বন্ধুত্ব আজীবন টিকিয়ে রাখার পাঁচ উপায়

জীবনে পরিবারের পরেই বন্ধুত্বের অবস্থান। মাঝেমধ্যে পরিবারকেও ছাপিয়ে যায় বন্ধুত্ব। বন্ধু মানে নিছক আড্ডার সঙ্গী হওয়া নয়, বরং বন্ধুর খুশিতে খুশি হওয়া, বন্ধুর দুঃখের সঙ্গী হওয়া। বন্ধুর বন্ধুর পথে পথচলার চালিকা শক্তি হওয়া। বন্ধুকে সফলতার পথে এগিয়ে দেওয়া। গতকাল আগস্ট মাসের প্রথম রোববার চলে গেল বন্ধু দিবস। তবে সেই দিবসের রেশ এখনো কাটেনি। এমন সময়ে ‘কি ফর সাকসেস’ জানিয়ে দিয়েছে চিরকাল বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার পাঁচ উপায়। চট করে জেনে নেওয়া যাক।

বন্ধু মানে নিছক আড্ডার সঙ্গী হওয়া নয়, বরং বন্ধুর খুশিতে খুশি হওয়া, বন্ধুর দুঃখের সঙ্গী হওয়া
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

১. আপনি একজন ভালো বন্ধু চান? ভালো বন্ধু পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজে ভালো বন্ধু হওয়া। কেবল বন্ধুত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রেই একে অপরের প্রতি সৎ থাকার কোনো বিকল্প নেই। বন্ধুত্বে সততা থাকলে ভুল–বোঝাবুঝির বিশেষ আশঙ্কা থাকে না।


২. বন্ধুত্ব ‘জাজমেন্ট ফ্রি’ রাখুন। আপনি হয়তো আপনার বন্ধুর অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন, কিন্তু তাই বলে যে বাগড়া বসাবেন, বা নিজের সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা (পড়ুন অপচেষ্টা) চালাবেন, এমনটা নয়। বন্ধুর সিদ্ধান্তকে সম্মান করুন। তাঁকে ‘বিচার’ করতে যাবেন না। বন্ধু তো বন্ধুই, তাই না?

৩. বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একজন ভালো শ্রোতা হওয়া। অনেক সময় আপনার বন্ধু আপনার কাছ থেকে অন্য কিছুই চান না। এমনকি আপনার মতামত বা সমর্থনও নয়। কেবল চান তাঁর মনের কথা কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে। আপনি জানেন কি, কেবল মনের কথা ভাগ করে নেওয়ার কেউ নেই বলে অনেক মানুষ মানসিক সমস্যা, বিষণ্নতা ও হতাশায় ভোগেন। একটা সুস্থ সম্পর্ক চালিয়ে নেওয়ার জন্য অপর পক্ষের কথা শোনার কোনো বিকল্প নেই।


৪. আপনি অবশ্যই এমন কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করবেন, যিনি ইতিবাচক চিন্তা আর শক্তিতে ভরপুর। নেতিবাচক মনমানসিকতার মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক চালিয়ে নেওয়া কঠিন। বন্ধু যেমন, তাঁকে সেভাবেই গ্রহণ করুন।

বন্ধু যেমন, তাঁকে সেভাবেই গ্রহণ করুন
ছবি: পেক্সেলস ডটকম

৫. অনেক সময় বন্ধুরা ভিন্ন দেশে, পরিবারের সঙ্গে, পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যক্তিগত জীবনের নানা কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারে। এমনকি নতুন প্রতিষ্ঠানে বা নতুন শহরে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়ে বন্ধুত্বও হয়ে যেতে পারে। তবে পুরোনো বন্ধুর মতো আর কেউ নয়, আর কোনো কিছুই নয়। পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে কোনো কিছুরই তুলনা হয় না। এখন পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ হয়ে গেছে। তাই বন্ধু ব্যস্ত থাকলে তাঁকে সময় নিতে দিন। একটা সময়ে আপনি ছোট্ট একটা বার্তা পাঠিয়ে জানান যে আপনি তাঁকে নিয়ে ভাবছেন।