বাংলাদেশি সাবরিনা ও কমেডিয়ান আঙ্কেল রজারের বিয়েতে সবার এত আগ্রহ ছিল কেন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কমেডিয়ান ও ডিজিটাল ক্রিয়েটর নাইজেল এনজি। অনলাইনে জনপ্রিয় ‘আঙ্কেল রজার’ নামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ২৬ মিলিয়ন ফলোয়ার। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী হিসেবেও নামডাক আছে। তাঁর স্ত্রী সাবরিনা আহমেদ বাংলাদেশি–আরব বংশোদ্ভূত আইনজীবী। বেশ কয়েক বছর আগে দুজনের পরিচয় হয় একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে। তারপর প্রেম এবং ২০২৫ সালে পর্তুগালে বিয়ে করেছেন তাঁরা। সে সময় তাঁদের বিয়ে নিয়ে অনেক দেশের প্রচারমাধ্যমেই খবর প্রকাশিত হয়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ‘ভোগ অস্ট্রেলিয়া’ এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এই জুটির পরিচয় থেকে বিয়ের বিস্তারিত তুলে ধরে। বুঝতেই পারছেন, তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সাধারণ কিছু ছিল না। এখানে রইল নাইজেল–সাবরিনা জুটির বিয়ের ছবি ও নানা তথ্য।

১ / ১৭
নাইজেল এনজির জন্ম মালয়েশিয়ায়। তাঁর পরিবার চীনা বংশোদ্ভূত। এদিকে বাংলাদেশি–আরব বংশোদ্ভূত সাবরিনার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে। সেখানেই একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের আইনি পরামর্শক হিসেবে কাজ করতেন সাবরিনা। আর নাইজেল সেই প্রতিষ্ঠানেই একটি আয়োজনে শো করতে গিয়েছিলেন। সেবারই সাবরিনা প্রথম দেখেন নাইজেলকে
ছবি: নিরভ প্যাটেল
২ / ১৭
শোটি সাবরিনার বিশেষ পছন্দ হলেও সেখানে দুজনের মধ্যে বিশেষ কোনো পরিচয় গড়ে ওঠেনি। বরং সঙ্গী খুঁজতে পরে যখন সাবরিনা একটি ডেটিং অ্যাপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন প্রথম দিকেই যে প্রোফাইলগুলো তাঁর সামনে আসে, তার একটি ছিল নাইজেলের। এভাবেই দুজনের মধ্যে প্রাথমিক যোগাযোগ হয়। নাইজেল বলেন, ‘সাবরিনার যে বিষয়টি আমি প্রথমে খেয়াল করেছিলাম, তা হলো সে বেশ মার্জিত ও সুন্দর। এরপর দ্রুতই মনে হয়েছিল, আমাদের দুজনের ভালোই মিল হবে।’
ছবি: নিরভ প্যাটেল
৩ / ১৭
কথা শুরু হওয়ার পরই একদিন নাইজেল সাবরিনাকে বোস্টনে দেখা করার প্রস্তাব দেন। সাবরিনা বলেন, ‘অল্প কিছুদিন আমাদের কথা হয়েছে তখন। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ছেলের সঙ্গে দেখা করতে আরেকটি রাজ্যে যেতাম না। তবে এক সহকর্মী হঠাৎ বলে ফেলেছিল, “আমার মনে হয়, এই লোক তোমার স্বামী হতে পারে।” কেন জানি না, কথাটা আমি পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারিনি।’
ছবি: নিরভ প্যাটেল
৪ / ১৭
