এরই মাঝে চিকিৎসকের সনদ পেয়েছি, বেড়েছে পেশাগত ব্যস্ততা, পোস্টগ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির জন্য সাধনা, থিসিস পেপারের জন্য জীবনপাত! কিন্তু বন্ধ হয়নি প্রথম আলোয় আমার লেখাজোকা। প্রশ্ন উঠতে পারে, আমি কখন লিখি? উত্তরটা হলো, ট্রাফিক জ্যামে গণপরিবহনে বসে মুঠোফোনে লিখি। আর বাকি সময়টা বের করে নিই কাজ সেরে। এ যে আমার ভালোবাসা! ভালোবাসার জন্য আলাদা সময় না থাকলেও সময় বের করে নিতে হয়। গতিতে প্রতিবারই যে সময়কে হারিয়ে দিই, তা তো নয়। ব্যতিক্রম হয়েই যায়। গতির সেই অভাব পূরণ করে ভালোবাসা।

মা আমার লেখার অপেক্ষায় থাকেন। যত্ন করে লেখাগুলো জমিয়েও রাখেন। তবে পরিবারের বাইরের পরিচিত গণ্ডিতে অবশ্য বলে বোঝানো কঠিন যে চিকিৎসক হয়ে প্রথম আলোতে আমার কাজ কী। আমার লেখার সঙ্গে যে মডেলের ছবি প্রকাশিত হলো, তাঁকে আমি কোথায় পেলাম—এমন প্রশ্নও শুনতে হয়েছে। প্রথম আলোতে আমার কাজটা আমার পেশার সঙ্গে মেলে না বলেই হয়তো এমন প্রশ্ন।

‘নকশা’, ‘অধুনা’, ‘স্বপ্ন নিয়ে’, ‘প্র স্বাস্থ্য’, ‘নারীমঞ্চ’—ফিচার পাতায় আমার কাজের গণ্ডিটা একেবারে ছোট নয়। যে ‘গোল্লাছুট’–এ খুদে পাঠক হিসেবে লেখা পাঠাতাম, প্রদায়ক হিসেবে সেই পাতায়ও কাজ করেছি। স্বাস্থ্যবিষয়ক রোজকার কলাম ‘ভালো থাকুন’ এবং অনলাইন ‘সুস্থতা’ বিভাগেও কাজ করেছি।

তবে ক্রীড়াসাংবাদিকতা করা হয়ে ওঠেনি আজও। ফিচার পাতা সাপ্তাহিক, কিন্তু সংবাদ ছাপতে হয় রোজ। সংবাদের গতিশীলতার সঙ্গে পেরে উঠি না। ক্রীড়াবিষয়ক ফিচার পাতাটা আবার চালু হলে হয়তো আরেকটু এগোতে পারতাম স্বপ্নের পথে। তবে স্বপ্ন তো আংশিক হলেও পূরণ হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয়টা পেয়েছি। প্রথম আলো তাই আমার জীবনে এক গর্বের চিহ্ন, এক মায়াময় ভালোবাসা।