ড্যাফোডিলের ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ল্যাপটপ’ প্রকল্প বদলে দিয়েছে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পর্যন্ত তারা প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিয়েছে
ছবি: ড্যাফোডিলের সৌজন্যে

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে একটি করে ল্যাপটপ—শুরুর দিকে এ পরিকল্পনা অবাস্তব শোনাচ্ছিল। কিন্তু প্রায় ১৫ বছর ধরে এই ধারা বজায় রেখেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পর্যন্ত তারা প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিয়েছে, যা তাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে করেছে আরও বেগবান।

২০১০ সালে যখন ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ল্যাপটপ’ কার্যক্রম শুরু হয়, তখন থেকেই এর সঙ্গে যুক্ত আছেন মোহাম্মদ আরিফ শেখ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিভাগের সহকারী পরিচালক। আরিফ জানালেন, ল্যাপটপের বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়া হয় না। ষষ্ঠ সেমিস্টারের শুরুতেই প্রত্যেক নিয়মিত শিক্ষার্থী নিয়মমাফিক একটি করে ল্যাপটপ হাতে পান। আরিফ বলেন, ‘এটা ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সবুর খানের একটা স্বপ্ন ছিল—প্রত্যেক শিক্ষার্থীর একটা নিজস্ব ল্যাপটপ থাকবে। সেই স্বপ্ন পূরণেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কয়েক মাস আগেও সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়েছে। ল্যাপটপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারে, প্রোগ্রামিংয়ের চর্চা করতে পারে। এমনও অনেক শিক্ষার্থী আছে, যারা এই ল্যাপটপ কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করছে, আয় করছে।’

আরও পড়ুন

আরিফ শেখের কথার প্রমাণ মিলল মো. জুবায়ের তালুকদারের কাছে। ড্যাফোডিলের এই শিক্ষার্থী এরই মধ্যে একটি সফটওয়্যারভিত্তিক স্টার্টআপ দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন। মাল্টিপার্ক নামে একটি ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দেন তাঁরা। জুবায়ের বলেন, ‘একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে আমি আমার কাজগুলো বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই এই ল্যাপটপ দিয়ে করতে পারি। শুধু আমি না, আমাদের টিমে ১০ জন কাজ করেন। সবাই ড্যাফোডিলের ছাত্র। কমবেশি সবাই-ই ড্যাফোডিলের ল্যাপটপ ব্যবহার করে কাজ করছেন।’

অনেক শিক্ষার্থীরই এই ল্যাপটপ দিয়ে হয়েছে কোডিংয়ের হাতেখড়ি
ছবি: ড্যাফোডিলের সৌজন্যে

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগে, সপ্তম সেমিস্টারে পড়ছেন অর্পণ আচার্য্য। নিয়মানুযায়ী গত সেমিস্টারেই ডিসিএলের (ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেড) ল্যাপটপ হাতে পেয়েছেন তিনি। অর্পণ বলেন, ‘ল্যাপটপের সুবিধাটার কথা ভেবেই আমি এখানে ভর্তি হয়েছিলাম। এটাই আমার জীবনের প্রথম নিজস্ব ল্যাপটপ। আগে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ল্যাব ঘুরে ঘুরে কম্পিউটারের কাজ করতে হতো। এখন বাসায় বসেই করতে পারছি। কোডিং শিখছি। যেসব জায়গায় আমার ঘাটতি আছে, সেসব ক্ষেত্রে উন্নতির চেষ্টা করছি।’

ড্যাফোডিলের ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ল্যাপটপ’ প্রকল্পটির বড় সুফল টের পাওয়া গিয়েছিল কোভিডকালে। একটা দীর্ঘ সময় ঘরে বসে ক্লাস করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। সে সময় এই ল্যাপটপের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হাজারো শিক্ষার্থী।

ষষ্ঠ সেমিস্টারের শুরুতে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেওয়া হয়
ছবি: ড্যাফোডিলের সৌজন্যে

প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের অনেকে এই ল্যাপটপের সুবাদেই দক্ষতা অর্জন করেছেন, এখন পেশাজীবনে ভালো অবস্থানে আছেন। তাঁদের একজন মোমিনুর ইসলাম। গিগালজি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। মোমিনুর বলেন, ‘ক্যাম্পাস থেকে পাওয়া ল্যাপটপের বদৌলতেই আমার ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজের শুরু। তখন সব সময় জিনিসটা সঙ্গে থাকত। ল্যাপটপ নিয়েই ঘোরাফেরা করতাম। ডিসিএলের ল্যাপটপেই আমার প্রোগ্রামিংয়ের হাতেখড়ি।’

ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান ২০১০ সালে যখন ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ল্যাপটপ’ প্রকল্পের উদ্যোগ নেন, সেই সময় তাঁর ভাবনায় কী ছিল? সবুর খান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, একটি ল্যাপটপ একজন শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছানো মানে শুধু তাঁর হাতে একটি প্রযুক্তি তুলে দেওয়া নয়। বরং স্বপ্নকে বাস্তবের পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। এই ল্যাপটপ হবে কারও জ্ঞান অর্জনের নীরব সঙ্গী, কারও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার প্রথম খসড়া, কারও বৈশ্বিক সংযোগের সূচনাবিন্দু, আবার কারও উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সাহসী শুরু।’

আরও পড়ুন