আর্লিং হলান্ডের ৬ হাজার ক্যালরির ডায়েট কি স্বাস্থ্যকর, সবার জন্য প্রযোজ্য?

সাধারণত মানুষকে প্রতিদিন দুই হাজার ক্যালরি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। অথচ নরওয়ের ফুটবল তারকা আর্লিং হলান্ড নাকি প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। তাঁর খাবারের তালিকায় অর্গান মিট (কলিজা, গুর্দার মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস) এবং কাঁচা দুধের মতো খাবারও থাকে। বিশ্বজুড়ে হলান্ডের এই ডায়েট নিয়ে আলোচনা চলছে।

এক দিনে ছয় হাজার ক্যালরি অবশ্যই অনেক বেশি, তবে হলান্ডের মত খেলোয়াড়ের জন্য আবার স্বাভাবিক হতে পারে
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

কিন্তু হলান্ডের মতো প্রতিদিন ছয় হাজার ক্যালরির খাবার খাওয়া কি বাস্তবে স্বাস্থ্যকর? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এই ধরনের ডায়েট সবার জন্য নয়।

সাধারণ মানুষ বনাম খেলোয়াড়ের ক্যালরি

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার পার্ডু ইউনিভার্সিটির স্পোর্টস নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ লরেন লিংক বলেন, এক দিনে ছয় হাজার ক্যালরি অবশ্যই অনেক বেশি। তবে খেলাধুলার জগতে এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য দৈনিক যে দুই হাজার ক্যালরি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়, তা সাধারণত উচ্চপর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।

খেলোয়াড়দের জন্য দৈনিক তিন হাজার ক্যালরি তুলনামূলক কম মাত্রা হিসেবেই ধরা হয়। অনেক ক্রীড়াবিদ চার থেকে পাঁচ হাজারের বেশি ক্যালরি খেয়ে থাকেন। এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে তা ছয় থেকে সাত হাজার ক্যালরিও হতে পারে।

বিশেষ করে যাঁরা বেশি শক্তি খরচ করেন (যেমন আক্রমণাত্মক ভাগের খেলোয়াড়, প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সাঁতার কাটা সাঁতারু কিংবা হলান্ডের মতো ম্যাচে অনেক মাইল দৌড়ানো ফুটবলার) তাঁদের বেশি ক্যালরির প্রয়োজন হতে পারে। হ্যাঁ, ছয় হাজার ক্যালরি অনেক বেশি, কিন্তু স্পোর্টস নিউট্রিশনের এটি একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।

চর্বি না বাড়িয়ে পেশি বৃদ্ধি করতে চাইলে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করা যায়
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

নিউইয়র্কের নর্থওয়েল হেলথের ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট জিয়ানকার্লো কারভালহো বলেন, ‘ভালো মানের একজন খেলোয়াড়ের লক্ষ্য যদি হয় শরীরে চর্বি না বাড়িয়ে পেশি বৃদ্ধি, তাহলে প্রতিদিন ছয় হাজার ক্যালরি গ্রহণ করা মোটামুটি স্বাভাবিক।’

উদাহরণ হিসেবে বিখ্যাত সাঁতারু মাইকেল ফেলপসের কথা বললেন কারভালহো। প্রতিযোগিতার সময় ফেলপস প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ক্যালরি পর্যন্ত গ্রহণ করতেন। প্রায় ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতা এবং ২০৭ পাউন্ড ওজনের হলান্ডের শরীরে চর্বির পরিমাণ খুব কম।

হলান্ডের ডায়েট কতটা স্বাস্থ্যকর

হলান্ডের নির্দিষ্ট কিছু খাবার নিয়েও দুই বিশেষজ্ঞ কথা বলেছেন। অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস—যেমন কলিজা, কিডনি ইত্যাদি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। সঠিকভাবে সংগ্রহ ও প্রস্তুত করা হলে এগুলো স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে। তবে কেউ যদি নিয়মিত অর্গান মিট খেতে চান, তাহলে খাবারটি নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন
আধুনিক যুগের ফুটবলাররা যেখানে মেপে মেপে ক্যালরি হিসাব করে দামি সব সাপ্লিমেন্ট খান, হলান্ড সেখানে ভরসা রাখেন আদিম মানবের খাদ্যাভ্যাসে
ছবি: নরওয়েজিয়ান সিফুড কাউন্সিল

তবে কাঁচা দুধের ব্যাপারে স্পোর্টস নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ লরেন লিংকের ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে। কাঁচা দুধ খাওয়া বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও সাধারণ দুধের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য হলো এটি পাস্তুরায়িত করা হয় না।

পাস্তুরায়ন প্রক্রিয়ায় দুধের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করা হয়। হলান্ডের মতো তারকা ক্রীড়াবিদ হয়তো অত্যন্ত ভালো উৎস থেকে খাবার সংগ্রহ করেন। তারপরও কাঁচা দুধে এমন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা পাস্তুরায়নের মাধ্যমে সাধারণত ধ্বংস করা হয়। তাই কাঁচা দুধ নিয়ে ঝুঁকি থেকেই যায়, সেটা হলান্ড খেলেও।

একইভাবে বেশি বেশি লাল মাংস বা প্রোটিনও ভালো নয়। লাল মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিমিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা খেলোয়াড় হলেও। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ব্যাপারেও সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণভাবে শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য দৈনিক প্রায় এক গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র: মেডপেজ টুডে

আরও পড়ুন