ব্যক্তিত্বের ধরন আলাদা হলেও কি সম্পর্কে সুখী হওয়া যায়
অনেকে ভাবেন, ব্যক্তিত্বের ধরন এক হলেই বুঝি হয় মনের মিল। আর ব্যক্তিত্বে অমিল থাকলেই বাধে বিপত্তি। তাই তাঁরা এমন মানুষকেই সঙ্গী হিসেবে খোঁজেন, যাঁর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিত্বের মিল আছে। আদতে বিষয়টা কী? মনোবিজ্ঞান কী বলছে? রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক–এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।
যেকোনো সম্পর্কে অত্যন্ত জরুরি দুটি বিষয় হলো—বিশ্বাস ও পারস্পরিক সম্মান। এই দুটির একটিরও যদি অভাব থাকে, খুব সহজেই চিড় ধরে সম্পর্কে। হারিয়ে যায় সুখ। দুজন মানুষের ব্যক্তিত্বের ধরনও সম্পর্কে প্রভাব ফেলে।
সম্পর্কে ব্যক্তিত্বের প্রভাব
ব্যক্তিত্বের নানান বৈশিষ্ট্য। কেউ চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন। কেউ অনর্গল আড্ডা চালিয়ে যান। কেউ একটু অগোছালো। কেউ থাকেন পরিপাটি। কেউ অল্পেই প্রতিক্রিয়া দেখান। কেউ আবার ধৈর্যের সঙ্গে যেকোনো নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।
তবে সুখী সম্পর্কের জন্য দুজনের একই রকম হওয়া জরুরি নয়। একজনের ব্যক্তিত্বে যে বৈশিষ্ট্য নেই, অন্যজনের মধ্যে যদি তা থাকে, তাহলে এ ক্ষেত্রে একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ওঠা যেতে পারে। ধরা যাক, একজন অল্পেই রেগে যান। সে ক্ষেত্রে অপরজন যদি ধৈর্যশীল হন, তাহলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায় সহজে।
দুজনই যদি অল্পে মেজাজ হারান, তাহলে আবার ঝগড়া বেধে যেতে পারে যখন-তখন। তবে ঝগড়া হলেও দুজন মানুষেরই পরে ঠান্ডা মাথায় ভাবার সুযোগ থাকে। নিজেদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে ভেবে নিজেরাই এমন সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমন। মিল বা অমিল যেটাই থাকুক, ক্ষতি নেই। তা ছাড়া মনে রাখা প্রয়োজন, একজন মানুষ কখনোই পুরোপুরিভাবে আরেকজন মানুষের মতো হন না। ব্যক্তিত্বের ধরনে মিল-অমিল যা-ই থাকুক না কেন, সুখী সম্পর্কের জন্য তা কোনো বাধা নয়। সুখের সূত্র আদতে এখানে লুকিয়ে নেই।
মনে রাখুন সুখের কিছু সূত্র
সুখী সম্পর্কের জন্য বিশ্বাস আর পারস্পরিক সম্মান ছাড়াও রয়েছে নানান শর্ত। একে অপরকে যত্ন করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে গড়ে ওঠে আন্তরিকতা।
সঙ্গীর ব্যাপারে ধৈর্যশীল হোন। ছাড় দিন তাঁকে। কখনোই প্রতিশ্রুতি ভাঙবেন না। আর খেয়াল রাখবেন, অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো যেন প্রশান্তিদায়ক হয়।
যেকোনো পরিস্থিতিতে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা আবশ্যক। এক ছাদের নিচেও কিন্তু দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে। এমনটা হতে দেওয়া যাবে না।
মুখের ভাষা, চোখের ভাষা, শরীরের ভাষা—সবকিছুর মাধ্যমেই যোগাযোগ রাখা সম্ভব। লিখতেও পারেন মনের কথা। ছোট্ট একটি চিরকুটেও অনেক বড় সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে।
কোনো প্রয়োজনে শারীরিকভাবে কিছুটা দূরে থাকলেও একে অন্যের মনের কাছাকাছি থাকুন।
গড়ে তুলুন নিজেকে
সম্পর্কে সুখী হতে গিয়ে কেবল সম্পর্কের কথা ভাবলেই চলবে না। ভাবতে হবে নিজেকে নিয়েও। নিজের ভালো দিকগুলোকে সম্পর্কের জন্য ইতিবাচকভাবে কাজে লাগান। নিজের নেতিবাচক দিকগুলোকে শুধরে নেওয়ার চর্চা করুন।
রোজ একটু একটু করে চেষ্টা করুন, যাতে নিজের সেরাটা হয়ে উঠতে পারেন জীবনের সব ক্ষেত্রেই। মনে রাখবেন, সম্পর্কে দুজনের বয়স বাড়ে একসঙ্গে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলাবে বহু কিছু। তবে সম্পর্ক হয়ে উঠতে পারে আগের চেয়েও সুন্দর।
শারীরিক চাহিদা কমতে পারে। কিন্তু মনের চাহিদা থাকবে অটুট। এটাই তো সুখী সম্পর্কের বৈশিষ্ট্য। তাই নিজেকে গড়েপিটে নিন প্রতিনিয়ত। ভালোবাসুন নিজেকে, ভালোবাসুন সঙ্গীকে।