বাবার বিরাট দেহটা এক নৌকা রক্তের মধ্যে ভাসছিল

শহীদ বুদ্ধিজীবী মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন শিক্ষাবিদ। অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বাগেরহাটের পিসি কলেজে। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নিজ গ্রামের তরুণদের সংগঠিত করেছিলেন। যুদ্ধ করেছিলেন নিজেও। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে তিনি নিহত হন। আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আমরা তাঁকে স্মরণ করছি শ্রদ্ধার সঙ্গে। স্মৃতিকথাটি লিখেছেন তাঁর মেয়ে রোকেয়া খান

শহীদ বুদ্ধিজীবী মোয়াজ্জেম হোসেন (১৯৩২-১৯৭১)প্রতিকৃতি: মাসুক হেলাল

প্রত্যেক মানুষের জীবনেই নাকি একটা গল্প থাকে। সুখের গল্প, দুঃখের গল্প। বাবার স্মৃতি আমাদের জীবনের একটা গল্প এখন। দুঃখের গল্প। ভাবতে গেলে কান্না পায়, কষ্ট হয়। ভুলে থাকতে চাই। কিন্তু কিছুতেই সম্ভব হয় না।

বাগেরহাটে সরকারি পিসি কলেজের আঙ্গুরলতা ঘেরা স্নিগ্ধ সবুজ বাড়িটায় কী সুখের সংসার ছিল আমাদের। বাবা ছিলেন কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান। বই লেখা আর ছাত্র পড়ানোর ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের সব আবদার মেটাতেন হাসিমুখে। কলেজে ছাত্ররা তাঁকে ভয় পেত, কিন্তু বাড়িতে এলে বন্ধুর মতো গল্প করত, পড়া বুঝে নিত যখন-তখন। বাবা তাঁর ছাত্রছাত্রীদের ভীষণ ভালোবাসতেন, তাদের যেকোনো বিপদে তাই সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়াতেন।

মনে পড়ে উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের সময় খুলনার পাঞ্জাবি জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে কলেজের ছাত্র মিছিলে গুলি চালানোর কথা। ভীতসন্ত্রস্ত ছাত্ররা প্রাণভয়ে আশপাশের সব বাসায় আশ্রয় নিতে ছুটেছিল। অজানা বিপদের আশঙ্কায় যখন সবাই ভয় পাচ্ছিল, তখন শুধু বাবাকেই দেখেছিলাম, নিশ্চিত ভরসায় ওদের ঘরে ডেকে নিয়েছিলেন। নিরাপদ আশ্রয়ে ওদের পরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিনের ঘটনায় দুজন ছাত্র মারা গিয়েছিল। আহত হয়েছিল অনেকে, জেলে ঢোকানো হয়েছিল আরও অনেককে। বাবার তখন হাসপাতাল, জেলখানা—সবখানেই যাওয়া চাই দুবেলা। আর তখন থেকেই পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে তাঁর মনে অশ্রদ্ধা দানা বাঁধতে থাকে। আর এরই জের হিসেবে ২৫ মার্চের দিন থেকেই তাঁর মধ্যে আমূল পরিবর্তন শুরু হয়ে গেল।

শহীদ বুদ্ধিজীবী মোয়াজ্জেম হোসেন
ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎই যেন বদলে গেলেন তিনি। আমাদের জোর করে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। বাবাকে ছেড়ে আমরা কেউ যেতে চাইছিলাম না। কিন্তু উনি নিজের দোনলা বন্দুকটি দেখিয়ে বললেন—আমি ভীরুর মতো মরতে চাই না। দু-চারটা মেরে তবে মরব। তোমরা থাকলে তা পারব না। সবাইকে একসঙ্গে মরতে হবে। বাবার শিকার করার নেশা ছিল। প্রতিবছর তিন-চারবার উনি সুন্দরবনে যেতেন। সাহস যেমন ছিল, হাতের নিশানাও ছিল অব্যর্থ।

আমরা গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ার ১৫ দিন পরেই বাবা গিয়ে হাজির হলেন—সঙ্গে চারটি হিন্দু পরিবারের ৩০–৩৫ জন সদস্য। বাবার কাছ থেকে শুনলাম—বাগেরহাট শহরে পাকিস্তানি আর্মি ঢুকেছে এবং স্থানীয় কিছু লোকের সহায়তায় অবলীলায় লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রথম অবস্থায় ওদের লক্ষ্যে ছিল হিন্দুদের হত্যা করা। শহরে নিরাপত্তার অভাব বলেই বাবা ওদের নিয়ে গ্রামে চলে এসেছেন। বাড়িটা অনেক বড় ছিল। তাই অতগুলো মানুষের কোনো কষ্ট হয়নি।

কিন্তু কিছুদিন না যেতেই সবার দুর্দশা শুরু হয়ে গেল। রাজাকার বাহিনী এবং শান্তি কমিটির লোকজনের সহায়তায় মিলিটারি গ্রামে গ্রামে ঢুকে পড়ল। শুরু হলো লুটপাট, বাড়িঘর জ্বালানো। আমাদের গ্রামটা ছিল কিছুটা দুর্গম এলাকায়। পাকিস্তানি আর্মি সহজে ঢুকতে পারছিল না। কিন্তু রাজাকার এবং শান্তি কমিটির লোকজনের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। সন্ধ্যা হলেই ওরা লুটতরাজ, ঘরবাড়ি জ্বালানো, মেয়েদের ওপর অত্যাচার এবং একটা পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ শুরু করে দিত। অসহায় লোকজন তখন ছুটে এসে বাবার কাছে কেঁদে পড়ত। বাবা তখন একটামাত্র বন্দুক ও গ্রামের কিছু উৎসাহী তরুণকে নিয়ে ছুটতেন তাদের রক্ষা করতে।

কিছুদিনের মধ্যে তিনি ছোটখাটো একটা বাহিনী গড়ে তুললেন। রাত জেগে গ্রামে গ্রামে পাহারা দেওয়া এবং নিরীহ লোকজনের জানমালের রক্ষা করাই ছিল তাদের কাজ। নিজে থাকতেন দলের পুরোভাগে। আর এসব করতে গিয়েই শান্তি কমিটির লিস্টের প্রথমেই তাঁর নাম উঠে যায়। কলেজ থেকে বেতনটাও বন্ধ করে দেওয়া হলো। আর প্রতিদিনই নানা প্রচেষ্টা শুরু হয়ে গেল তাঁর বিরুদ্ধে। আমাদের গ্রামে ওরা কিছুতেই ঢুকতে পারছিল না। একদিন পাকিস্তানি আর্মিরা গানবোট নিয়ে দূর থেকে মর্টার মেশিনগান চালালে আমাদের বাড়ির কিছুটা ক্ষতি হয়। বাবা আমাদের দুটি নৌকা ঠিক করে দিয়েছিলেন। দূরে কোথাও গুলির শব্দ শুনলেই আমরা নৌকায় উঠে বাড়ি ছেড়ে পালাতাম। বাবা তাঁর বন্দুক নিয়ে বাড়িতেই থাকতেন। বলতেন, ছাদের চিলেকোঠায় বসে এই বন্দুক নিয়ে আমি ওদের পঁচিশজনের সঙ্গে লড়তে পারব। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে ওদের অত্যাচার চরম মাত্রায় পৌঁছে গেল। আশপাশের গ্রামের অধিকাংশ, বাড়িঘর ওরা জ্বালিয়ে–পুড়িয়ে শেষ করেছিল। প্রতিদিনই খবর আসত পরিচিত–অপরিচিত নানাজনের মৃত্যু বা ধরে নিয়ে যাওয়ার। শেষ পর্যন্ত বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন, মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং দেবেন গ্রামের তরুণদের। কিন্তু তাদের কোনো অস্ত্র ছিল না। তাই কয়েক শ লোক নিয়ে রওনা হয়ে গেলেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, আমাদের সবাইকে সঙ্গে নেবেন। কিন্তু গ্রামের কিছু লোক এসে বলল, সবাই চলে গেলে আমাদের কোনো ভরসা থাকবে না। তখন বাবা শুধু বড় ভাই এবং অন্য যত যুবক আত্মীয় ছিল, তাদের সঙ্গে নিলেন। আশপাশের গ্রাম থেকে যোগ দিল কয়েক শ।

