জেন-জির অনিশ্চিত সম্পর্কের নতুন নাম ‘মেবিলেশনশিপ’ সম্পর্কে কতটা জানেন

কথা হয় নিয়মিত, একে অপরের প্রতি ভালো লাগাও আছে। দিনের নানা ঘটনা ভাগ করে নেওয়া থেকে একসঙ্গে সময় কাটানো—সবই চলছে। তবু সম্পর্কটির পরিচয় কী, তা দুজনের কারও কাছেই স্পষ্ট নয়। সম্পর্কের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু প্রতিশ্রুতির জায়গায় থেকে গেছে ‘হয়তো’ শব্দটি। জেন-জির সম্পর্কবিষয়ক আলোচনায় এমন অভিজ্ঞতাকে বলা হচ্ছে ‘মেবিলেশনশিপ’।

সম্পর্কের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু প্রতিশ্রুতির জায়গায় থেকে গেছে ‘হয়তো’ শব্দটি, সেটাকেই বলা হচ্ছে মেবিলেশনশিপছবি: পেক্সেলস

কাউকে ভালো লাগছে, তাঁর সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগছে, ব্যক্তিগত অনুভূতিও ভাগাভাগি করছেন। কিন্তু সম্পর্কটিকে প্রেমের সম্পর্কে রূপ দেওয়ার বিষয়ে দুজনের নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেই। একজন হয়তো ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখছেন, অন্যজন এখনই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে প্রস্তুত নন। ফলে সম্পর্কটি এগিয়েও যেন থমকে থাকে।

‘মেবিলেশনশিপ’ শব্দটি এসেছে ইংরেজি ‘মেবি’ (হয়তো) ও ‘রিলেশনশিপ’ (সম্পর্ক) থেকে। অর্থাৎ এমন এক সম্পর্ক, যার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। দুজনের মধ্যে আবেগের টান থাকলেও সম্পর্কটি আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে এটি সম্পর্কবিষয়ক আলোচনায় ব্যবহৃত একটি নতুন শব্দ; স্বীকৃত কোনো মনোবৈজ্ঞানিক শ্রেণি বিভাগ নয়।

কীভাবে জড়ান এমন সম্পর্কে

মেবিলেশনশিপে জড়িয়ে পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা পরিবারের প্রত্যাশার কারণে কেউ হয়তো এখনই সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে চান না।

আবার আগের সম্পর্কে কষ্ট পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেও নতুন করে কাউকে বিশ্বাস করতে দ্বিধা তৈরি হতে পারে। ফলে একজনের প্রতি ভালো লাগা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নিতে তাঁরা সময় নেন।

কখনো দুজনের প্রত্যাশাও আলাদা হয়। একজন হয়তো সম্পর্কটিকে নির্দিষ্ট পরিচয় দিতে চান, অন্যজন চান আরও কিছুদিন সময় নিয়ে একে অপরকে বুঝতে। প্রথমজন অপেক্ষা করতে থাকেন, আর দ্বিতীয়জন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় চান। এভাবে সম্পর্কের সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তব রূপ পায় না।

কারা জড়াচ্ছেন এমন সম্পর্কে

শুধু জেন-জিরা মেবিলেশনশিপে জড়াচ্ছে সেটা বলা ভুল হবে
প্রতীকী ছবি: সুমন ইউসুফ

মেবিলেশনশিপকে শুধু জেন-জির অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে তরুণদের মধ্যে সম্পর্কের পরিচয়, প্রতিশ্রুতি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার সঙ্গে এই ধারণার সম্পর্ক আছে।

বিশেষ করে শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যায়ে থাকা তরুণ-তরুণী কিংবা নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করা ব্যক্তিরা জীবনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে পারেন। কাউকে পছন্দ করলেও এ সময়ে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে জড়ানোর মতো প্রস্তুতি তাঁদের না-ও থাকতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সম্পর্কের এমন অভিজ্ঞতা প্রকাশের একটি জায়গা হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন শব্দের মাধ্যমে তরুণেরা নিজেদের সম্পর্কের ধরন ও অনুভূতি ব্যাখ্যা করছেন। তবে মেবিলেশনশিপে থাকা প্রত্যেকেই যে সচেতনভাবে এমন সম্পর্ক বেছে নেন, তা নয়।

কেউ অনিশ্চয়তা মেনে নেন, আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট উত্তর না পেয়েও অপেক্ষা করতে থাকেন। এ ধরনের সম্পর্কে কোন বয়সী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি জড়ান, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

আরও পড়ুন

মেবিলেশনশিপ আর সিচুয়েশনশিপ কি এক

মেবিলেশনশিপে দুজন হয়তো একসঙ্গে থাকার কথা ভাবছেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না
ছবি: আলী সুফিয়ান/পেক্সেলস

কয়েক বছর ধরে অনেকেই ‘সিচুয়েশনশিপ’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তাই অনেকে মনে করছেন, মেবিলেশনশিপ বুঝি সিচুয়েশনশিপেরই আরেক নাম। তবে দুটি ধারণার মধ্যে মিল থাকলেও কিছু পার্থক্য আছে। সিচুয়েশনশিপ বলতে সাধারণত এমন এক অনির্ধারিত সম্পর্ক বোঝায়, যেখানে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সম্পর্কের পরিচয় বা প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে মেবিলেশনশিপে ভবিষ্যতে সম্পর্কটি পূর্ণতা পেতে পারে—এমন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকতে পারে। দুজন হয়তো একসঙ্গে থাকার কথা ভাবছেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। ‘এখন নয়, পরে’ কিংবা ‘আরও কিছুদিন সময় দাও’—এ ধরনের কথার মধ্যেই সম্পর্কটি আটকে থাকে। তবে বাস্তবে দুটি অভিজ্ঞতার সীমারেখা সব সময় স্পষ্ট নয়; একই সম্পর্কে দুটি অবস্থারই বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।

অনিশ্চয়তা কতটা গ্রহণযোগ্য

সম্পর্কের শুরুতে সময় নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। দুজন ব্যক্তির একে অপরকে বোঝার জন্য সময় প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু একজন যখন সম্পর্কটিকে স্থায়ী রূপ দিতে চান, অন্যজন যদি বারবার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেন, তখন মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তির মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আদৌ আছে কি না। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খোলামেলা যোগাযোগ। দুজনের প্রত্যাশা কী, কে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে প্রস্তুত এবং সম্পর্কটি কোন দিকে এগোতে পারে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট আলোচনা প্রয়োজন।

প্রত্যাশা না মিললে সেটিও মেনে নেওয়া জরুরি। কারণ, অনিশ্চয়তাকে সময় দেওয়া আর নিজের অনুভূতি উপেক্ষা করে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করা এক বিষয় নয়।

সূত্র: স্প্রিংগার নেচার

আরও পড়ুন