সম্পর্কে সুখী না হলে মানুষ নিজের অজান্তেই যে ৫টি কাজ করে

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আগে সব সময় বড় কোনো ঝগড়া, বিশ্বাস ভঙ্গ কিংবা নাটকীয় ঘটনা ঘটে না। অনেক সময় সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয় খুব নীরবে, নিজেদের অজান্তে। দুজন ব্যক্তি পাশাপাশি থাকেন, নিয়ম মেনে কথা বলেন, হয়তো ‘ভালোবাসি’ও বলেন—কিন্তু ভেতরে–ভেতরে সবার অগোচরে একজন ধীরে ধীরে সম্পর্কটি থেকে সরে যেতে থাকেন। বাইরে থেকে যার কিছুই বোঝা যায় না। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ ও আবেগ কমে গেলে মানুষের আচরণে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সেসব কী?

একসঙ্গে থাকার চেয়ে একা থাকতেই ভালো লাগে

সম্পর্কে সুখী না হলে সঙ্গীর সঙ্গে থাকার চেয়ে একা থাকা বা অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে
ছবি: পেক্সেলস

হঠাৎ কাজ বেড়ে যায়। সঙ্গী ঘরে এলে নানা ধরনের ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় জড়িয়ে পড়েন। একা থাকা বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর অজুহাত তৈরি হয়। কিংবা অবসর পেলেই ফোনে ডুবে থাকতে শুরু করেন কেউ। সঙ্গীর সঙ্গে থাকার চেয়ে একা থাকা বা অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানো বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে।

ছোটখাটো বিষয় আর ভাগ করে নিতে ইচ্ছা করে না

একসময় দিনের ছোট্ট ঘটনাও সঙ্গীকে বলা হতো—কে কী বলল, কী দেখে হাসি পেল, অফিসে কী ঘটল বা ঘরের কোনো একটা উটকো ব্যাপার। এখন সেই তাগিদটাই কমে যায়। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তো দূরের কথা, দৈনন্দিন জীবনের ছোট আনন্দ, বিরক্তি কিংবা ভাবনাগুলোও আর ভাগ করে নিতে ইচ্ছা করে না। ‘যতটা সম্ভব কম কথোপকথন’—এই হয়ে ওঠে নীতি। এই নীরবতা অনেক সময় আবেগগত দূরত্বের ইঙ্গিত দেয়।

আরও পড়ুন

সম্পর্কের বাইরের জীবনটাই হয়ে ওঠে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

বন্ধু, শখ, ব্যক্তিগত সময়—এসব সুস্থ সম্পর্কের অংশ। সুখ না থাকলে বাইরের জীবন বা একা জীবনটাই ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে পালানোর জায়গা হয়ে ওঠে। ইচ্ছা করেই এমন পরিকল্পনা করতে শুরু করেন কেউ কেউ, যেখানে সঙ্গীকে ছাড়াই বেশি সময় কাটানো যায়। কারণ, সেই সময়টুকু হয়তো তাঁকে স্বস্তি দেয়।

খ না থাকলে বাইরের জীবন বা একা জীবনটাই ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে পালানোর জায়গা হয়ে ওঠে
ছবি: পেক্সেলস

যেসব বিষয় একসময় কষ্ট দিত, সেসব নিয়েও আর কথা না বলা

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর একটি। আগে কোনো আচরণে কষ্ট পেলে কথা বলতেন, বোঝানোর চেষ্টা করতেন, তর্কও করতেন। এখন শুধু বলেন, ‘ঠিক আছে’, ‘যা ইচ্ছা করো’। বাইরে থেকে মনে হতে পারে, ঝামেলা কমেছে। অথচ ভেতরে হয়তো তৈরি হয়েছে ভীষণ ক্লান্তি। কথা বলে আর কিছু বদলাবে, সেই বিশ্বাসটুকুও নেই।

আরও পড়ুন

একা জীবন কেমন হবে, তা কল্পনা করতে শুরু করা

সম্পর্কে সুখ না থাকলে নিজের মতো করে থাকা, অন্য কোথাও চলে যাওয়া, একা ভ্রমণ করা কিংবা সম্পূর্ণ নতুনভাবে জীবন সাজানোর চিন্তা বারবার মনে আসতে পারে
ছবি: পেক্সেলস

নিজের মতো করে থাকা, অন্য কোথাও চলে যাওয়া, একা ভ্রমণ করা কিংবা সম্পূর্ণ নতুনভাবে জীবন সাজানোর চিন্তা বারবার মনে আসতে পারে। মাঝেমধ্যে এমন কল্পনা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন কল্পনার সেই একাকী জীবনটাই বর্তমান সম্পর্কের চেয়ে বেশি আনন্দের ও স্বস্তির বলে মনে হতে শুরু করে, তখন নিজেকেই প্রশ্ন করার সময় এসেছে—আদতে কী বদলে গেছে?

সূত্র: ব্রাইডস ও কসমোপলিটান

আরও পড়ুন