পাঠ্যবই একটি সংবেদনশীল বিষয়। একজন শিক্ষার্থীর ভিত্তি গড়ে তোলে এই পাঠ্যবই। তাই বই হতে হবে সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যবহুল। বাড়তি এমন অনেক বিষয় থাকে, যা পরে উচ্চশিক্ষায় কোনো কাজে আসে না।

আমাদের গতানুগতিক বাংলা বা ইংরেজির ক্ষেত্রে ব্যাকরণ বা গ্রামার শেখার পাশাপাশি ভোকাবুলারি এবং ফ্রি রাইটিংয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করি। এটিই পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে কাজে আসে। বুদ্ধিভিত্তিক প্রশ্ন (আইকিউ) বা অ্যানালিটিকাল থিঙ্কিং যদি প্রাথমিক স্তর থেকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেটি শিক্ষার্থীর চিন্তা ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করবে।

সাধারণ জ্ঞান একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে আমার মনে হয়। তাই একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি পর্যন্ত এটি বাধ্যতামূলকভাবে থাকা উচিত। গণিত ও বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর মধ্যে একধরনের ভীতি কাজ করে। তাই এসব বিষয়ে তত্ত্ব যতটা সম্ভব কম পড়িয়ে বেশি বেশি ছবি বা ডায়াগ্রামের মাধ্যমে বোঝানো উচিত।

গণিতের ক্ষেত্রে যদি মূল ধারার বাইরে গিয়ে কোনো একটি অবস্থা তুলে ধরে প্রশ্ন করা হয়, সেটি সহজ ও মজার হতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে স্কুলপর্যায় থেকেই একটু একটু করে প্রোগ্রামিংয়ের ভাষা শেখানো যেতে পারে। পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশদভাবে থাকা উচিত। পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি বেশি জোর দেওয়া উচিত।