চকলেট ফুচকা

ফুচকা মানেই মসলাদার সেদ্ধ মটরদানা আর ডিমের পুরে ভরা মুচমুচে মুখরোচক খাবার। সঙ্গে থাকে লাল মরিচ টেলে গুঁড়ো করা ঝাল। এর সঙ্গে তেঁতুল-পানি। মুড়মুড় করে ভাঙো, ঝালে উহ-আহ করো, আর বলো—আরেকটু দাও।
রাজধানীতে এবার এসেছে নতুন ঢঙের ফুচকা, যার মধ্যে চকলেটের স্বাদ।
গোল গোল মুচমুচে পাপড়ির মধ্যে কত কী! একটি প্লেটের চারদিকে ছয়-সাতটি টুকরা সাজানো। মাঝে ছোট এক পাত্রে সস বা অন্য কিছু। দেখতেও প্রায় একই। রং ও স্বাদ ভিন্ন। ডেজার্ট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার এই চকলেট ফুচকা। চকলেটপ্রেমীদের মধ্যে ভালোই সাড়া ফেলেছে। রাজধানীর হাতে গোনা কয়েকটি রেস্তোরাঁয় পাওয়া যাচ্ছে এই ভিন্নধর্মী ফুচকা।
মিরপুরের ‘কফি এক্সপ্রেস’ গত বছরের নভেম্বর থেকে চকলেট ফুচকা বিক্রি শুরু করে। বাঙালির চিরাচরিত ফুচকার আদলে নতুন স্বাদের এই খাবারের ধারণা এল কীভাবে?
‘কফি এক্সপ্রেস’-এর অন্যতম মালিক আল-মামুন তুহিন বলেন, ইন্ডিয়া বা পাকিস্তানে অনেকটা কাছাকাছি এ রকম একটা খাবার পাওয়া যায়। তবে টেস্ট আলাদা। চকলেটপ্রেমীদের নতুন কিছুর স্বাদ দিতেই এই ফুচকা।
কী আছে এতে? তুহিন বলেন, খোলসটি তৈরি করা হয় ওয়াফেল বাটার দিয়ে। সাধারণ ফুচকার মতো এটিও মুচমুচে হয়। ভেতরে ডার্ক চকলেট, পিনাট বাটার, কলা দেওয়া হয়। এখানে টকের বদলে দেওয়া হয় চকলেট সস বা ভ্যানিলা আইসক্রিম। কফি এক্সপ্রেসে এক প্লেট চকলেট ফুচকার দাম পড়বে ২০০ টাকা।
জনপ্রিয়তা নিয়ে চকলেট ফুচকার জন্য একটু ঢুঁ দেওয়া হলো ফেসবুকে। প্রতিক্রিয়া মিশ্র। তবে পছন্দ করার সংখ্যাই বেশি। মাইশা ইসলাম হঠাৎ একদিন ফেসবুকে দেখলেন চকলেট ফুচকার ছবি। চোখ কপালে ওঠার অবস্থা হয় তাঁর। তিনি বলেন, ‘আমি চকলেট ভীষণ পছন্দ করি। কিন্তু চকলেটের যে ফুচকা ভার্সন হতে পারে, কল্পনাও করিনি। ছবি দেখেই খেতে চলে যাই। খারাপ লাগেনি।’
মাইশা ‘দ্য সুইটসিন কফিস’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি খাবারটির স্বাদ আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটাও তাঁদের জানান। বন্ধুদেরকেও দিয়েছেন এই ভিন্ন খাবারটির স্বাদ।
ধানমন্ডির দ্য সুইটসিন কফিস গত বছরের শেষ দিকে এই খাবারটি তৈরি করে। এখানকার ফুচকাটির উপকরণ আবার একটু আলাদা। চকলেট কেক, ডোরিও, নাটেলা ও ক্রিম চিজ দিয়ে তৈরি। ফল হিসেবে আপেলের টুকরা। টকের বদলে আইসক্রিম। এক প্লেট ১৮০ টাকা। রেস্তোরাঁর ম্যানেজার আবদুল করিম বলেন, মালিকদের একজন দেশের বাইরে গিয়ে এ রকম কোনো একটি খাবার খেয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁদের চকলেট ফুচকার প্রচলন। তিনি বলেন, চকলেট যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁরাই মূলত এটি খেতে আসেন।
বাঙালি যেকোনো খাবারকেই নিজের মতো করে খেতে পছন্দ করে। স্ট্রবেরি, কাঁচা কলা ও আপেলকেও ভর্তা বানিয়ে খেয়েছে। চকলেট ফুচকাই বা বাদ যাবে কেন!