এক মাসের ট্রেনিং এবং কয়েকটি সীমান্ত যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেড় মাস পর বাবা গ্রামে ফিরলেন। সেদিন ছিল ২১ অক্টোবরের রাত। ১ রমজান। সবাই সাহ্‌রি খেতে উঠেছে। তখন আনন্দ–উল্লাস নিয়ে সবাই গ্রামে প্রবেশ করেছিল। বাদোখালী প্রাইমারি স্কুলে ওরা ক্যাম্প করল। বাবার অনুপস্থিতিতে দেড় মাস আমরা যে দুঃসহ দিন যাপন করছিলাম, তা মুহূর্তে ভুলে গেলাম। বাবা ভাইকে কলকাতায় রেখে আসায় মা কিছুটা অসন্তুষ্ট হলেন। মাত্র ১৭ বছরের ছেলেকে বাবা ওখানে ট্রেনিং নেওয়ার জন্য রেখে এসেছেন স্বেচ্ছায়। মা মন থেকে ব্যাপারটা মেনে নিলেন না। এমনিতেই বাবার এই কাজগুলোতে মা ভীত ছিলেন। কারণ, সাতটা ছেলেমেয়েকে অনিশ্চিত অবস্থায় রেখে যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারটা অবশ্যই বাস্তব বুদ্ধির পরিচয় ছিল না। বড় ভাই এবং আমার সে বছর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা। আর বাকি সব কটা ভাইবোন ছোট। বাবার কোনো ভাই ছিল না যে আমাদের দেখাশোনা করবেন। কিন্তু মায়ের কোনো যুক্তি টিকতে পারেনি বাবার একটু যুক্তির কাছে। ‘ব্যক্তিগত সমস্যার কথা ভাবলে দেশের কাজ কেউ করতে পারবে না। সমস্যা সবার কিছু না কিছু থাকবেই।’ অগত্যা মা চুপচাপ মেনে নিলেন সবকিছু। বাবাকে ওখান থেকে ৯ নম্বর সেক্টরের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার করে পাঠানো হয়েছিল। অনেক দল তাঁর অধীনে। প্রচণ্ড ব্যস্ত তখন বাবা। তবু একটু সময় পেলেই আমাদের নিয়ে বসতেন গল্প করতে। তাঁর ট্রেনিংয়ের গল্প, সীমান্ত এলাকায় কীভাবে যুদ্ধ করেছেন, তার গল্প। কীভাবে দিনের পর দিন না খেয়ে না ঘুমিয়ে হেঁটে ভারতে গিয়েছেন, সেসব অভিজ্ঞতার গল্প। আবার ওখানে গিয়ে বাবা কী বিপুল সমাদর লাভ করেছেন, সে কথাও বলতেন গর্বের সঙ্গে। বাবার অনেক ছাত্র ছিল ওখানে। তা ছাড়া অর্থনীতির ওপর তাঁর লেখা বাংলা ও ইংরেজি বইগুলো তখন দুই বাংলাতেই বেশ জনপ্রিয় ছিল। ওখান থেকে কেউ তাঁকে ছাড়তে চায়নি! সবাই নাকি বলেছিল, দেশে গেলে আপনি বাঁচতে পারবেন না। কিন্তু জীবনের মায়া বোধ হয় তাঁর ছিল না। গ্রামের লোকজনের মায়া, দেশের মায়া আর স্ত্রী-সন্তানদের মায়া তাঁকে টেনে এনেছিল স্বগ্রামে। কিন্তু সাতটা দিনও গেল না—সব মায়ার বন্ধন থেকে মুক্তি দেওয়া হলো তাঁকে চিরদিনের মতো। ভয়াবহ সেই রাতটা ছিল ২৮ অক্টোবর, ১০ কার্তিক।

সেদিন সকালে যখন বাবা আমাদের সামনে দিয়ে বের হলেন, তখন একবারও মনে হয়নি এটাই শেষযাত্রা! এক কাঁধে স্টেনগান, আরেক কাঁধে তাঁর অতি প্রিয় দোনলা বন্দুকটা ঝুলিয়ে বীরের মতোই বের হয়েছিলেন তিনি। রোজকার মতোই ছোট ভাই জাকিরকে কোলে নিয়ে আদর করলেন, তারপর তাড়াতাড়ি ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৌকায় উঠলেন। তখন বর্ষাকাল ছিল বলে নৌকাতেই যাওয়া-আসা করতেন বাবা।