২০২২ সালের ১১ নভেম্বর বোস্টন বিমানবন্দরের টার্মিনাল থ্রিতে দুজনের প্রথম সমনাসামনি দেখা হয়। তাঁরা একই সময়ে দুটি ভিন্ন ফ্লাইটে সেখানে এসে নেমেছিলেন। এই এক সপ্তাহের কাছে আসাটাই দুজনকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। সাবরিনার স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও বুদ্ধি দেখে মুগ্ধ হন নাইজেল। এদিকে নাইজেলের পরিবারের প্রতি যত্নের দিকটি বিশেষভাবে মনে গেঁথে যায় সাবরিনার
ছবি: নিরভ প্যাটেল
৫ / ১৭
২০২৩ সালের মার্চ নাগাদ তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, জীবনসঙ্গী হিসেবে এর চেয়ে ভালো কিছু হয় না। আর তারপরই তাঁরা লন্ডনে থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। সেখানেই বাগ্‌দানের জন্য পছন্দসই সোনার আংটি খুঁজতে থাকেন
ছবি: নিরভ প্যাটেল
৬ / ১৭
২০২৪ সালে শো উপলক্ষে নাইজেল তখন জাপানে। ১১ এপ্রিল টোকিওর ইনোকাশিরা পার্কে সাবরিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি, বেশ নাটকীয় ঢঙে। সাবরিনা বুদ্ধি করে তাঁর কাছের দুই বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়েছিলেন; বুঝতে পেরেছিলেন, নাইজেল তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারেন। এরপর সুযোগ বুঝে চেরি ফুলে ভরা গাছের নিচে হাঁটু গেড়ে বসে বিয়ের প্রস্তাব দেন নাইজেল। স্বপ্নের মতো সেই প্রস্তাবে সাবরিনাও ‘হ্যাঁ’ বলেন
ছবি: নিরভ প্যাটেল
৭ / ১৭
২০২৫ সালের ১৭ জুলাইয়ের সাপ্তাহিক ছুটিতে বিয়ের আয়োজন করে এই জুটি। পর্তুগালের সিন্ত্রায় আয়োজন করে তিন দিনের অনুষ্ঠানের। গন্তব্য হিসেবে পর্তুগাল বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সাবরিনা বলেন, ‘এখানকার স্থাপত্য ও নকশায় চীনা, ইসলামি ও ভারতীয় প্রভাব খুব সুন্দরভাবে মিশে আছে। বিশেষ করে আইকনিক নীল-সাদা আজুলেজো (চিনামাটির টাইলসবিশেষ) টাইলসে এর ছাপ স্পষ্ট।’
ছবি: নিরভ প্যাটেল
৮ / ১৭
৭০ জন বন্ধুকে নিয়ে যৌথ ব্যাচেলর পার্টির মধ্য দিয়ে বিয়ের আয়োজন শুরু হয় নাইজেল–সাবরিনার। একটা ক্রুজে নানা রকম আয়োজনে ব্যাচেলর পার্টি শেষ হয়। পরদিন শুক্রবার সাবরিনা নিজের বাঙালি শিকড়ের সম্মানে করেন সংগীতানুষ্ঠান। সেখানে ছিল প্যাস্টেল রঙের সাজসজ্জা। মেহেদি পরানোর পাশাপাশি তাঁদের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের নাচের আয়োজনও ছিল
ছবি: নিরভ প্যাটেল
৯ / ১৭
সংগীতের জন্য সাবরিনা সব সময় নরম গোলাপি রঙের ফুলেল নকশার কারুকাজ করা লেহেঙ্গা পরার স্বপ্ন দেখতেন। নাইজেলের এশিয়া সফরের সময় নয়াদিল্লিতে গিয়ে তিনি নাইজেলকে নিয়ে ডলি জে স্টুডিওতে যান। সেখান থেকেই সংগীতের পোশাক সংগ্রহ করেন
ছবি: নিরভ প্যাটেল
১০ / ১৭
এর পরদিন ছিল ঐতিহ্যবাহী চীনা চা অনুষ্ঠান। যেখানে নতুন বর–কনে পরিবারের সম্মানিত ব্যক্তিদের নিজ হাতে চা পরিবেশন করেন। চা অনুষ্ঠানের জন্য সাবরিনা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সংস্কৃতির একটু ভিন্ন ধরনের একটি চিপাও (চীনা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক) খুঁজছিলেন। শেষে সাবরিনার পোশাকটি তৈরি করে ইন্দোনেশীয় ব্র্যান্ড রেনে কুতুর। এই পোশাকের নকশায় এমব্রয়ডারির মাধ্যমে চেরি ফুলের নিচে দুজনের চীনা রাশিচক্রের প্রতীক—ড্রাগন ও ছাগল দেখা যায়। এতে তাঁদের বাগ্‌দানের স্মৃতিই ফুটে ওঠে
