গ্যাস ছাড়া রান্না করতে চাইলে উপায় কী
ঢাকাসহ সারা দেশেই এখন গ্যাসের তীব্র সংকট। গ্রামে তা–ও মাটির চুলায় রান্নার সুযোগ আছে, শহরে তো সেটাও কঠিন। তাই রান্নায় গ্যাসের চুলার বিকল্প হতে পারে ইন্ডাকশন বা ইনফ্রারেড চুলা। ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকার নিউমার্কেটে গিয়ে চোখে পড়ল চুলার দোকানের ভিড়। ঢাকার হাজারীবাগ থেকে চুলা কিনতে আসা মুনতাসির বিন মহিউদ্দিন দরদাম করে মিয়াকো ব্র্যান্ডের একটি ইনফ্রারেড চুলা কিনলেন। তিনি বলেন, ‘বাসায় পাইপলাইনের গ্যাস–সংযোগ আছে। বিকল্প হিসেবে এত দিন সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতাম। এখন দুই ধরনের গ্যাসেরই সংকট দেখা দিয়েছে। তাই দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচতে আজ কিনে নিলাম এই ইনফ্রারেড চুলা।’
নিউমার্কেটের কিচেন ও ক্রোকারিজ অংশে থাকা স্মরণিকা গিফট কর্নারের বিক্রেতা আবদুল হালিম বলেন, ‘গ্যাস–সংকটের কারণে চুলার চাহিদা এমন বেড়েছে যে এক দিনেই ৫০টি চুলা বিক্রি করে ফেলেছি। এই হিসাবে অন্য সব দোকান মিলে কী পরিমাণ বৈদ্যুতিক চুলা বিক্রি হচ্ছে, একবার ভাবুন!’
গ্যাস–সংকটের এ সময়ে তাই কম খরচে কম সময়ে ঝটপট রান্নার সুবিধা পেতে নিতে পারেন ইন্ডাকশন অথবা ইনফ্রারেড চুলা।
ইন্ডাকশন চুলা
আগুনের শিখা ছাড়াই তড়িৎ চুম্বকের এক বিশেষ ক্রিয়াকৌশলে খাবার রান্না করে এ চুলা। ফার্মগেটের বেস্ট বাই শোরুমের উপপরিচালক রবিউল ইসলাম জানান, এসব চুলার সবটুকু অংশে তাপ ছড়ায় না। রান্নার পাতিল বা পাত্রের যেটুকু অংশ চুলা স্পর্শ করে ঠিক অতটুকু অংশেই তাপ গ্রহণ করবে। বাকি অংশে ভুল করে হাত লেগে গেলেও তাই ভয়ের কিছু নেই। আবার ভুল করে সুইচ অন করে ফেললেও চুলার ওপর কোনো রান্নার পাত্র না থাকলে তাপ ছড়ায় না। চুলার ওপর রান্নার পাত্র বসানোর পরই তাপ উৎপন্ন হবে। রান্না শেষে পাত্র তুলে নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুলা বন্ধ হয়ে যাবে।
আছে টাচস্ক্রিন কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যাতে মিলবে ভোল্টেজ কমিয়ে বা বাড়িয়ে নেওয়ার সুবিধা। সময় বেঁধে দেওয়ার জন্য আছে টাইম কন্ট্রোলার। আছে শিশু নিরাপত্তাসূচক মোড, স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুলা বন্ধ হওয়াসহ অনেক সুবিধা।
এত এত সুবিধার পাশাপাশি একটা অসুবিধার কথাও জানিয়ে রাখা জরুরি। সব রকমের পাতিল কিন্তু এ চুলায় ব্যবহার করা যায় না। যেসব পাত্র চুম্বক দ্বারা আকর্ষিত হয়, সেসব পাত্রই শুধু ইন্ডাকশন চুলায় ব্যবহার করা যায়। যেমন স্টিল ও লোহার পাত্র। চুলার সর্বোত্তম সুবিধা পেতে বেছে নিতে পারেন ইন্ডাকশনের জন্য নির্মিত বিশেষ হাঁড়ি–পাতিল। এতে রান্না সহজ হবে।
ইনফ্রারেড চুলা
বিদ্যুৎ–প্রবাহ থেকে অভ্যন্তরীণ তামার কয়েলকে উত্তপ্ত করে রান্নার জন্য তাপ উৎপন্ন করে ইনফ্রারেড চুলা। এ ধরনের চুলায় ইন্ডাকশন চুলার মতো নির্দিষ্ট কোনো পাত্র ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা নেই। দুই ধরনের চুলার মধ্যে ইনফ্রারেড চুলার চাহিদা বেশি বলে জানান কেউ কেউ। কারণ, এ চুলায় যেকোনো ধরনের পাত্রে রান্না করা যায়। বিপরীতে ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করতে হলে শুধু নির্দিষ্ট আকারের ফেরোম্যাগনেটিক পাত্র, যেমন লোহার তৈরি, কাস্ট আয়রন বা বিশেষ ধরনের স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা যায়। অ্যালুমিনিয়াম, তামা, কাচ বা সিরামিকের পাত্র এতে কাজ করে না।
নিউমার্কেটের দোকান রাসেল এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা আকাশ খুব সহজভাবে জানালেন, ইন্ডাকশন চুলায় স্টিল আর বিশেষভাবে তৈরি পাতিল ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা যায় না। তবে ইনফ্রারেড চুলার ক্ষেত্রে প্লাস্টিক ছাড়া সব রকমের পাতিলই ব্যবহার করতে পারেন।
ব্যবহারের সতর্কতা
রান্নার পরপরই গরম থাকা অবস্থায় ঠান্ডা পানি দিয়ে চুলা পরিষ্কার করতে যাবেন না, এতে কাচ ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চুলা ঠান্ডা হয়ে এলে তবেই পরিষ্কার করুন। চুলার ওপরের অংশটা যেহেতু কাচের তৈরি, তাই গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন।
চুলার দরদাম
ভিশন ব্র্যান্ডের ইন্ডাকশন চুলা মিলবে ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৪ হাজার ৪৫০ টাকার মধ্যে। ভিগো ব্র্যান্ডের ইন্ডাকশন চুলা ৩ হাজার ৭৫০ থেকে ৪ হাজার ৭৫০ টাকা, ওয়ালটনের ইন্ডাকশন চুলা ৪ হাজার ৪৯০ থেকে ৫ হাজার ৭৯০ টাকা, কিয়ামের ইন্ডাকশন চুলা ৪ হাজার ১০০ থেকে ৭ হাজার ১০০ টাকা ও মিয়াকো ইন্ডাকশন চুলা পাবেন ৫ হাজার ৪৮৪ থেকে ১০ হাজার ৪১৭ টাকার ভেতরে। অনেক ব্র্যান্ডের ইন্ডাকশন চুলায় থাকছে ছয় মাস থেকে এক বছরের ওয়ারেন্টি।
ইনফ্রারেড চুলার ক্ষেত্রে ভিগো ব্র্যান্ডের ইনফ্রারেড চুলা পাবেন ৪ হাজার ৭৫০ টাকার মধ্যে। ভিশন ব্র্যান্ডের ইনফ্রারেড চুলা ৩ হাজার ৮৫০ থেকে ৪ হাজার ৯৫০ টাকায়। ওয়ালটন হলে দাম পড়বে ৩ হাজার ৬৯০ থেকে ৫ হাজার ৫৯০ টাকা, কিয়াম ব্র্যান্ডের চুলার দাম ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা, মিয়াকোর চুলা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা।