অনলাইন থেকে যেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠল দেশি পোশাকের ব্র্যান্ড ‘খুঁত’
খুঁত শুধু একটি কাপড়ের দোকান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ক্রেতাদের আবেগ। খুঁতের বাড়িতে এসে দোলনায় বসা, কিছুক্ষণ বসে খাওয়াদাওয়া—সব মিলিয়ে অতিথি আপ্যায়নের মতো অনুভূতি তৈরি করে।
ফারহানা হামিদ ও ঊর্মিলা শুক্লা একসময় যাত্রায় ডিজাইনার ছিলেন। নিজেদের ভাবনা থেকে ‘সোহাগী’ নামের একটি মাটির মালা বানান তাঁরা। মালাটি অনলাইনে বিক্রি করতে গিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছিলেন। কিন্তু মালার সঙ্গে মানানসই সাদামাটা শাড়ি বাজারে পাচ্ছিলেন না। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি করেন ‘লাল’ নামের লাল রঙের শাড়ি।
প্রথম শাড়িতেই অপ্রত্যাশিত সাড়া পান তাঁরা। বিক্রি হতে এক মাস লাগবে—এমনটা ধারণা করা হলেও ১০ দিনের মধ্যেই সব শাড়ি বিক্রি হয়ে যায়। চাহিদা দেখে দুই ডিজাইনারেরই তখন মনে হয়েছিল, যে অভাবটা ওনারা অনুভব করছেন, সেটা হয়তো ক্রেতাদের মধ্যেও আছে।
সেই অভাব দূর করতেই ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে খুঁত। প্রথম শাড়ি লাল, দ্বিতীয় শাড়ি মায়াবতী, তৃতীয় শাড়ি চন্দনী, চতুর্থ শাড়ির নাম ছিল পাতা। যে শাড়িটি চাহিদার কারণে এখনো বানানো হয়।
শুরুতে পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক ছিল খুঁত। ফারহানা হামিদ ও ঊর্মিলা শুক্লা জানান, ‘অনলাইনে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছিলাম। পাশাপাশি মেলায় অংশ নিতাম। সেখানে ক্রেতাদের সঙ্গে দেখা হতো। একটা সময় তারা বলতে থাকল, আপনাদের অন্যান্য শাড়ি একটু দেখতে পারলে ভালো হতো। ক্রেতাদের এই দাবি থেকেই ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে ২০১৯ সালে একটা রেস্তোরাঁর সঙ্গে ছোট্ট একটা কোনায় শুরু হয় খুঁতের দোকানভিত্তিক যাত্রা। দুবার জায়গা বদলে লালমাটিয়ার ব্লক ডি–এর ৯/৪ নম্বর আর বনানীর ব্লক ই-এর ১৩/সি নম্বর রাস্তার ৯৬ নম্বর বাড়িতে এখন খুঁতের অবস্থান।’
খুঁতের বাড়িগুলোকে ক্রেতারা শুধু দোকান হিসেবে দেখেন না, পুরো পরিবেশটাও উপভোগ করেন। এখানে এসে দোলনায় বসা, কিছুক্ষণ বসে খাওয়াদাওয়া—সব মিলিয়ে অতিথি আপ্যায়নের মতো অনুভূতি তৈরি করে।
এই পরিবেশ তৈরিতে খুঁতের কর্মীদের পাশাপাশি ক্রেতাদেরও যেন ভূমিকা আছে। তাঁরাও জায়গাটিকে আপন করে নিয়েছেন। শাখা খোলার জন্য লালমাটিয়া ও বনানীতে এমন বাড়ি বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে পুরোনো দিনের আবহ আছে।
চাহিদা অনুযায়ী সব সময় শাড়ি তৈরি করা সম্ভব হয় না। কারণ, খুঁত মূলত দেশি সুতা, দেশি কাপড় ও হাতে তৈরি শাড়ি নিয়ে কাজ করে। হাতের সেলাই, ব্লক ও তাঁতে বোনার কাজ করতে সময় লাগে। একটি শাড়ি আগে ৮০টার মতো করে তৈরি করা হতো। ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ায় গত এক বছরে তা ১২০টি করা হয়েছে। গত মাস থেকে প্রতিটি শাড়ি ২০০ পিস করে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
তাঁদের সবচেয়ে জনপ্রিয় শাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মায়াবতী’, ‘পাতা’, ‘গোধূলি’, ‘জারুল’, ‘বাহারি’ ও ‘গল্পকথা’। খুঁতের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন ৩০–৪০ জন কর্মী। সারা দেশে তাঁত এবং হাতের কাজের সঙ্গে যুক্ত ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ।