১২ মাসে ১২ নারীকে স্বীকৃতি দেবে স্টেলার উইমেন

আয়োজনটির নাম স্টেলার উইমেন

সময়ের সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিক কাজে অংশগ্রহণের হার বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন খাতে নারী নেতৃত্ব অভাবনীয় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীর অবদানে গতিশীল ও সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। নিজের পরিবারকে সাহায্য করার পাশাপাশি দেশের বাইরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তৈরিতেও অবদান রাখছেন এই নারীরা। সেসব নারীকে তুলে ধরতে, তাঁদের প্রতিভা এবং সমাজ গঠনমূলক কাজকে স্বীকৃতি দিতে এগিয়ে এসেছে বিটিআই ও ডেইলি স্টারের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘স্টেলার উইমেন’।

কেন এই উদ্যোগ

এই প্রশ্নের উত্তরে বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেডের (বিটিআই) নির্বাহী পরিচালক আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘কেবল ৮ মার্চ নারী দিবসে কয়েকজন নারীর হাতে সম্মাননা তুলে দিয়ে দিবসটা উদ্‌যাপন করার একটা সংস্কৃতি আমাদের রয়েছে। অন্য সময় নারীদের নিয়ে যেন কোনো ভাবনা নেই। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে আমরা ১২টি ক্যাটাগরিতে প্রতি মাসে একজনকে এই পুরস্কার দিয়ে থাকি। ফলে একজন নারী যে কাজই করুক না কেন, তিনি নিজেকে কোনো না কোনো ক্যাটাগরিতে ফেলতে পারবেন। আর এই নারীরা অন্যদের এভাবে সামনে এগিয়ে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারবেন। এ বছর থেকে এই যাত্রা শুরু হলো। সামনে হয়তো আরও নতুন নতুন বৈচিত্র্যময় বিভাগ যুক্ত হবে, পুরস্কারের পরিসর বাড়বে।’

সংস্কৃতিতে পুরস্কার পেয়েছেন রিদি শেখ
ছবি: সংগৃহীত

সমাজ গড়ায় অভূতপূর্ব অবদান রাখা অদম্য, সাহসী নারীদের সম্মাননা দিতে নতুন এ প্ল্যাটফর্মটি তৈরির জন্য যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান বিটিআই এবং জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার।

স্টেলার উইমেনের স্বীকৃতি পাওয়ার চার শর্ত

১. বিটিআই ও ডেইলি স্টারের কর্মীরা এই সম্মাননার আওতাভুক্ত হবে না। আগ্রহী প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং এই ১২ ক্ষেত্রের যেকোনো একটি খাতে কাজ করতে হবে। নিজের ও অন্যের জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব থাকতে হবে।

২. প্রার্থীর সব তথ্য যাচাই–বাছাইয়ের অধিকার ডেইলি স্টারের রয়েছে।

৩. কোনো রেজিস্ট্রেশন ফি নেই।

৪. একবার মনোনয়ন সাবমিট করার পর সেটি সম্পাদনা করার কোনো সুযোগ নেই। তবে একান্ত জরুরি হলে ডেডলাইনের আগে আপনার আবেদন রিসাবমিট করতে পারেন।

ইতিমধ্যে যাঁরা পেলেন এই স্বীকৃতি

বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র থেকে নির্বাচিত ১২টি বিভাগে প্রতি মাসে একজন করে ১২ জন নারীকে ‘স্টেলার উইমেন’ সম্মাননা দেয় এই প্ল্যাটফর্ম। ইতিমধ্যে উন্নয়ন খাত ক্যাটাগরিতে শামসিন আহমেদ, প্রযুক্তিতে তাসফিয়া তাজবিন, শিক্ষা বিভাগে সাদিয়া জাফরিন, স্থাপত্য বিভাগে নাজলী হোসেন, সংস্কৃতিতে রিদি শেখ এবং করপোরেট ক্যাটাগরিতে শামীমা আখতারকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। কৃষি ও খেলাধুলা বিভাগের পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে ২ সেপ্টেম্বর। এই ধারাবাহিকতায় সাংবাদিকতা, সামাজিক উন্নয়ন, সাহিত্য, ব্যবসায় উদ্যোগ/স্টার্টআপ সেক্টরের উদীয়মান নারীদেরও সম্মাননা দেওয়া হবে।

করপোরেট বিভাগে এই পুরস্কার পেয়েছেন শামীমা আখতার
ছবি: সংগৃহীত

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নারী কীভাবে উপকৃত হবেন

যে নারীরা এই স্বীকৃতি পাচ্ছেন, তাঁদেরকে নিয়ে পত্রপত্রিকাসহ সব ধরনের গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। ডেইলি স্টার পত্রিকায় বিজয়ী প্রত্যেককে নিয়ে আলাদা ফিচার করা হয়। এ ছাড়া আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘প্রত্যেক বিজয়ী এক লাখ টাকা পাচ্ছেন। নাগরিক টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিতে পারছেন। তাঁদেরকে নিয়ে ভিডিও তথ্যচিত্র করা হচ্ছে। বিটিআই স্টেলার উইমেনের ফেসবুক পেজ থেকে তাঁদের নিয়ে প্রচারণা চলছে। প্রচার এবং আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি স্টেলার উইমেন বিজয়ীরা পাচ্ছেন একটি কোলাবরেটিভ নেটওয়ার্ক। ফলে কর্মক্ষেত্রের নারীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজের পরিসর আরও এগিয়ে নিতে পারবেন।’

আগ্রহী নারীরা ‘স্টেলার উইমেন’-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://btistellarwomen.thedailystar.net/ এ ভিজিট করে তাঁদের নিজ নিজ ক্যাটাগরিতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। একজন ব্যক্তি একাধিক নারীকে বিভিন্ন বিভাগে মনোনয়ন করতে পারবেন।

দ্য ডেইলি স্টার কর্তৃক নির্ধারিত প্রাথমিক জুরিবোর্ড প্রার্থীদের থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা করেন। সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে বিজয়ী নির্বাচন করে আলাদা একটি এক্সটারনাল জুরিবোর্ড। প্রতি মাসে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বছর শেষে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১২ বিজয়ীকে সম্মাননা ও স্মারক প্রদান করা হবে।