রান্না একটা শিল্প, এটা ওর মধ্যে ছিল’
—কামরুল হোসাইন চৌধুরী, কিশোয়ারের বাবা

আমার মেয়ের বিয়েতে স্থানীয় নামকরা একজন শেফ এসেছিলেন রান্না করতে। কিন্তু আমি তাঁকে কিছুই করতে দেখলাম না, শুধু ঘুরে ঘুরে রান্না হচ্ছে, এমন খাবার চেখে চেখে দেখেন, একটু মসলা দেন, এই। আসলে রান্না মানে স্বাদ বুঝতে পারা, কতক্ষণ সিদ্ধ হবে আর কতক্ষণ ভাজা হবে—এসব ছোটখাটো বিষয় জানা। এ গুণটা আমার নূপুরের (কিশোয়ারের ডাকনাম) ভেতর আছে। আমার তিন মেয়েই খুব ভালো রান্না করে। তবে নূপুর রান্নার ব্যাপারটা একটু আলাদা ছিল। স্কুলে পড়ার বয়সেই নিজের রান্না নিজে করতে পারত। একটু নিজের মতো করে রান্না করা, কোয়ালিটি খাবার খাওয়া, স্পেশাল কিছু রান্না করে সবাইকে খাওয়ানো, এটা ওর মধ্যে সব সময়ই ছিল।

‘সবাই বলছে আমার মেয়ে বাঙালি খাবার রান্না করছে, এটাই মহা আনন্দের’

—লায়লা চৌধুরী, কিশোয়ারের মা

সন্তান তো সন্তানই। নিজের ছেলেমেয়ের সামান্য একটু সাফল্যেই মায়েরা মহাখুশি হন। সেখানে আমার মেয়ে সবার সামনে আমাদের খাবার রান্না করছে, প্রশংসা পাচ্ছে, এত বড় একটা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে, এটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।

‘আমরা তো বউ বলি না, বলি আমার আরেক মেয়ে’
—হাসিনা নেওয়াজ, কিশোয়ারের শাশুড়ি

মাস্টারশেফ শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর একদিন মধ্যরাতে নূপুর আমাকে ফোন করে বলে, মা আমার তো ভালো লাগছে না। আসলে কিশোয়ার কোনোদিন তার ছেলেমেয়েগুলোকে রেখে একা থাকেনি, এটাই ওকে অনেক বেশি কষ্ট দিচ্ছে। সম্পর্ক কতটা গভীর হলে নিজের একাকিত্বে বউ এত রাতে শাশুড়িকে ফোন করে। বাংলাদেশ থেকে আমাকে অনেকে ফোন করে শুধু বলে, নূপুর তো খুব ভালো করছে। এটা যে কত বড় গর্বের। ওর রান্না সব সময়ই অসাধারণ স্বাদের। রান্না আর সংসার, দুটোই নূপুর খুব সিস্টেমেটিকভাবে সামলাতে জানে; মা হিসেবেও জুড়ি নেই ওর। তাকে আমি নির্দ্বিধায় পারফেকশনিস্ট বলতে পারি।

‘রান্নার মতো সবকিছুতেই সৃজনশীল সে’
—নাশিদ চৌধুরী, কিশোয়ারের বড় বোন
ছোটবেলায় যখন স্কুল বন্ধ থাকত, তখন বাসায় রান্নার আয়োজন করার দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হতো। নানান পদ রান্না করতাম যেমন পারি। নূপুর তখনই খুব মনোযোগ দিয়ে রান্না করত। আমি আর নূপুর বড় ছিলাম। আমাদের ছোট বোন সারাহ তখন অনেক ছোট। এটা একটা খুব ভালো স্মৃতি আমাদের। বড় হওয়ার পরও তিন বোন মিলে যখন রান্না করতাম, তখন একটু কঠিন খাবারের আইটেমগুলো নূপুরই রান্না করত। আবার কখনো আমাদের রান্নাও ওই ফিনিশিং দিত। খুব গুছিয়ে রান্না করত নূপুর। নূপুরের দুলাভাইও ওর খাবারের প্রশংসা করে। আমার চেয়ে বেশি মনে হয় ওর খাবার নিয়ে সেই বলতে পারে। তবে নাচ-গান এবং পারফর্মিং আর্টেও নূপুর খুবই ক্রিয়েটিভ।

‘আমি তো নূপুরের রান্নাগুণে মুগ্ধ আগে থেকেই’
—এহতেশাম নেওয়াজ, কিশোয়ারের স্বামী

ও খুব ভালোবেসে রান্নাটা করে। সে অর্থে আমি রান্নার কিছুই জানি না। আমি নূপুরের রান্নাগুণে মুগ্ধ আগে থেকেই। আগে যখন রান্না করত, তখন এত কিছু ভাবতাম না। কিন্তু এখন মাস্টারশেফে যাওয়ার পর সারাক্ষণ নতুন কী রান্না করে, সেদিকে তাকিয়ে থাকি। আর সেখানে শুধু যে রান্না করা তা তো নয়, অনেক ইস্যু থাকে, সেগুলোও ঠান্ডা মাথায় ট্যাকল করছে—সেটা দেখে আবার নতুন করে মুগ্ধ হচ্ছি।