দেশের নানা প্রান্তের রন্ধনশিল্পীদের রান্নার প্রতিভার কথা সারা দেশকে জানানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ষষ্ঠবারের মতো সেরা রাঁধুনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আয়োজনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর। প্রথম পর্যায়ে বিভাগীয় অডিশনের মাধ্যমে সারা দেশ থেকে ২৮ জন নির্বাচিত হন।

গ্র্যান্ড অডিশনের পর তাঁদের ১৫ জনকে নিয়ে শুরু হয় মহামঞ্চের লড়াই। এর আগে বিভিন্ন বিষয়ের এক্সপার্টদের নিয়ে প্রতিযোগীদের জন্যে আয়োজন করা হয় গ্রুমিং সেশন। মহামঞ্চে একের পর এক অভিনব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। কখনো ছিলো নিখাদ দেশি রান্নার পরীক্ষা, কখনো বা তৈরি করতে হয়েছে বিদেশি রান্না, ছিল মোগলাই রান্না, ইফতার-সাহ্‌রি তৈরির দক্ষতা যাচাই, রহস্যময় বাক্সের চ্যালেঞ্জ কিংবা চোখ বুজে স্বাদ নিয়ে রেসিপি বোঝার অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নাটকীয়তা তৈরির স্বার্থে এই পর্বগুলোর পরতে পরতে ছিল প্রচুর চমক ও টুইস্ট। আর শুধু তাঁদের রান্নার দক্ষতাই নয়, রেসিপিগুলোর প্রক্রিয়াব্যয় ও মূল্য নির্ধারণে তাঁদের পারদর্শিতাও যাচাই করা হয়েছে। এ রকম নানা কঠিন চ্যালেঞ্জ পার হয়ে নাতাশা, সাদিয়া ও নূপুর সেরা তিনে জায়গা করে নেন। এরপর কক্সবাজারে আরও দুটো প্রফেশনাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের, যাঁর নম্বর নির্ধারণ করে চূড়ান্ত ফলাফল।

গ্র্যান্ড ফিনালেতে ছিল বর্ণাঢ্য সব আয়োজন। শুরুতেই দর্শকদের মুগ্ধ করে সারা বাংলার সেরা স্বাদের ওপর মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা। নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাবের পরিচালনায় ধৃতি নর্তনালয়ের শিল্পীরা পরিবেশন করেন নৃত্য। এরপর উপস্থাপক মারিয়া নূরের আমন্ত্রণে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। তিনি সব প্রতিযোগীকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলার স্বাদ ও খাবারের কথা বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।


স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আয়োজিত গ্র্যান্ড ফিনালে আয়োজনে এসেছিলেন সেরা রাঁধুনীর মহামঞ্চের লড়াইয়ের জন্য নির্বাচিত ১৫ জন ও তাঁদের পরিবার-স্বজনেরা, সেরা রাঁধুনীর বিগত আসরগুলোর শীর্ষ প্রতিযোগীরা, দেশের বরেণ্য রন্ধন বিশেষজ্ঞরা এবং স্কয়ারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

সেরা রাঁধুনী ১৪২৭-এর মহামঞ্চে অংশ নেওয়া বাকি ১২ জনের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক ও চেক তুলে দেন প্রতিযোগিতার তিন সম্মানিত বিচারক এক্সিকিউটিভ শেফ শুভব্রত মৈত্র, রন্ধন বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা, অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা এবং জনাব অঞ্জন চৌধুরী। গ্র্যান্ড ফিনালের বর্ণাঢ্য আয়োজনে আরও ছিল প্রিয় অভিনেত্রী তারিন জাহানের কুইজ শো, অভিনেতা সাজু খাদেমের কৌতুক আয়োজন এবং গানের দল জলের গানের পরিবেশনা।

ফলাফল ঘোষণার নাটকীয় পর্ব শেষে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও স্মারক চেক তুলে দেন প্রতিযোগিতার তিন বিচারক, জনাব অঞ্জন চৌধুরী এবং স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জনাব মো. পারভেজ সাইফুল ইসলাম। বিজয়ী হিসেবে সাদিয়া তাহের পেয়েছেন ১৫ লাখ টাকা, নাদিয়া নাতাশা পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা এবং মরিয়ম হোসেন পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা।

ক্রিয়েটিভ এজেন্সি হিসেবে সেরা রাঁধুনী ১৪২৭-এর পুরো আয়োজনটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে ছিল মিডিয়াকম লিমিটেড। ব্রডকাস্ট পার্টনার মাছরাঙা টেলিভিশনের সঙ্গে সেরা রাঁধুনী ১৪২৭ আয়োজনের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও আছে রাঙামাটি ওয়াটারফ্রন্ট রিসোর্ট, এবিসি রেডিও, দৈনিক কালের কণ্ঠ ও বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডট কম।