মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকতেই ওজন কমানোর মিশন শুরু করেন। সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে বাচ্চারা যখন ঘুম থেকে উঠত, তখন সুলতানারও ঘুম ভাঙত। ৮টা থেকে ৯টার দিকে খেয়ে নিতেন সকালের খাবার। তাতে থাকত লাল আটার দুইটা রুটি, একবাটি সবজি আর একটা ডিম। ডিম কখনো সেদ্ধ, কখনো পোচ। এই খাবার একঘেয়ে লাগলে ব্রাউন ব্রেডের সঙ্গে কখনো পিনাট বাটার মেখে খেয়ে নিতেন।

এরপর ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এক কাপ কফি বা চা। রায়হান বলেন, ‘চিনি ছাড়া চা খেতে পারি না। তাই একটু লাল চিনি মিশিয়ে নিতাম।’ বেলা ১১টার দিকে কোনো একটা ফল খেয়েছেন। বেশির ভাগ সময়ই ফলটা হতো কলা। দুপুরের দিকে এক কাপ ভাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি। সঙ্গে কখনো মাছ বা মাংস। কোরাল থেকে কাচকি—সব ধরনের মাছই খেয়েছেন। মাংসের মধ্যে শুধু মুরগি। বিকেলে খিদে পেলে কখনো কলা, না হলে একমুঠো বাদাম, কিশমিশ বা খেজুর খেয়ে নিতেন। দুপুরের খাবারের মতো একই ধরনের পদ থাকত রাতের খাবারে। রাতের খাবার সাড়ে সাতটার মধ্যে খেয়ে নিতে চেষ্টা করেছেন। রায়হান বলেন, ‘রাতে আধঘণ্টা ট্রেডমিলে হাঁটতাম। এরপর এক গ্লাস দুধ খেয়ে ঘুমাতে যেতাম। এর বাইরে প্রচুর পানি খেতাম সারা দিন।’

অনেকেই মনে করেন, বাচ্চা যখন বুকের দুধ খায়, তখন মাকেও প্রচুর ভাত খেতে হবে। এই ধারণা একেবারেই ভুল। দুই বাচ্চাকেই বুকের দুধ খাওয়াতেন রায়হান। যেহেতু যমজ, তাই মাঝেমধ্যে ফর্মুলাও দিতে হতো। রায়হান বলেন, ‘ডায়েট মেনে যেসব খাবার খেতাম, সেসবই ছিল পুষ্টিকর। ফলে বাচ্চাদের দুধ পেতে সমস্যা হতো না।’

এই জুনে কাজে যোগ দিয়েছেন রায়হান। বলেন, ‘সবকিছু সামলে ফিট থাকা আসলে খুব কঠিন কিছু নয়। এ জন্য প্রয়োজন একাগ্রতা ও ইচ্ছাশক্তি। যেমন আমি মনে করি, আমার যমজ সন্তান, সারা দিন কাজ করে এসে ওদের সময় দিতে হবে, দেখাশোনা করতে হবে, এটাই আমার স্বাভাবিক কাজ। তখন আর কোনো কিছুই আমার কাছে কঠিন লাগে না।’

ওজন কমানোকে অনেকেই শুধু সৌন্দর্যের বিষয় মনে করেন। কিন্তু শারীরিকভাবে সুস্থ ও মানসিকভাবে ভালো থাকার জন্যও ওজন কমানো জরুরি। ওজন কমে এলে খুব দ্রুত স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করা যায়। একসঙ্গে অনেক কাজ করলেও ক্লান্তি লাগে না।