সারাটা দিনই সেদিন খুব অস্থিরতার মধ্যে ছিলাম আমরা। বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট যুদ্ধ চলছিল। চারদিক থেকে শুধু গোলাগুলির আওয়াজ আসছিল। সারা দিন বাবার কোনো খবর পেলাম না। রাত ১০টার দিকে একজন ক্যাম্প থেকে এসে খবর দিল, স্যার আজকে খুব ব্যস্ত, তিন-চারটে জায়গায় ফাইট চলছে, উনি ওয়্যারলেসে খবর নিচ্ছেন। ফিরতে রাত হবে। অগত্যা আমরা সবাই খেয়ে ঘুমাতে গেলাম।

ঘুমের মধ্যেই শুনলাম প্রচণ্ড গুলির একটা বিকট আওয়াজ। মনে হলো বাড়ির ছাদটাই বুঝি মাথার ওপর ভেঙে পড়েছে। সবাই জেগে উঠলাম। আর কোনো শব্দ নেই। সবাই ভাবলাম, এত দিনের ভয়টা বুঝি সত্যি হয়েছে। মিলিটারি আক্রমণ করেছে আমাদের বাড়ি। বাড়িটা উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। বড় বড় গাছপালার অন্ধকার চারদিকে। আর কোনো শব্দ নেই। আমরা বাবার জন্য প্রতীক্ষা করে আছি। বাবা এলে আমরা বাইরে বের হব। কিন্তু প্রতীক্ষার প্রহর দীর্ঘতর হতে হতে দূরে নদীর ঘাট থেকে একটা আহত আর্তনাদ ভেসে এল। জানালায় কান পেতে শুনলাম। ভীষণ চেনা মনে হলো স্বরটা! রাত তখন তিনটা। মা আমাদের একা বাইরে যেতে নিষেধ করলেন। আমরা তখনো অপেক্ষা করছি—বাবা এলে গিয়ে দেখব, কে অমন করে আর্তনাদ করছে। কতক্ষণ কেটেছিল জানি না। হঠাৎ চিৎকার, কান্নাকাটির শব্দ! তারপর সেই চরম দুঃসংবাদ। পাগলের মতো ছুটে গেলাম সবাই নদীর ঘাটে। এক নৌকা রক্তের মধ্যে ভাসছে আমার বাবার সেই বিরাট দেহটা। দুচোখ ভরে দেখলাম। তারপর অনেকক্ষণ সব ভাইবোন (বড় ভাই বাদে, ও ভারতে ছিল তখন) চিৎকার করে ডাকলাম। অভিমানী বাবা আর সাড়া দিলেন না। অনেকক্ষণ ডেকে ডেকে ক্লান্ত বুঝিবা!

বাবা ক্যাম্প থেকে ফিরছিলেন নৌকায় করে। বাবাকে সব সময় পাহারাদার সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাখতেন না। নিজের শক্তির ওপর তাঁর প্রচণ্ড বিশ্বাস ছিল। শত্রুরাও জানত, সামনাসামনি ওরা বাবার সঙ্গে পারবে না। তাই চোরের মতো রাতের আঁধারে লুকিয়ে থেকে পেছন থেকে গুলি করেছিল।

উনি যখন বাড়ির ঘাটে এসে নৌকা থেকে নামছিলেন, তখন নদীর অপর পাড় থেকে গুলি ছুড়েছিল ছদ্মবেশী দুর্বৃত্তরা। বাবার কোনো সুযোগই ছিল না ওদের মুখোমুখি হওয়ার। গুলি পিঠে ও পেটে লেগেছিল। হাতে ধরা টর্চলাইটটাও রক্ষা পেল না। নৌকার মধ্যেই পড়ে গিয়েছিলেন। তারপর অনেকক্ষণ হয়তো ডেকেছিলেন আমাদের। কী জানি, শেষ মুহূর্তে কী বলতেন বাবা, তাঁর আদরের সন্তানদের!

কতগুলো বছর কেটে গেল। আর সব শহীদ পরিবারের মতো আমরাও দুঃখকে বুকে চেপে সহজ হয়েছি। শুধু মাকেই পারিনি আর আগের মতো স্বাভাবিক করতে। শহীদের গৌরব নিয়ে বাবা চলে গিয়েছেন আর আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন একটা কঠোর সংগ্রামী জীবন আর একটা ভাঙা টর্চ আর রক্তাক্ত লুঙ্গির স্মৃতির কথা!

লেখক: শহীদ বুদ্ধিজীবী মোয়াজ্জেম হোসেনের মেয়ে

বাংলা একাডেমি প্রকাশিত স্মৃতি: ১৯৭১ বই থেকে নেওয়া (ঈষৎ সংক্ষেপিত)