default-image

ঐতিহ্যগতভাবে ভেতরে ভুট্টা, কলা প্রভৃতি ভরে বাঁশপাতা, পদ্মপাতা দিয়ে আঠালো চাল মুড়িয়ে বানানো হয় যোংযি। যেটা ভাপে বা সেদ্ধ করে তৈরি করা হয়। পশ্চিমা বিশ্বে এই মিষ্টান্নকে ডাম্পলিং বা আঠালো চালের ডাম্পলিং নামে ডাকা হয়। অঞ্চলভেদে যোংযির আকার-আকৃতিতে ভিন্নতা থাকলেও কোণ আকৃতির যোংযি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।

আবার চালের ভেতর পুর হিসেবে মাংস (হাঁস, মুরগি, ভেড়া প্রভৃতি), ডাল, মাশরুম, বাদাম প্রভৃতি দেওয়ারও চল রয়েছে। একটু ধৈর্য ধরে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে বাড়িতে সহজে এ পিঠা বানানো যায়। ঐতিহ্যবাহী পদটির প্রস্তুত প্রণালি এখানে দেওয়া হলো।  

বিজ্ঞাপন

উপকরণ

default-image

পুর হিসেবে মাশরুমের জন্য
8 টুকরা চীনা শুকনো মাশরুম, ১/২ চা-চামচ লবণ, ১/২ চা-চামচ চিনি

পুর হিসেবে মুগডালের জন্য
৬০০ গ্রাম মুগডাল, ১ টেবিল চামচ লবণ, ২ চা চামচ চিনি, ১ টেবিল চামচ তেল

অন্যান্য উপকরণ
আধা কাটা লবণাক্ত ডিমের কুসুম, আধা কাটা ১০টি কাজুবাদাম, ২০ গ্রাম শুকনো চিংড়ি, ৬০ টুকরা বাঁশপাতা।

আঠালো চালের জন্য
১-২ কেজি আঠালো চাল, ২ চা-চামচ লবণ, ২ চা-চামচ চিনি, ২ চা-চামচ পাতলা সয়া সস, ১ টেবিল চামচ তেল।

প্রণালি

১. মাশরুম ভিজিয়ে রাখুন।
২. আঠালো চাল সারা রাত বা কমপক্ষে চার ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
৩. মুগডাল কমপক্ষে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
৪. কাজুবাদাম ভিজিয়ে নিন।
এবার সবগুলোকে পানি ঝরিয়ে নিন। তারপর চুলায় একটির পাত্রে আঠালো চাল, মুগডাল এবং শুকনো চিংড়ি দিয়ে গন্ধ না ছড়ানো পর্যন্ত নাড়তে থাকুন।
এবার কাজুবাদাম পরিষ্কার করে নিয়ে হালকা টোস্ট করে নিন। পাশাপাশি আধকাটা করে ডিমের কুসুম কেটে নিন।

বিজ্ঞাপন

সমন্বয় (ত্রিভুজ আকৃতির জন্য)

একটি সরু শঙ্কু গঠনের জন্য প্রশস্ত বাঁশের পাতা ব্যবহার করুন। প্রথমে শঙ্কুতে অল্প পরিমাণে আঠালো চাল ভরে নিন। তারপর এক টেবিল চামচ পুর দিয়ে মাঝখানে রাখেন। এবার চাল দিয়ে বাকি জায়গা পূর্ণ করে নিন। পাতার দুদিক ভাঁজ করুন। তারপর আবার পাতার ওপরের অংশটি ভাঁজ করে চাল দিয়ে পুরোপুরি ঢেকে দিন। বাকি পাতাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে দিন। শেষে সুতা দিয়ে ভালোভাবে বেঁধে নিন।

রান্না

একটি পাত্রে যোংযি রাখুন। পানি দিয়ে পাত্রটি পূর্ণ করুন। ওপরে একটি ভারী প্লেট রাখুন। পানি ফোটাতে থাকুন এবং আধা ঘণ্টা ধরে অল্প আঁচে রাখুন। মাঝেমধ্যে জলের স্তর দেখে নিন যাতে যোংযি সর্বদা পানির মধ্যেই থাকে। রান্না শেষে যোংযি তুলে নিন।

পরিবেশন

গরম এবং ঠান্ডা উভয়ই সমান সুস্বাদু। বাদাম বা মুগডালের যোংযি চাইলে মিষ্টি স্বাদের জন্য চিনি বা মধুতে ডুবিয়ে খেতে পারেন।

লেখক: ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অটোমেশন, চাংশা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাংশা, হুনান, চীন।

রসনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন