দীর্ঘ একটা সময় শুধু সিনিয়রদের কাজ দেখেছি

শামস নাফিসা আলী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টা তুলনামূলক নতুন। আন্তবিভাগীয় বিষয় হিসেবে এর গবেষণার ক্ষেত্র অনেক বড়। ব্যক্তিগতভাবে সব সময়ই আমি জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার অনুরাগী। তাই স্নাতক পর্যায়ে প্রথম বর্ষ থেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে বিভাগের বিভিন্ন গবেষণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে চেষ্টা করেছি। একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ল্যাবে শুধু সিনিয়রদের কাজ দেখতাম, শিখতাম, তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করতাম। এই অভিজ্ঞতার আলোকে পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সেলুলোজভিত্তিক বায়োম্যাটেরিয়ালের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাপ্লিকেশনের ওপর একটি নিবন্ধ লিখি। কাজের সময় দেখেছি, বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুব আন্তরিকভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করে। তবে বাইরের দেশে যেসব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয়, দেশে সেগুলো আমরা পাই না। অনেক নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিদেশে পাঠাতে হয়। এতে শুধু গবেষণার গতিই শ্লথ হয়ে যায় না, শিক্ষার্থীরাও সেই অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়।

default-image

দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে বায়োফ্লুইড ডায়নামিকস এবং হিট ট্রান্সফারের ওপর কিছু কোর্সে কম্পিউটার সিমুলেশনভিত্তিক বিশ্লেষণ ও গবেষণা সম্পর্কে জানতে পারি। আমাদের সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন—বৃহস্পতি ও শুক্রবার। তাই প্রত্যেক বুধবার রাতে অল্প অল্প করে এ নিয়ে একটু পড়াশোনা শুরু করি। ফলে সিমুলেশনভিত্তিক কিছু কাজের ভাবনাও মাথায় আসে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ভাবনাটা জানালে তিনিও সহায়তা করেন। টার্ম বিরতি বা মিড ব্রেকের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে কাজ শুরু করি। এই কাজের ভিত্তিতে ২০২০ ও ২০২১ সালে চারটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে পেরেছি। করোনাকালীন স্থবিরতার সময়েও নিজ উদ্যোগে আমরা তিন বন্ধু হৃৎপিণ্ড ও শ্বাসযন্ত্রের শব্দ থেকে রোগ শনাক্তকরণের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিলাম। কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় দুটি ‘নভেল নিউরাল নেটওয়ার্ক মডেল’ বানাতে সক্ষম হই। শিক্ষকদের সহায়তায় এই কাজটিও খুব ভালো জার্নালে স্থান পেয়েছে।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন