ঈদের পর দেশকে ঈদের আনন্দ দেওয়ার ইচ্ছা মোরছালিনের

ঈদে পাঞ্জাবিতে দেখা যাচ্ছে সূক্ষ্ম নকশার ডিজাইন। এ ছাড়া এখনকার পাঞ্জাবিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কাট। সে রকমই কিছু পাঞ্জাবি পরে নকশার পাঠকদের সামনে এলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার শেখ মোরছালিন।

ঈদের পাঞ্জাবিতে থাকবে আরামের নকশা। মডেল হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবলার শেখ মোরছালিনপোশাক: ইনফিনিটি। ছবি: সুমন ইউসুফ

হামজা চৌধুরী, শমিত সোমরা যখন বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠ কাঁপাতে শুরু করেননি, তখন থেকেই মোরছালিন নামটা ভক্তদের মুখে মুখে। মাঠের সবুজ ঘাসে যাঁদের পদচারণ, দেশবাসীকে যাঁরা আনন্দে মাতান, উৎসবের দিনটা অনেক সময়ই তাঁদের কাটাতে হয় পরিবার-পরিজন থেকে দূরে, একাকী। দেশের হয়ে খেলবেন বলে নিজেদের আনন্দ জলাঞ্জলি দিতে হয় তাঁদের। ফুটবলার শেখ মোরছালিন এবার সেটাই করছেন।

জাতীয় দলের ঈদ

নিত্যনতুন নকশার থেকে পছন্দ করছেন সাদামাটা পাঞ্জাবি
পোশাক: ইনফিনিটি। ছবি: সুমন ইউসুফ

মোরছালিন বিকেএসপিতে ভর্তি হন সপ্তম শ্রেণিতে। তার আগের রমজান মাস ছিল তাঁর কাছে বেশ অন্য রকম। বললেন, ‘ছোটবেলায় নানা-নানির সঙ্গে ইফতার করতাম। ইফতারের পর নামাজ পড়তে যাওয়া, আর তারপর বন্ধুদের সঙ্গে দুষ্টুমি-ফাজলামি—সেটা ছিল অন্য এক আনন্দ।’
জাতীয় পর্যায়ে খেলাধুলা শুরু করার পর পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে রমজান মাসে আগের মতো স্মৃতি তৈরির সুযোগ আর আসেনি। পেশাদার ফুটবলারদের জন্য গল্পটা পুরোপুরি ভিন্ন। মোরছালিনের জীবনটাও বদলে গেছে।

মোরছালিন বলছিলেন, ‘বাড়িতে ঈদ করা হয় না। বলতে গেলে বিলাসিতাই মনে হয়। ঈদের আগে–পরে কখনো লিগের খেলা থাকে, কখনো জাতীয় দলের খেলা থাকে। সব ছেড়ে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয় না। গত দুই বছর ঈদুল আজহা কাটিয়েছি ভারতে।’
এবারও খুব সম্ভবত মোরছালিন ঈদ করবেন ঢাকায়। সামনেই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ। ঈদের আগেই ক্যাম্প শুরু হয়ে গেলে এবারও হয়তো দলের সঙ্গেই ঈদ করতে হবে তাঁকে। প্রথমবার যখন দেশের বাইরে ঈদ করতে হয়েছিল, তখন বেশ মন খারাপ হয়েছিল। তখন বয়সও ছিল কম। তবে দেশের জন্যই যে খেলছেন, তা ভেবে মনকে সান্ত্বনাও দিয়েছিলেন—মন খারাপের কী আছে?

পাঞ্জাবিপ্রেম

ঈদের পোশাক হিসেবে মোরছালিনের প্রথম ও শেষ পছন্দ পাঞ্জাবি। ছোটবেলায় পরিবারের সবার সঙ্গে ম্যাচিং করে পাঞ্জাবি পরতেন। ঈদের নামাজ পরেই বেরিয়ে পড়তেন বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে। এখনো ঈদ এলেই পাঞ্জাবি কেনার ঝোঁক আছে তাঁর। পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেন তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী। এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের চেয়ে প্রিয়জনদের হাসিমুখই তাঁর কাছে বড়।

পাঞ্জাবির সঙ্গে কোটি
পোশাক: ইনফিনিটি। ছবি: সুমন ইউসুফ

মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের জীবন যত হাসি-আনন্দের হোক না কেন, মাঠের ভেতরে পুরোটাই কড়া নিয়মশৃঙ্খলার। তাই তো ম্যাচের আগের রাত থেকেই শুরু হয় মোরছালিনের প্রস্তুতি।
মোরছালিন বলেন, ‘আমার ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু হয় আগের দিন রাত থেকে। রাতের খাবারে কোনো রকম অনিয়ম চলে না। রাতে বেশি বেশি তরল, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করি। ম্যাচের আগের রাতে আমার অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার ঘুম চাই–ই চাই। খেলার দিন সকাল থেকে শরীরকে যতটা সম্ভব ফুরফুরে রাখার চেষ্টা করি।’
তবে নিজের ফিটনেস নিয়ে আরেকটু কাজ করার ইচ্ছা আছে তাঁর, ‘জিমেও আমি ঠিক সেই পরিমাণ সময়ই দিই, যতটা লাগে। তবে আমার মনে হয়, জিমে আরেকটু সময় দেওয়া উচিত।’

মাঠে নামার আগে

হালকা ডিজাইনের পাঞ্জাবিই মোরছালিনের পছন্দ
পোশাক: ইনফিনিটি। ছবি: সুমন ইউসুফ
আরও পড়ুন

বাংলাদেশ দল এখন তারার মেলা। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম বা ফাহামিদুলের মতো তারকা ফুটবলার গায়ে জড়িয়েছেন জাতীয় দলের জার্সি। নিয়মিত কথা না হলেও তাঁদের মধ্যে হৃদ্যতা আছে। মোরছালিনের জন্মদিনে তাঁরা শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি। এবার তাঁদের সঙ্গেই মাঠে লড়াই করার পালা।
সামনেই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচ। পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও শেষটা ভালো করতে চান। মোরছালিনের এখন একটাই লক্ষ্য—ঈদের পর দেশের মানুষকে আরেকটা ঈদের আনন্দ দেওয়া।

সময় করে পরিবারের জন্য ঈদ কেনাকাটা করেন মোরছালিন
পোশাক: ইনফিনিটি। ছবি: সুমন ইউসুফ
আরও পড়ুন