যে কারণে ৭৫ শতাংশ মানুষের আস্থায় ওয়ালটন ফ্রিজ
রেফ্রিজারেটর এবং ফ্রিজার বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় সতেজ ও স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিতকরণে দরকার ভালো মানের ফ্রিজ। বর্তমানে বাংলাদেশে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪০ লাখ। এই চাহিদার বেশির ভাগই মিটছে দেশে তৈরি রেফ্রিজারেটর দিয়ে। আরও সহজভাবে বলতে গেলে ওয়ালটন ফ্রিজ দিয়ে। ফ্রেশ খাবারের জন্য দেশের বেশির ভাগ মানুষ ওয়ালটন ফ্রিজে আস্থা রাখছেন। আর তাই বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড ওয়ালটনের ফ্রিজের মার্কেট শেয়ার প্রায় ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের বাজারে ১০০টি ফ্রিজ বিক্রি হলে তার ৭৫টিই ওয়ালটনের। ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ দেশের ফ্রিজ বিক্রির প্রধান মৌসুম। বরাবরের মতো এই ঈদেও গ্রাহকচাহিদার শীর্ষে রয়েছে ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর। আন্তর্জাতিক মানের ওয়ালটন ফ্রিজ রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
কেন ক্রেতাদের কাছে ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর এত জনপ্রিয়? আর কেনই-বা দিন দিন বহির্বিশ্বে ওয়ালটন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, আসুন জানা যাক।
১. বিএসটিআই কর্তৃক ফাইভ স্টার অ্যানার্জি রেটিংপ্রাপ্ত
টিভি, ফ্রিজ, এসির মতো ইলেকট্রনিকস পণ্য ব্যবহারে বিদ্যুতের খরচ অনেকের জন্যই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ওয়ালটন ফ্রিজ ব্যবহারকারীরা বিদ্যুতের বিল নিয়ে থাকেন নিশ্চিন্ত। কারণ ওয়ালটনের রয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) সনদপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফাইভ স্টার অ্যানার্জি রেটিংপ্রাপ্ত ফ্রিজ।
ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ওয়ালটনের ফ্রিজে রয়েছে ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির কমপ্রেসর। এই কমপ্রেসরে ব্যবহৃত হচ্ছে আর৬০০এ রেফ্রিজারেন্ট, যা একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী। ফলে সাধারণ ফ্রিজের তুলনায় ওয়ালটন ফ্রিজের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষমতা ৬০ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি বেশ কিছু নতুন ডিজাইনের ফ্রিজ বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। যার মধ্যে অন্যতম ইনভার্টার প্রযুক্তির ডিপ ফ্রিজার।
২. ওয়াইড ভোল্টেজ ডিজাইন
ওয়ালটন ফ্রিজে ব্যবহৃত হচ্ছে ওয়াইড ভোল্টেজ ডিজাইন, যা বিদ্যুতের ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ফ্রিজকে রক্ষা করে। তাই আলাদা করে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।
৩. এআই এবং স্মার্ট কন্ট্রোল
প্রযুক্তি নিয়ে নিরন্তর গবেষণায় ওয়ালটন ফ্রিজে যুক্ত হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। রয়েছে স্মার্ট কন্ট্রোলযুক্ত ডিজিটাল ডিসপ্লে। ফলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই ওয়ালটন ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গৃহস্থালি পণ্যে প্রযুক্তির এক অত্যাধুনিক সংযোজন এটি।
৪. স্বাস্থ্যকর খাবার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা
ওয়ালটন ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার থাকে দীর্ঘদিন সতেজ ও স্বাস্থ্যকর। ওয়ালটন ফ্রিজে ব্যবহৃত হচ্ছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) অনুমোদিত ভারজিন ম্যাটেরিয়াল। যা খাবারের মান অধিক সময় পর্যন্ত ঠিক রাখে। এর পাশাপাশি সিলভার ক্লিন++ ও ন্যানো হেলথ কেয়ার প্রযুক্তি এবং থ্যালেট ফ্রিজ ডোর গ্যাসকেট ব্যবহার করায় ফ্রিজের ভেতর থাকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ামুক্ত। অত্যধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন ফাইভ ডিরেকশনাল কুলিং প্রযুক্তি থাকায় ওয়ালটন ফ্রিজ খাবার দ্রুত ঠান্ডা করে।
৫. দুই শতাধিক মডেল ও সাশ্রয়ী দাম
ওয়ালটনের রয়েছে দুই শতাধিক মডেলের রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার ও বেভারেজ কুলার। নান্দনিক ডিজাইনের ফ্রস্ট ও নন–ফ্রস্ট এসব ফ্রিজের দাম মডেলভেদে ১২ হাজার ৯৯০ টাকা থেকে ৯৯ হাজার ৯৯০ টাকার মধ্যে। ফলে গ্রাহকেরা তাঁদের রুচি অনুযায়ী পছন্দসই ডিজাইন, ফিচার ও দামের ফ্রিজ বেছে নিতে পারছেন। নগদ মূল্যের পাশাপাশি ওয়ালটন ফ্রিজ কেনায় রয়েছে সহজ কিস্তি ও ইএমআই সুবিধা।
৬. সর্বোচ্চ গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি
ওয়ালটন ফ্রিজে এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি রয়েছে। আর কমপ্রেসরের গ্যারান্টির মেয়াদ ১২ বছর। পাশাপাশি পাঁচ বছরের ফ্রি বিক্রয়োত্তর সেবা পাচ্ছেন গ্রাহক। দ্রুত ও সর্বোচ্চ মানের বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে সারা দেশে ওয়ালটনের রয়েছে ৭৯টি সার্ভিস পয়েন্ট। পাশাপাশি ২০ হাজারের বেশি সেলস আউটলেট এবং অনলাইন ও কল সেন্টারের মাধ্যমে ক্রেতাদের বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছে ওয়ালটন।
৭. ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে দেয়া ক্রেতাসুবিধা
অনলাইন অটোমেশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে দীর্ঘদিন ধরেই সারা দেশে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে ওয়ালটন। ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে ক্রেতার নাম, মুঠোফোন নম্বর, বিক্রি করা পণ্যের মডেল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য ওয়ালটনের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে ওয়ারেন্টি কার্ড হারিয়ে গেলেও দেশের যেকোনো ওয়ালটন সার্ভিস সেন্টার থেকে দ্রুততম সময়ে সেবা পাচ্ছেন গ্রাহক। অন্যদিকে গ্রাহকের ফিডব্যাক ও পণ্য সম্পর্কে তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমে ক্রেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে ক্যাম্পেইনের আওতায় নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে চলছে ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-১৫। এর আওতায় ঈদ উৎসবে দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম কিংবা অনলাইনের ই-প্লাজা এবং ওয়ালকার্ট থেকে ফ্রিজ কিনে ক্রেতারা পাচ্ছেন ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ক্যাশব্যাক। রয়েছে কোটি কোটি টাকার ওয়ালটন পণ্য ফ্রি।
ইতিমধ্যে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে বেশ কয়েকজন ক্রেতার প্রত্যেকে ২০ লাখ টাকা পেয়েছেন। এর আগে নতুন গাড়িসহ বিভিন্ন অঙ্কের টাকা, ফ্রি পণ্য ইত্যাদি পেয়েছেন। এ বিষয়গুলো ওয়ালটন ফ্রিজের বিক্রি বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।