৩. রুশ সরকারি বৃত্তির জন্য কী কী যোগ্যতা লাগে?

স্নাতক, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে বৃত্তির জন্য যে খুব মেধাবী হতে হয় বা একাডেমিক ফল খুব ভালো হতে হয়, তা কিন্তু নয়। শিক্ষার্থীরা যে যেই বিষয়ের ওপর পড়ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। বিজ্ঞান প্রযুক্তি থেকে শুরু করে কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা, সাংবাদিকতাসহ নানা বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলার অর্জন, বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বৃত্তির বাছাইয়ে ভূমিকা রাখে। গত বছর রাশিয়ার মস্কো ইনস্টিটিউট অব ফিজিকস অ্যান্ড টেকনোলজিতে পড়তে যান হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, ‘আমার মেশিন লার্নিং, ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং ইত্যাদি নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার আগ্রহ ছিল। তাই স্নাতকের চতুর্থ বর্ষে পড়ার সময় রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজতে থাকি। ওপেন ডোরস অলিম্পিয়াডে বিষয়ভিত্তিক আয়োজনে অংশ নিয়ে আমি বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হই। ওপেন ডোরস অলিম্পিয়াডে সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। যাঁরা বিজয়ী হন, তাঁদের বৃত্তি দেয় রুশ সরকার।’

৪. আর কী কী বৃত্তি আছে?

অনলাইনে ওপেন ডোরস অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশেষ বৃত্তি পেয়ে থাকেন। এই বৃত্তি মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়। রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা আলাদা বৃত্তি আছে। সেসবের মাধ্যমেও প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিস্তারিত: https://od.globaluni.ru

৫. রাশিয়াতে পড়তে হলে রুশ ভাষা কি শিখতেই হবে?

রুশ ভাষা জানলে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ বিষয়ে পড়ার সুযোগ থাকে। তবে ইংরেজি ভাষায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম চালু আছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ভাষায় কোর্স ও পাঠ্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হুমায়ূন কবীর মস্কো ইনস্টিটিউট অব ফিজিকস অ্যান্ড টেকনোলজিতে ইংরেজিতে পড়ছেন, আবার একই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শ্রেণিতে আল হাসিব সিফাত পড়ছেন রুশ ভাষায়। শিক্ষার্থীদের নিজের পছন্দের ভাষায় কোর্স বাছাই করার সুযোগ আছে।

৬. রাশিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় কেমন?

স্কল্কোভো ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির পিএইচডি গবেষক মাহবুবুর রহমান রাশিয়ায় থেকেই স্নাতক ও মাস্টার্স শেষ করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। মাসে ১৫০-২৫০ ডলার (প্রায় ১৪-২৪ হাজার টাকা)। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হুমায়ূন কবীরের অভিমত, এখানে শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। জীবনধারণের খরচ বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যেই আছে। তবে কিছু কিছু অঞ্চলে বাংলাদেশের তুলনায় ঠান্ডা অনেক বেশি। মাইনাস ১৫-২০ ডিগ্রি সেখানে স্বাভাবিক ব্যাপার।

৭. বৃত্তি ছাড়া পড়তে চাইলে খরচ কেমন?

নিজস্ব তহবিলে পড়ার সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। স্নাতকের ক্ষেত্রে বছরে দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হবে। ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি আলাদা, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখে নেওয়া ভালো। রাশিয়ায় গবেষণারত মাহবুবুর রহমান বলেন, রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ এলাকাভেদে একেক রকম।মাস্টার্সে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকার মতো খরচ পড়ে। এ ছাড়া পিএইচডি করতে খরচ হবে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা।

৮. ঘরে বসে কীভাবে রুশ ভাষা শিখতে পারি?

ঘরে বসে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রুশ ভাষা শেখার সুযোগ আছে। মস্কো ইনস্টিটিউট অব ফিজিকস অ্যান্ড টেকনোলজিতে স্নাতকে প্রথম বর্ষে পড়ছেন আল হাসিব সিফাত। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকাতে রুশ ভাষা শেখার ওপর বিভিন্ন কোর্স চালু আছে। আমি রাশিয়াতে আসার আগে সেখানে রুশ ভাষা শেখার জন্য ভর্তি হই এবং রুশ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারি। এখন আমি রুশ ভাষাতেই পড়ছি।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটেও রুশ ভাষা শেখার সুযোগ আছে।

৯. পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ আছে কি?

বৈধভাবে শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ রাশিয়াতে নেই। পিএইচডি গবেষক মাহবুবুর রহমান বলেন, আইনত শিক্ষার্থীদের রাশিয়াতে কাজের কোনো সুযোগ নেই। ছাত্রছাত্রীদের এ জন্যই বৃত্তি দেওয়া হয়, যেন তাঁরা পড়ালেখা ও গবেষণায় মন দিতে পারেন।

১০. রাশিয়ায় পড়ালেখা করে সে দেশে চাকরির সুযোগ কেমন?

রাশিয়াতে পড়ালেখা শেষ করে কাজের অনেক সুযোগ আছে। বিশেষ করে যাঁরা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে পড়ছেন, তাঁদের সুযোগ বেশি। রাশিয়ায় বসবাসরত পিএইচডি গবেষক মাহবুবুর রহমান বলেন, এখানে ব্যাংকিং ও ব্যবসাক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ বাড়ছে। যেহেতু রাশিয়ার ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে, তাই আন্তর্জাতিক পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। মেধাবীদের জন্য রাশিয়ায় কাজের সুযোগ অনেক বেশি বলে জানান স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, এখানে রেড ডিপ্লোমা ডিগ্রি দেওয়া হয়। এই ডিপ্লোমা অর্জন করলে চাকরির বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন