আমি তোর পাগলি

পাঠকের সুখ–দুঃখ, হাসি–আনন্দ, পছন্দ, ভালোলাগা, ভালোবাসাসহ যে কোনো না বলা কথা শুনতে চায় মনের বাক্স। প্রতি সপ্তাহে পাঠকের পাঠানো সেসব লেখা থেকে নির্বাচিত কিছু লেখা আজ প্রকাশিত হলো এখানে

মনের বাক্স

বাবা দ্রুত কথা বলো

তুমি কেন আমার সঙ্গে চার দিন কথা বলো না, কোনো টেক্সট করো না? ফোনটাও বন্ধ থাকে, নিশ্চয় অফিসে কাজের চাপ। তোমার সিগারেট খাওয়াও তাই বেড়েছে নিশ্চয়ই? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে বাবা।

মায়ের সঙ্গে টানা ১২ ঘণ্টাও বিচ্ছিন্ন থাকতে পারি। কিন্তু তোমার সঙ্গে একটা ঘণ্টাও বিচ্ছিন্ন থাকা আমার জন্য খুব কষ্টের। কারণ, আমার প্রতি মুহূর্তে মনে আসা প্রশ্নগুলো কেউ শুনতে চায় না। শুনলেও সেই প্রশ্নের উত্তর তুমি ছাড়া কেউ দিতে পারে না। আমাকে কেউ বোঝাতে পারে না। আজকে আমার তোমাকে খুব মনে পড়ছে। তোমাকে অনেক জরুরি কথা বলা দরকার।

আমি হিসাব করে দেখেছি, তোমাকে মোট পাঁচটা কথা বলা দরকার। খুব দরকার। কিন্তু বিশ্বাস করো বাবা, আমি তোমার কথামতো অস্থির হইনি। আমি আজও ভোরে উঠে রাগ ভৈরব রেওয়াজ করেছি। অনেক মন খারাপ, তা–ও তোমার কথা মেনে একবিন্দুও কাঁদিনি। নিজের কাজ নিজে করতে হবে বলেছ, তাই বিড়ালের মাছ নিজেই কেটেছি, এই প্রথম। মাছে যে কী খারাপ গন্ধ, আজই টের পেলাম।

রবীন্দ্রনাথের সেই নষ্টনীড় প্রায় শেষ করেছি। আজ পাঠ্যবই আর হুমায়ূন আহমেদের বই পড়েছি। গতকাল লেখালেখি করেছি। তোমার সব কথাই মেনে চলেছি। বলো, তা–ও তুমি মেয়ের সঙ্গে কথা বলবে না? এসএমএস করবে না? তোমাকে কিছু কথা বলা খুব দরকার। আমার খুব ভয়ের কথা সেগুলো। মা বুঝবে না। তোমাকেই বলতে হবে। শুধু তুমিই ঠিক করতে পারবে। প্লিজ বাবা, দ্রুত কথা বলো।

মেধা রহমান, সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা

খসে পড়া ডায়েরির পাতা

আকাশের নীলিমা থেকে এক অচেনা উড়ন্ত পাখির ঝরে পড়া রঙিন পালক নিয়ে বড় আশায় বুক বেঁধে আছি। রোজই এক গোছা পালক দিয়ে কল্পনায় আঁকি সেই সুখ পাখিটাকে। কেবল খাঁচায় বন্দী করে অপলক তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। গুনগুন গানের সুর আমার বুকের ভেতরে টোকা দেয়। এ এক অপূর্ব অনুভূতি!

