টিনজাত খাদ্যসামগ্রী সম্পর্কে এ তথ্যগুলো জানতেন?

টিনজাত খাদ্যদ্রব্য কেনার সময়ই মেয়াদ দেখে নেওয়া উচিত। ওই সময়ের মধ্যে আপনার পণ্যটি ব্যবহার করার সম্ভাবনা না থাকলে কিনবেন না। কোনো কোনো পাত্রের ওপর সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার উল্লেখ থাকে। এমন নির্দেশনা থাকলে মেনে চলতে হবে।

বায়ুরোধী টিনের পাত্রে শুকনা খাবারসহ রান্নায় ব্যবহারের নানা উপকরণ পাওয়া যায়। বাইরের বাতাসের সংস্পর্শ না থাকায় এমন পাত্রে অনেক জীবাণু জন্মাতে পারে না। তাই এভাবে সংরক্ষণ করা খাদ্যদ্রব্য সাধারণত নিরাপদ থাকে। তারপরও পরিবারের সবার সুস্থতা নিশ্চিত করতে টিনজাত খাদ্যসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

নানা ধরনের খাবার টিনজাত করে বিক্রি করা হচ্ছে
ছবি: পেক্সেলস

টিনের গায়ে উল্লেখ করা থাকে মেয়াদ। নির্দিষ্ট সেই সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর ওই টিনের খাদ্যদ্রব্য খেলে কিংবা অন্য কোনো খাবার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। টিনজাত খাদ্যদ্রব্য কেনার সময়ই মেয়াদ দেখে নেওয়া উচিত। ওই সময়ের মধ্যে আপনার পণ্যটি ব্যবহার করার সম্ভাবনা না থাকলে কিনবেন না। কোনো কোনো পাত্রের ওপর সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার উল্লেখ থাকে। এমন নির্দেশনা থাকলে মেনে চলতে হবে। টিনজাত খাদ্যসামগ্রীর নিরাপদ ব্যবহার প্রসঙ্গে নানা পরামর্শ দিলেন রান্নাবিদ সিতারা ফেরদৌস।

ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখুন

আপনার চোখ এড়িয়ে পাত্রে কোনো ছিদ্র হয়ে থাকলে পাত্রে বাতাস ঢুকে যেতে পারে। জীবাণু জন্মে ভেতরের খাবার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই খাদ্যপণ্যটি ব্যবহারের সময় খেয়াল করুন, এর বর্ণ কিংবা ঘ্রাণে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না। পরিবর্তন লক্ষ্য করলে কিংবা ছত্রাকজাতীয় কোনো স্তর দেখলে সেই পাত্রের খাবার ফেলে দিন। ফেলার সময় একটি শক্ত প্যাকেটে ঢুকিয়ে প্যাকেটের মুখ আটকে দেওয়া উচিত।

টিনের পাত্রে সংরক্ষিত মাছের পাত্রের মুখ খোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করে ফেলা ভালো
ছবি: পেক্সেলস

মুখ খোলার পর সংরক্ষণ

• টিনের পাত্রে সংরক্ষিত মাছ, মাংস, ফলমূল, জুস, ডাবের পানি, সফট ক্রিম, হেভি ক্রিম—সবই পাত্রের মুখ খোলার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করে ফেলা ভালো।

• এর বাইরেও অন্যান্য যেসব সামগ্রী একেবারে শুকনা নয়, সেগুলোও পাত্রের মুখ খোলার পরপরই ব্যবহার করে ফেলতে পারলে ভালো। তবে কিছু অংশ রয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই ছোট পিরিচ বা কোস্টার দিয়ে টিনের পাত্রটি ঢেকে ফ্রিজে রেখে দিন কিংবা পাত্রটি একটি জিপলক ব্যাগে ঢুকিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। পরবর্তী এক-দুই দিনের মধ্যেই ব্যবহার করে ফেলতে হবে।

• টিনজাত মাশরুম, সুইট বেবিকর্ন, রাজমা এবং শিমজাতীয় অন্যান্য বীজের ক্ষেত্রে পাত্রের মুখ খোলার পর তা শেষ না হলে ছোট পিরিচ বা কোস্টার দিয়ে ঢেকে ডিপফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। পাত্রটি জিপলক ব্যাগে করে ডিপফ্রিজে রেখে দিলেও সাত দিন পর্যন্ত ব্যবহারের উপযোগী থাকে।

মেয়াদ দেখে টিনজাত খাবার কেনা উচিত
ছবি: পেক্সেলস

শুকনা খাবারের ক্ষেত্রে

শুকনা খাবার যেমন গুঁড়া দুধ, কর্ন ফ্লেকস, ওটস, বিস্কুট, চিপস প্রভৃতির টিনের মুখ খোলা হলেও ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে ভালোভাবে মুখ আটকে রাখতে হবে। তা ছাড়া এগুলো তিন-চার দিনের মধ্যে খাওয়া শেষ হবে না বলে মনে হলে অন্য কোনো ছোট পাত্রে কিছুটা নিয়ে রাখুন। মূল টিনের পাত্রের খাবারটা বারবার বাতাসের সংস্পর্শে না এলেই হলো। অর্থাৎ, তিন-চার দিনের মধ্যে যতটা খাবার প্রয়োজন হতে পারে, বড় পাত্র থেকে তা বের করে অন্য কোনো ছোট পাত্রে নিয়ে রাখুন (যেমন কাচের বয়াম)। যেকোনো পাত্রে শুকনা খাবার রাখা হলে তা সব সময় শুকনা হাতে স্পর্শ করুন অথবা শুকনা চামচ ব্যবহার করুন।