খেজুর

খেজুর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরব দেশের খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। তবে এটি এই বছর সুপারফুড হিসেবে সব দেশেই জনপ্রিয় হবে। মিষ্টান্ন এবং বেকড খাবারে চিনির বদলে খেজুরকে বেছে নেওয়া হবে। অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি রোগের বিরুদ্ধেও দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা এনে দেবে খেজুর। এই খাবারে থাকা খনিজ শরীরের হাড়ক্ষয় এবং রক্তাল্পতার বিরুদ্ধে ইতিবাচক কাজ করে। চিনির বিকল্প হিসেবে কফি, কেকসহ সালাদেও এর ব্যবহার বাড়বে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাবার

নিজের আশপাশে উৎপাদিত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়বে। অর্থাৎ, দেশের ভেতর কিংবা নিজের বাগানের ছোট জায়গায় চাষাবাদ করে জন্মানো তাজা ফল, শাকসবজি উৎপন্ন করা এবং শস্য কেনার ওপর জোর দেওয়া হবে ২০২৩ সালে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্যও এটি ভালো, কৃষকদেরও চাষে উৎসাহিত করে। পরিবেশ এবং মাটির স্বাস্থ্য বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও উৎসাহব্যঞ্জক।

উদ্ভিজ্জ আমিষ

উদ্ভিজ্জ আমিষ আমাদের দৈনন্দিন খাবারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উদ্ভিজ্জ আমিষসমৃদ্ধ খাবার (অবশ্যই উদ্ভিদভিত্তিক) যেমন কিনওয়া, টোফু, সয়া, লেগুম, বাদাম এবং বীজকে মাংসের পরিবর্তে বেছে নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এ ধরনের খাবার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পাশ্চাত্যে বার্গার থেকে মাংস বিদায় করে দিয়েছেন অনেকেই। বেছে নিচ্ছেন উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন আমিষ। অনেক রেস্তোরাঁ এবং ক্যাফেতে মাংসের স্বাদ পাওয়া যাবে, পাশাপাশি এগুলোর উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন বিকল্পও নিয়ে এসেছে তারা।

ফিরবে ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস

দাদা-দাদি এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে গল্প শুনেছি, আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং খাদ্যাভ্যাস ছিল স্বাস্থ্যকর। যুগ পার করে এখন যবের মতো শস্য ফিরে আসছে। উপবাসও যে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, প্রমাণিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলা করতে অনেকেই রান্নায় পুরোনো পদ্ধতি, আয়ুর্বেদ এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসায় ফিরে যাচ্ছে। হলুদ ফিরে পেয়েছে হৃত গৌরব। গবেষণা বলছে, হলুদ অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। গোটা শস্য এবং বাজরা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল, সেগুলোর চাহিদাও আবার বাড়ছে। গোটা শস্য ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগের বেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব খাবারে থাকা আঁশ, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য পাওয়ার হাউস গড়ে তোলে।