বনানীর এ রেস্তোরাঁ যে কারণে আলাদা

ট্রাভেল ইস্টের মাকি রোল
ছবি: প্রথম আলো

মাকি রোল খাওয়ার নিয়মটা আগে বলি। কাঠি কিংবা কাটা চামচ দিয়ে ত্রিভুজাকৃতির বস্তুটি কায়দা করে তুলতে হবে। অল্প করে মাখিয়ে নেবেন ওয়াসাবি আর পিকেল জিঞ্জার (আদার আচারও বলতে পারেন)। তারপর আস্ত কিংবা আধখানা মুখে পুড়ে চোখ বুজে থাকতে হবে ঝাড়া ৩০ সেকেন্ড। উহু, টুপ করে খেয়ে ফেললে হবে না। সময় নিয়ে, রসিয়ে রসিয়ে খেলে তবেই তো জাদুটা টের পাবেন। একটু আঠালো, একটু ঝাঁজ, খানিকটা মিষ্টিভাব—সব মিলিয়ে স্বাদ অতুলনীয়। চিংড়ি, মুরগি, সবজিসহ নানা কিছুর মাকি রোল পাবেন ট্রাভেল ইস্টে। শহরের তরুণতম রেস্তোরাঁটির ঠিকানা বনানীর ১৮ নম্বর সড়ক, বি ব্লক।

ভিয়েতনাম, জাপান, তাইওয়ান, চীন, থাইল্যান্ড—এশিয়ার একেক দেশের খাবারের একেক রকম স্বাদ। কোনোটায় ঝাল বেশি, তো কোনোটায় ঝোল।

ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস
ছবি: প্রথম আলো

আবার বঙ্গদেশীয় স্বাদগ্রন্থিতে কোনো তল্লাটের খাবার খুব নোনতা লাগবে, কোনোটা লাগবে পানসে। তবে এই নানা দেশীয় খাবারগুলোই যদি ‘ফিউশন’ করে পাতে তোলা যায়, তাহলে কিন্তু জমে ভালো। ট্রাভেল ইস্ট সেই ফিউশন নিয়েই হাজির হয়েছে।
মুখে তোলার আগে ফিউশন নিয়ে খানিকটা ‘কনফিউশন’ ছিল। তা ছাড়া খাবারের দামটাও একটু বেশি। কিন্তু খাবার চেখে দেখে মুগ্ধ হতেই হলো।

‘প্যান-এশিয়ান’ খাবারে মেনু সাজিয়েছে ট্রাভেল ইস্ট
ছবি: প্রথম আলো

থাইল্যান্ডের ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, চীনের ক্যান্টোনিজ ফ্রায়েড রাইস, জাপানের নানা স্বাদের সুশি অথবা তাইওয়ানের বিফ নুডলস স্যুপ—এই মহাদেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মজার অনেক খাবারই আমাদের অঞ্চলে এখনো তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। শুধু স্বাদের তারতম্যের কারণে পূর্ব এশিয়ার খাবার দক্ষিণে কিছুটা পিছিয়ে। এসব বিষয় মাথায় রেখে বেশ হিসাব কষেই ফিউশন ‘প্যান-এশিয়ান’ খাবারে মেনু সাজিয়েছে ট্রাভেল ইস্ট।

আরও পড়ুন

ঢাকার অলিগলিতে যেখানে রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের ছড়াছড়ি, সেখানে নিজস্বতা নিয়ে পথচলা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য চ্যালেঞ্জ বটে। তাই কেউ কেউ অন্দরসজ্জা দিয়ে আকৃষ্ট করতে চান, কেউ মেনুতে রাখার চেষ্টা করেন ভিন্ন ধরনের খাবার। ট্রাভেল ইস্ট অবশ্য দুই বিবেচনায়ই আলাদা। অন্দরসজ্জা যেমন নজরকাড়া, তেমনি মেনুতে চোখ বুলিয়ে এবি মায়ো, টাইগার মাকি রোল, সটেড ক্যাংকং, ক্র্যাব রাংগুন—নামগুলোও নিশ্চয়ই আগ্রহ জাগাবে। ফলের রস আর মোহিতর স্বাদ এখন শহরবাসীর মুখে নতুন কিছু নয়। তবে এই রেস্তোরাঁর অরেঞ্জ মিন্ট টুইস্ট, পার্পেল রেইন আর হাউস স্পেশাল জিনজার এলের মতো পানীয়গুলোয় চুমুক দিলেই ভিন্নতা টের পাবেন।

বেন্টো বক্স
ছবি: প্রথম আলো


এবার আসা যাক অন্দরসজ্জায়। আয়তনে ছোট হলেও পুরো রেস্তোরাঁর প্রতিটি কোনা সাজানো হয়েছে ভেবেচিন্তে। এলাম, দেখলাম, খেলাম, ছবি তুললাম—স্রেফ এমনটা নয়। খাবারের আগে ও পরের মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখা, আড্ডা জমানো, কিংবা পরিবার নিয়ে সময়টা উপভোগ করার মতো করেই রেস্তোরাঁটি সাজানো। ভেতরে-বাইরে সবুজের ছড়াছড়ি। আছে একটা পিয়ানোও। পিয়ানো বাজাতে জানেন, এমন কোনো বন্ধুকে নিয়ে ট্রাভেল ইস্টে হাজির হলে নিশ্চয়ই আপনার দারুণ একটা সময় কাটবে। দল বেঁধে আড্ডা দেওয়ার জন্য ট্রাভেল ইস্টে আলাদা জায়গা বরাদ্দ আছে। চাইলে করা যাবে আনুষ্ঠানিক মিটিংও।

রেস্তোরাঁর প্রতিটি কোনা সাজানো হয়েছে ভেবেচিন্তে
ছবি: প্রথম আলো


দামটা একটু বেশি, সে কথা আগেই বলেছি। পেট পুরে খেতে গেলে প্রায় হাজার টাকা খরচ হবে। আবার প্রায় দেড় হাজার টাকার একটা বেন্টো বক্স নিয়ে দু-তিনজন মিলেও খেতে পারেন। পেট না ভরুক, মন তো ভরবেই।