মেহেদির কোন নকশায় সাজাবেন হাত
বিয়েতে কনের হাতে যতই গয়না থাক, মেহেদি ছাড়া খালি খালি লাগে। এখন তো আবার মেহেদি পরার জন্যই থাকে আলাদা অনুষ্ঠান। অনেকে আবার এমনিও মেহেদি পরতে ভালোবাসেন। তবে কোন নকশা করবেন বুঝতে পারেন না। মেহেদিপাতা বেটে পেস্ট দিয়ে হাতে নকশা করার চল ফুরিয়েছে আগেই। এখন টিউবে ভরা মেহেদি দিয়েই সাজার চল। অন্তর্জাল ঘেঁটে এখানে রইল কিছু ট্রেন্ডি মেহেদির নকশা। ছবি দেখে এটি হাতে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।
কিছুটা মিনিমাল নকশা করা হয়েছে, যা মূলত কনের বোন বা বান্ধবীরা বেছে নিতে পারেন। হাতের ওপরের অংশে বড় ম্যান্ডালা মোটিফের নকশা করা। চিকন বর্ডার করে বুনো পাতার নকশা করা হয়েছে চারপাশে।
হাতের কবজি পর্যন্ত ভরাট করে দেওয়া মেহেদির নকশায় ফুটে উঠেছে ফুলেল মোটিফ। এ ছাড়া পেইসলি আর লতাপাতার আদলে নকশা করা হয়েছে। কবজির অংশে বালা স্টাইলে নকশা করা। এ ধরনের নকশা কনের হাতে মানানসই।
এ রকম হাতভরা মেহেদির নকশায় বিয়ের কনেকে সাজতে দেখা যাচ্ছে আজকাল। এ নকশা মূলত মোগল অনুপ্রেরণা থেকে এসেছে। যেখানে হালকা ও গাঢ় শেড মিশিয়ে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। যেহেতু এক দিনের রাজা–রানি বলা হয় বর–কনেকে, তাই সেই অনুপ্রেরণায় তালুতে আঁকা হয়েছে রাজা–রানির মতো চেহারা। বিয়ের ডেকোরেশন থেকে শুরু করে বিশেষ কোনো তারিখ, বিশেষ কোনো মুহূর্তের ছবিও আঁকা যায় এখানে। ময়ূর, ফুল–পাতা, প্রাসাদসহ নানা কিছু আঁকা যেতে পারে এই ভাবনায়
এই নকশা করা হয়েছে মোগল ও রাজস্থানি স্টাইলের মিশ্রণে, ফিউশন নকশা বলা যেতে পারে। এই নকশা ঐতিহ্যবাহী ব্রাইডাল ডিজাইন হিসেবে পরিচিত। যেখানে হাতের তালুতে বরের নাম লেখার একটা চল আছে। ফুল–পাতা ছাড়াও এখানে আছে জালি ও জ্যামিতিক নকশা। আঙুলের ডগায় পুরো অংশ গাঢ় করে রাঙানো হয়েছে, আছে চুড়ি স্টাইলের বর্ডারও।
এই নকশাও ফুল আর পাতা থেকে অনুপ্রাণিত। বিশেষ করে মুসলিম বিয়ের কনের হাতে এমন নকশার চল বেশি। গোলাপ, পাপড়ি, পাতা ও আলপনার নকশা আছে এখানে। নকশাগুলো এতটা চিকন করে আঁকা হয়েছে যে হাতজুড়ে নকশা করা হলেও চোখের আরাম মিলছে।