অনেকে আবার সানিয়া মির্জার দুঃসময়ে পাশে আছে বলেও জানিয়েছে। ব্যক্তিগত এই দুর্যোগে শক্ত থাকার উপদেশ দিতেও ভোলেনি অনেকে। প্রিয় জুটির বিচ্ছেদের আশঙ্কায় ভক্তরা যখন হৃদয় নিংড়ানো দুঃখ আর শোক প্রকাশ করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ঠিক সেই মুহূর্তে ভেসে উঠল একটি বিজ্ঞাপন।

শিগগিরই পাকিস্তানি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম উর্দুফ্লিক্সে ‘দ্য মির্জা মালিক টক শো’ নিয়ে আসছেন এই জুটি। রিয়েলিটি এই শো ইতিমধ্যে দারুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর সেটি একান্ত কাম্য ছিল এই জুটির। দুজনেই খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ‘অবসর পরিকল্পনা’ হিসেবে এই প্রথম কোনো রিয়েলিটি শোয়ের উপস্থাপক হিসেবে দেখা দিচ্ছেন।

এবার দুই দেশের গণমাধ্যমই বিচ্ছেদের গুজবের সূত্র খুঁজতে খুঁজতে নাস্তানাবুদ। তবে কি তাঁরা নিজেরাই ছড়িয়েছেন এই গুজব? মুফতে কোটি কোটি টাকার প্রচারণা! একবার ভাবুন, এই বিচ্ছেদের গুঞ্জনের আগে কে উর্দুফ্লিক্সের নাম শুনেছিল? 'দ্য মীর্জা-মালিক শো' তো দূরের কথা! কেননা, যে ফটোশুট নিয়ে চলছে আলোচনা, সেটি এক বছর দুই মাস পুরোনো। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যার। সেখানে শোয়েবের সঙ্গে আয়েশা ওমর নামে যে পাকিস্তানি অভিনেত্রী, গায়িকা ও স্টাইল আইকন ফ্রেম ভাগ করছেন, তাঁকে নিয়েও চলেছে শেমিং। যদিও শোয়েব আর আয়েশাকে এরপর কোথাও কফি খেতে, বেড়াতে যেতে দেখা যায়নি। ওই ফটোশুটের বাইরে সামাজিক যেগাযোগমাধ্যমে দুজনের একসঙ্গে কোনো ছবিও পাওয়া যায়নি। কেউ কাউকে নিয়ে কোনো পোস্টও করেননি।

তবুও হাওয়ায় হাওয়ায় গুজব ঠিকই প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছিল। আয়েশার কারণেই কি আলাদা হচ্ছেন শোয়েব–সানিয়া? বাধ্য হয়ে সম্প্রতি আয়েশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভক্তের এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘জি না। প্রশ্নই আসে না। শোয়েব তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অনেক খুশি আছে। আমি আর শোয়েব ভালো বন্ধু। আমি শোয়েব আর সানিয়া দুজনকেই খুব সম্মান করি।’

এখন বলা হচ্ছে, বিচ্ছেদের গুজব শোয়েব আর সানিয়া নিজেরাই ছড়িয়েছেন। নতুন শোয়ের প্রচারণার জন্য তাঁরা এ রকম করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব আর বিতর্ক ছড়িয়ে সিনেমার প্রচারণার ধারণা বহু পুরোনো। প্রায়ই বলিউডের সিনেমার নায়ক নায়িকাদের প্রেমের গুজব শোনা যায়। সেগুলো নাকি তাঁরা ইচ্ছে করেই করেন। ‘পাবলিসিটি স্ট্যান্ট’ হিসেবে। ‘ব্যাড নিউজ ইজ গুড নিউজে’র মতো বিনোদন জগতে ‘নেগেটিভ পাবলিসিটি ইজ গুড পাবলিসিটি’—এ কথা কে না জানে! এমনকি এসবের সঙ্গে সম্প্রতি ঢালিউড তারকা পরীমনির স্ট্যাটাসকেও মেলাচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি নেটিজেন। তাঁরা মনে করেন, পরীমনির জীবনঙ্গী রাজ ও আরেক ঢালিউড তারকা মিমকে জড়িয়ে যে স্ট্যাটাস, তা শুধুই ‘দামাল’ সিনেমার প্রচারণার কৌশল।