যুগের পর যুগ পেরিয়েও টিকে আছে এসব প্রাচীন বসতি
হাজার হাজার বছর আগেও দিন শেষে মাথা গোঁজার একটা আশ্রয় খুঁজেছে মানুষ। নিজের এবং পরিবারের থাকার জন্য তৈরি করেছে ঘরবাড়ি। যুগের পর যুগ পেরিয়ে পৃথিবীর বুকে এখনো টিকে রয়েছে এমন কয়েকটি প্রাচীন বসতি। এখানে রইল তেমন তিনটি বসতির খোঁজ। ইন্টারনেট ঘেঁটে লিখেছেন আবৃতি আহমেদ
সবচেয়ে পুরোনো পিরামিড
খ্রিষ্টপূর্ব ২৭ শতকে মিসরের সাক্কারা মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে বিশ্ব ইতিহাসের প্রথম স্থপতি ইমহোটেপ ভাবলেন, মাটির নিচে নয়; বরং আকাশের দিকে উঠে যাওয়া বিশাল পাথরের টাওয়ারে রাখা হবে মানুষের মরদেহ। ফারাও জোসারের আদেশে স্তরে স্তরে পাথর জুড়ে তৈরি হলো বিশ্বের প্রথম পিরামিড, ‘দ্য স্টেপ পিরামিড অব জোসার’। মোট ছয়টি ধাপে ৬২ মিটার উচ্চতার ছোট্ট পিরামিডটি এখনো অক্ষত আছে। ভেতরে রয়েছে রাজকীয় সমাধিচত্বর, একাধিক আঙিনা, মন্দির ও হলওয়ে।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম বসতি
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের বলান ভ্যালিতে ছাদবিহীন চার দেয়ালের ছোট ঘরগুলো পুরো দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম বসতিগুলোর একটি। জায়গাটির নাম মেহেরগড়। ধারণা করা হয়, ৭ হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সাধারণ নাগরিকদের বসতি ছিল কাদা ও ইটে তৈরি এই ঘরগুলো। সারি ধরে আজও যা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।
প্রস্তর যুগের পাথরের বাড়ি
দরজার বাইরে পা রাখলেই সামনে খোলা নীল সমুদ্র। এমন একটি বাড়ি কে না চায়? সমুদ্রতটে আজকাল অনেকেই বাড়ি তৈরি করেন। কিন্তু জানেন কি, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেও এমন বাড়িতে মানুষ থেকেছে এবং সেই বাড়ি আজও অক্ষত আছে। এই বাড়িটি দেখতে চাইলে যেতে হবে যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড। সেখান থেকে আটলান্টিক সমুদ্রপথে ১৬ কিলোমিটার উত্তরে গেলেই অর্কনি দ্বীপপুঞ্জ। অঞ্চলটির ৭০টি দ্বীপের একটির নাম পাপায়। মাত্র ৯ দশমিক ১৮ কিলোমিটার আয়তনের ছোট্ট একটি দ্বীপে রয়েছে বিশ্বের প্রাচীনতম অক্ষত দুটি বাড়ি। নাম ন্যাপ অব হোয়ার। নির্মাণকাল খ্রিষ্টপূর্ব ৩৭০০–৩৫০০ অব্দ। পাথরের ওপর পাথর বসিয়ে তৈরি হয়েছে এসব বাড়ি।
অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ মেইনল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের স্যান্ডউইক এলাকার বে অব স্কাইলে পাথরের তৈরি ১০টি ঘর নিয়ে একটি বসতি। বাড়িগুলোর নির্মাণকাল খ্রিষ্টপূর্ব ৩১৮০–২৫০০ অব্দ বলে জানা যায়। অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরোনো। সংযুক্ত ঘরগুলোর ভেতরে রয়েছে পাথরের বিছানা, তাক এবং কিছু আসবাব। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ জায়গার নাম স্কারা ব্রে। ধারণা করা হয়, এখানে কৃষকেরা বসবাস করতেন। পাথরের শক্ত কাঠামোর কারণে হাজার হাজার বছর পরও প্রস্তর যুগের বসতিগুলো অক্ষত রয়ে গেছে।