৩০ বছর বয়সের পর সম্পর্কে যে ভুলগুলো করতে নেই

দুজন মিলে সময় কাটানোর জন্যও একটু ‘সময়’ রাখুন
মডেল: তিথি ও টুটুল, ছবি: সুমন ইউসুফ

৩০ বছর পেরিয়ে আসা অনেকেই নিজের জীবনসঙ্গীর সঙ্গে কাটিয়ে ফেলেছেন বেশ কয়েক বছর। আবার অনেকে হয়তো নিকট ভবিষ্যতে শুরু করতে চলেছেন বৈবাহিক জীবন। সম্পর্কের বয়সটা যতই হোক না কেন, আপনার বয়স যদি ত্রিশের বেশি হয়, তাহলে বয়স ও অভিজ্ঞতার কারণে নিশ্চয়ই আপনি সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হয়ে উঠছেন। এ বয়সে আচরণে পরিণত বোধ ও বিচক্ষণতার ছাপ আসাটাই প্রত্যাশিত। তবে আবেগের বশবর্তী হয়ে কিংবা নানামুখী চাপের শিকার হয়ে কিছু ভুল আচরণ করে বসতে পারেন যে কেউ। এমন কিছু ভুলের বিষয়ে জেনে রাখা যাক, যেগুলো থেকে সচেতনভাবে নিজেকে বিরত রাখাটাই একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য।

আলাদাভাবে সময় না কাটানো

এ বয়সে কর্মস্থলে কাজের চাপ বাড়তে পারে। সন্তান কিংবা পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতিও দায়িত্ব বাড়ে। সবদিক সামলাতে গিয়ে দুজনের আলাদাভাবে সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়াটা দুষ্কর হয়ে ওঠে, যা সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দুজন মিলে সময় কাটানোর জন্যও একটু ‘সময়’ রাখুন নিজের জীবনে।

আরও পড়ুন
সঙ্গীর সঙ্গে মন খুলে আলাপ না করুন
প্রতীকী ছবি: প্রথম আলো

মন খুলে আলাপ না করা

এ বয়সে আপনি কম বয়সের উচ্ছ্বাস নিয়ে প্রিয় মানুষটার সঙ্গে কথা বলবেন না, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে নিজের সব কথা নিজের ভেতর চেপে রাখাটাও কিন্তু ঠিক নয়। নিজের আনন্দ ও কষ্টের কথা বলুন নিজের জীবনসঙ্গীকে। নিজের মনের কথা ঠিকভাবে প্রকাশ না করে আবার এমনটাও ভাববেন না যে ‘ও কেন বুঝতে পারছে না যে আমি কষ্টে আছি!’ বরং নিজের কথা বলার পাশাপাশি সঙ্গীর মনের কথাও জানতে চাওয়া উচিত। মন দিয়ে শুনুন তাঁর কথা, তিনি খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে গেলে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন।

বিশ্বাসভঙ্গ

কম বয়সে আবেগের বশবর্তী হয়ে মানুষ অনেক কিছুই করে ফেলে। এ বয়সে এসে অমন ‘ভুল’ করবেন না। নিজের কোনো পুরোনো সম্পর্ক থেকে থাকলে হুট করে পুরোনো সঙ্গীর সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করবেন না। আর জীবনসঙ্গীর কাছে মিথ্যা বলবেন না কখনোই।

আরও পড়ুন
ছোটখাটো বিষয়ে অকারণ অভিমান করবেন না
প্রতীকী ছবিটি তুলেছেন: আশরাফুল আলম

সম্পর্কের খুঁটিনাটি অন্য কাউকে জানানো

প্রতিটি সম্পর্কেই কখনো না কখনো তিক্ততার সৃষ্টি হয়। জীবনসঙ্গীর সঙ্গে কোনো তিক্ততা সৃষ্টি হলে সে কথা কখনোই অন্য কাউকে বলতে নেই। সম্পর্কের অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয়ও কারও সঙ্গে ভাগ করে নেবেন না। সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু প্রকাশ করবেন না, যা সেই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘ব্যক্তিগত’ই রাখুন।

অকারণ অভিমান

ছোটখাটো বিষয়ে অভিমান করবেন না। ধরা যাক, আপনার জীবনসঙ্গী কোনো একটি বিশেষ দিনের কথা ভুলে গেলেন। আপনার কাছে এটা হয়তো খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তারপরও বিষয়টাকে খুব বড় করে দেখা যাবে না। কিংবা ধরুন, আপনি তাঁকে কিছু একটা করতে বলেছিলেন, যা তিনি ভুলে গেছেন। এমন বিষয় নিয়ে রাগারাগি করবেন না। কোনো কারণে তাঁর প্রতি আপনার অভিমান হয়েছে কিংবা আপনার মন খারাপ হয়েছে, তা প্রকাশ করতে কিন্তু ক্ষতি নেই। তবে এসব নিয়ে যাতে অশান্তির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

সূত্র: রিডারস ডাইজেস্ট