অক্ষতা তাঁর বাবার সঙ্গে ঋষিকে পরিচয় করিয়ে দিতে দেরি করেননি। মেয়ের প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করার পর বিলিয়নিয়ার নারায়ণ মূর্তি এক চিঠিতে মেয়েকে লিখেছিলেন, ঋষি বুদ্ধিমান, সুদর্শন আর সৎ। ঋষিকে তিনি পছন্দ করেছেন। তবে মেয়েকে সময় নিতে বলেছিলেন তিনি। মেয়ে ঠিকই সময় নিয়েছিল। আর ঋষিও সেই সময়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলেন।  

অবশ্য অক্ষতাও ঠিক ধনীর ঘরে জন্ম নেননি। তিনি যখন জন্মেছিলেন, তখন সবে ব্যবসা শুরু করেছে তাঁর বাবা। ২০১৩ সালে প্রকাশিত মেয়েকে লেখা এক চিঠিতে নারায়ণ মূর্তি লিখেছিলেন, ১৯৮০ সালের এপ্রিলে হুগলিতে থাকাকালে এক সহকর্মীর কাছ থেকে অক্ষতার জন্মের খবর পেয়েছিলেন তিনি। বাড়িতে একটি টেলিফোন রাখার সামর্থ্যও তখন তাঁর ছিল না। অক্ষতা বড় হন যুক্তরাজ্যে, তাঁর দাদা–দাদির কাছে। সেই সময় ভারতের মুম্বাইয়ে ব্যবসায় সফলতা পেতে লড়াই করছিলেন তাঁর বাবা-মা।

অক্ষতা ও ঋষি দুজনেই ৪২ বছর বয়সী। অক্ষতা ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও ফ্যাশন ডিজাইনার। ‘অক্ষতা ডিজাইনস’ ব্র্যান্ডের মালিক। বাবার কোম্পানি ইনফোসিসের মাত্র ০.৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক তিনি। শতাংশে কম হলে কী হবে, এর আর্থিক মূল্য কিন্তু ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০০৯ সালে দুজনের যখন বিয়ে হয়, তাঁদের বয়স তখন ২৯। দক্ষিণ ভারতের শহর বেঙ্গালুরুর জয়নগরের এক মণ্ডপে ছিমছামভাবে কেবল ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে লীলা প্যালেস হোটেলের বলরুমে ধুমধাম করে হয় সংবর্ধনা।

এই দম্পতির রয়েছে দুই কন্যা। বড় কন্যা কৃষ্ণার বয়স ১১, ছোট কন্যা আনুশার ৯। দুই সন্তান জন্মের সময়ই উপস্থিত ছিলেন ঋষি। স্ত্রী অক্ষতার বিরুদ্ধে যখন কর ফাঁকির অভিযোগ ওঠে, ঋষি তখন অর্থমন্ত্রী। সেই সময় স্ত্রীর পাশে ছিলেন তিনি। আর একাধিক সাক্ষাৎকারে তাঁর এত দূর আসার পেছনে স্ত্রীর প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা স্বীকার করেছিলেন।  

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সেরা ২৫০ ধনী দম্পতির তালিকায় উঠে এসেছে ঋষি সুনাকের নাম। এই দুজনের ঘোষিত ৮১০ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৯ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার সম্পত্তি আছে। এর বেশির ভাগেরই মালিক অক্ষতা।