ছবি: নিরভ প্যাটেল
১১ / ১৭
চীনা চা অনুষ্ঠানের সময় নাইজেলের মা সাবরিনাকে জেড পাথরের একটি হার উপহার দেন। এই অনুষ্ঠানেই সাবরিনার মা তাঁর প্রয়াত মায়ের (সাবরিনার নানি) সোনার চুড়ি উপহার দেন। এ ছাড়া অনুষঙ্গ হিসেবে এদিন সাবরিনা পরেছিলেন লে সিয়েল ব্র্যান্ডের হেয়ার পিন, টায়রা ও ক্রিস্টালে সাজানো হাতপাখা
ছবি: নিরভ প্যাটেল
১২ / ১৭
চা পরিবেশনের অনুষ্ঠানে বরের পোশাক ছিল কনের চিপাওয়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা একটি কাস্টম ট্যাং জ্যাকেট। ইন্দোনেশিয়ার দর্জি স্যামুয়েল ওয়ং সো এটি উপহার হিসেবে নাইজেলের জন্য তৈরি করে পাঠান
ছবি: নিরভ প্যাটেল
১৩ / ১৭
পশ্চিমা রীতিতে বিয়ে ও সংবর্ধনা পর্বের আয়োজন করেন নাইজেল–সাবরিনা। বিয়ের গাউন বাছাইয়ের সময় তিনি শুধু ভিভিয়েন ওয়েস্টউডের পোশাক পরেন। শুরুতে লন্ডনের ৬ ডেভিস স্ট্রিটের ভিভিয়েন ওয়েস্টউড শোরুমে গিয়ে দেখেন, সেখানে ট্রাংক শো চলছে আর সেদিনই ছিল শেষ দিন। তাই সাবরিনা ওখানে পোশাকের টাকা জমা দেন। এরপর গাউনটি সংগ্রহ করেন লস অ্যাঞ্জেলেসের শোরুমে থেকে
ছবি: নিরভ প্যাটেল
১৪ / ১৭
বিয়ের পোশাকের সঙ্গে সাবরিনা ভিভিয়েন ওয়েস্টউডের তৈরি গ্লাভস ও ভেইল বেছে নেন। মনিকা ভিনাডারর বারোক মুক্তার কানের দুল এবং অ্যাকুয়াজুরার হিল পরেন। বিয়ের দিন ব্ল্যাক-টাই সাজে নাইজেল পরেছিলেন রালফ লরেন পার্পল লেবেলের টাক্সেডো এবং ক্রকেট অ্যান্ড জোন্স ব্র্যান্ডের জুতা
ছবি: নিরভ প্যাটেল
১৫ / ১৭
বিয়ের দিন সন্ধ্যার একটি অনুষ্ঠানে সাবরিনা বেছে নেন তাঁর মায়ের বিয়ের শাড়ি। তাঁর মা–বাবার বিয়ের ছবির স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতেই ১৯৮৭ সালের সেই শাড়ি পরেছিলেন সাবরিনা
ছবি: নিরভ প্যাটেল
১৬ / ১৭
সঙ্গে পরেছিলেন সে সময়ে তাঁর মা বউ হিসেবে যেসব গয়না পরেছিলেন, সেসব। নাইজেলও সাবরিনার বাবার পরা সাদা আফটার-পার্টি শার্টের অনুকরণে অফ-হোয়াইট বেগুনি লেবেল ডিনার জ্যাকেট পরেন। এর সঙ্গে ছিল শাড়ির রং থেকে ধার করা ওয়াইন-রেড রুমাল
ছবি: নিরভ প্যাটেল
১৭ / ১৭
এই অনুষ্ঠানের জন্য প্রত্যেক অতিথির পোশাক তাঁরা নিজেরাই অর্ডার করেছিলেন। মালয়েশিয়ার তিলাকস সিল্ক শাড়ি হাউসের ডিজাইনারের সঙ্গে লেগে থেকে প্রায় সব অতিথির শাড়ি সংগ্রহ করেন তাঁরা। সবার পোশাক নিজেরা সরবরাহ করার কারণ হিসেবে এই জুটি বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে যাতে সবাই একই ছন্দে থাকে, সেই ভাবনা থেকে রংগুলো বেছে নেওয়া।’ অর্থাৎ বিশেষ দিনটিকে স্বপ্নের মতো রাঙিয়ে নিতে চেয়েছিলেন সাবরিনা–নাইজেল
ছবি: নিরভ প্যাটেল
আরও পড়ুন