আপনি কি এ প্লাস ব্যক্তিত্বের অধিকারী? মিলিয়ে নিন বৈশিষ্ট্যগুলো

ভালো মানুষের পরিচয় বড় কাজেই নয়, বরং দৈনন্দিন ছোট ছোট আচরণ, ব্যবহার, কথাবার্তা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার মধ্যেই প্রকাশ পায়। মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় এসব ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যকে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ বলা হয়, যা একজনের প্রকৃত ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।

দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আচরণ, অন্যদের সঙ্গে ব্যবহার, কথা বলার ধরন কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষার মতো বিষয়গুলোই একজনের প্রকৃত ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়
মডেল: আসিফ ও সামিয়া। ছবি: প্রথম আলো

কোনো ব্যক্তির চরিত্র বোঝার জন্য সব সময় বড় বড় কাজের দিকে তাকাতে হয় না। বরং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট আচরণ, অন্যদের সঙ্গে ব্যবহার, কথা বলার ধরন কিংবা প্রতিশ্রুতি রক্ষার মতো বিষয়গুলোই একজনের প্রকৃত ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেয়।

জেন-জির কল্যাণে মনোবিজ্ঞানীরাও এসব ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যকে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ বলে উল্লেখ করেন। একজন ভালো মানুষের চরিত্রের এমনই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ তুলে ধরা হলো।

১. সবার প্রতি সদয়

একজন ব্যক্তির মধ্যে যত মানবিক গুণ থাকতে পারে, তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়া। যাঁরা ওয়েটার, নিম্নপদস্থ কর্মচারী, চালক বা অপরিচিত কাউকে ‘ধন্যবাদ’ বলতে ভোলেন না, তাঁরা সাধারণত মানুষ হিসেবে সদয়।

২. আপনার সাফল্যে সত্যিই আনন্দিত হয়

একজন ভালো মানুষ, ইতিবাচক মানুষ আপনার জীবনে ভালো কিছু ঘটলে আন্তরিকভাবে খুশি হন। তিনি কারও সাফল্যে ঈর্ষা বোধ করেন না। তিনি আপনার ছোট ছোট অর্জনও উদ্‌যাপন করেন। প্রতিযোগিতা করেন না, তুলনা টানেন না বা মুহূর্তটিকে নিজের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন না।

আরও পড়ুন
ভালো মানুষেরা আপনার জীবনে ভালো কিছু ঘটলে আন্তরিকভাবে খুশি হন
ছবি: কবির হোসেন

৩. নিজের ভুল স্বীকার করেন

ভুল স্বীকার করা পরিপক্বতা ও আবেগগত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। ভুল স্বীকার করার মানে এই যে তিনি নিজেকে নিয়ে ‘ইনসিকিউরড’ নন; বরং নিজেকে শুধরে নিতে আগ্রহী।

৪. কথোপকথনে মনোযোগী থাকেন

অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা খুবই ‘আন্ডাররেটেড’ একটি মানবীয় গুণ।

৫. নীরব মুহূর্তকে সম্মান করেন

প্রতিটি নীরবতা কথায় ভরিয়ে তোলার প্রয়োজন হয় না। কথায় বলে, আপনার কথাটি যদি নীরবতার চেয়েও সুন্দর হয়, তাহলেই কেবল বলুন।

আরও পড়ুন
ইতিবাচক মানুষেরা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

৬. প্রকৃতি আর প্রাণের প্রতি প্রেম

অযথা কেউ একটি গাছের পাতা বা ফুল ছিঁড়লেও একজন আবেগগতভাগে শক্তিশালী (ইকিউ বেশি যাঁর) মানুষের মনটা হু হু করে ওঠে। গাছ কাটলে তিনি মনে ব্যথা পান। ভালোবাসেন প্রকৃতি। সব প্রাণীর জন্যই তাঁর অন্তরে সমান অনুভূতি। পারতপক্ষে কোনো ধরনের অপচয় করেন না। সাধারণত এই মানুষেরাই টেকসই জীবনযাপনের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’।

৭. ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করেন

সুস্থ মানসিকতার মানুষ সহজেই ‘না’-কে গ্রহণ করেন। মানুষের ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করেন। পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও মানসিক নিরাপত্তা গড়ে তোলেন।

৮. ছোট্ট ছোট্ট প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেন

যাঁরা ছোট ছোট প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেন, তাঁরা সাধারণত বড় পরিস্থিতিতেও নির্ভরযোগ্য হন। এই ধারাবাহিকতা শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলে।

যাঁরা ছোট ছোট প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন, তাঁরা সাধারণত বড় পরিস্থিতিতেও নির্ভরযোগ্য হন
ছবি: প্রথম আলো

৯. অন্যদের সম্পর্কে ভালো কথা বলেন

যাঁরা সব সময় পরচর্চা বা গসিপ করেন, তাঁরা প্রায়ই চারপাশে নেতিবাচকতা ছড়ান।

১০. আপনাকে দেখে খুশি হন

সত্যিকারের উচ্ছ্বাস সহজে অভিনয় করা যায় না। যাঁরা আপনাকে দেখে আন্তরিকভাবে খুশি হন, তাঁরা আপনাকে মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করান।
ওপরের এই ১০টি সেরা গ্রিন ফ্ল্যাগের অন্তত ৮টি যদি আপনার মধ্যে থেকে থাকে, তাহলে আপনি এ প্লাস ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

সূত্র: ‘দ্য পাওয়ার অব টেন’–এর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

আরও পড়ুন