানেও দেখুন টাকার কেমন রমরমা। প্রেমের জন্য টাকা লাগে, টাকা লাগে প্রেমের যত্ন নিতেও। ব্যক্তিজীবনের বাইরের বিস্তৃত পৃথিবীর সর্বত্রই বিত্তের নিরিখে ব্যক্তির মূল্যায়ন। কারও বস্তুগত বা অবস্তুগত যেকোনো অর্জন-উপার্জন টাকার অঙ্কে কতটা রূপান্তরিত হলো—তার ওপর নির্ভর করে তার সাফল্য-ব্যর্থতা।
এসব ধারণার সামষ্টিক রূপই হলো ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা’। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যাপারটি বিস্তৃত অর্থে আসলে ‘অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা’কে বোঝায়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির উপার্জিত অর্থ প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পর পর্যাপ্ত পরিমাণ সঞ্চিত থাকা এবং ইচ্ছেমতো তা ব্যয় করা। এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত রয়েছে ‘ব্যক্তিপর্যায়ে অর্থ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়টি। কেননা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে অর্থ সঞ্চয় জরুরি। আর অর্থ সঞ্চয়ের জন্য জরুরি অর্থের যথাযথ ব্যবস্থাপনা বা ব্যয় পরিকল্পনা।
আজ ১ জুলাই, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে এটি পালিত হয়। দিনটি কিন্তু পালন করা যেতে পারে। বৈভবে মোড়া রঙিন জীবনের স্বপ্ন যাঁদের, আজ থেকে তাঁরা সাজাতে পারেন অর্থ সঞ্চয় ও ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা।
ন্যাশনাল টুডে ডটকম অবলম্বনে