হয়তো পাখিটাকে বন্দী করার মতো দক্ষ শিকারি আমি নই। ধনুক থেকে তির ছোড়ার আগে আমি নিজেই মর্মবিদ্ধ হই। এই দুর্বলতার সুযোগে সে–ও পালিয়ে যায় দূর অরণ্যে। আমিও ছুটি তার পিছু পিছু। হঠাৎ পাথর টিলায় হোঁচট খাই, ফিরি ঘরে। তোমার সঙ্গে না হয় কল্পনায় চিরকাল দুরন্ত মেঘমালার মতো উড়ে বেড়াব।

ইতি

রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা

আমি তোমাকে ভালোবাসি

তোমায় জীবনসঙ্গী করব, সেটা তো অনন্ত দূরের কথা। কারণ, তার জন্য ন্যূনতম যে যোগ্যতাটা থাকা দরকার, তা আমার কোনোকালেই ছিল না। সেই যোগ্যতা যে আর হবেও না, সে বিষয়ে আমি চূড়ান্ত নিশ্চিত। তাই কল্পনাতেও তোমাকে জীবনসঙ্গী করার আশা করি না। তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্যও আমার যোগ্যতা ঠিক ওই রকম। তুমি অনন্য, আমি নগণ্য। তুমি চাঁদ, আমি বরবাদ। তবে হ্যাঁ, হৃদয় দিয়ে তোমাকে ভালোবাসার জন্য সব যোগ্যতাই আমার মধ্যে অসীম সময়ের জন্য বিদ্যমান।

আমি তোমাকে ভালোবাসি, অন্তর থেকে ভালোবাসি। অনন্তকাল ধরে তোমাকে ভালোবাসতে চাই। বিনিময়ে তোমার থেকে আমি কিছুই চাই না, একদম কিছুই না। এমনকি তার জন্য তোমায় আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে হবে, সেটাও না। তুমি না চাইলে তোমাকে কখনো চোখে দেখার আবদারও করব না। শুধু আমাকে তোমায় প্রাণভরে ভালোবাসতে দিয়ো, কোনোরূপ বাধা দিয়ো না। তোমার প্রতি এ আমার আত্মার দাবি।

মুহাম্মাদ সোহাগ, নেত্রকোনা

আমি তোর পাগলি

আজ তোকে নিয়ে লিখতে বসলাম। তুই তো বলেছিলি আমি নাকি ফাঁকিবাজ। না রে, আমি ফাঁকিবাজ হলে কি আর তোকে নিয়ে অধুনাতে লিখি? অনেকটা সময় ধরে তোর আমার পথচলা।

কত দুষ্টুমি, রাগ, অভিমান, হাসি–ঠাট্টা। তুই কোনো দিনই আমাকে কষ্ট দিসনি। কিন্তু প্রতিবার কেন জানি আমি ভুল করে বসি, মাফ করে দিয়েছিস প্রতিবার। তুই একটু অভিমানী, আমাকে নিয়ে অনেক বেশি ভাবনা। আচ্ছা রাফু, তুই সত্যি করে বল তো তোর এই পাগলিটাকে এত আগলে রাখিস কেন? আমি কি এটার যোগ্য? রাফু, তোকে বলেছিলাম সবার সামনেই তোকে বলব কতটা ভালোবাসি। তোকে ভালোবাসার পরিমাণটা ঠিক কত জানি না। তবে তুই একটা দিনের জন্যও যদি কথা বলা বন্ধ করে দিস, অনেক ভয় পেয়ে যাই। তোকে হারাব ভাবলেও ভয় হয়। আসলে সবাই বলে প্রিয় মানুষটাকে ছাড়া বাঁচা মানে তো লাশের মতো বেঁচে থাকা। আমি যদি হারিয়ে যাই, চাইব তুইও আমার সঙ্গেই হারিয়ে যা। আচ্ছা রাফু, আমি তোর কত নাম দিয়েছি হিসাব আছে? তবে পাগল, গুন্ডা, তারকাটা, বোকা—এগুলো বেশি ভালো লাগে। কিন্তু তুই সত্যি করে বল তো, তুই কীভাবে বুঝে যাস যে আমি তোকে কিছু বলছি! আজ লাখ লাখ পাঠকের সামনে লিখছি, তোকে অনেক ভালোবাসি।

রাইবা, ঢাকা