আমার জ্বালায় একসময় আম্মা ম্যাগাজিনটি লুকিয়ে রাখতেন: তাসনিয়া ফারিণ
তাসনিয়া ফারিণের বয়স সাত কি আট। সেই সময় তাঁদের বাড়িতে নিয়মিত ‘সানন্দা’ আসত। কলকাতার সেই ম্যাগাজিন পড়া ফারিণের জন্য ছিল নিষিদ্ধ। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর সেই ম্যাগাজিনে ফটোশুট করে মাকে ফোন দিয়ে জানালেন, ‘তোমার সেই অবাধ্য মেয়ে এবার সেই “সানন্দা”র মডেল।’
প্রথম ছবি ‘আরো এক পৃথিবী’র প্রচারণা নিয়ে এখন রীতিমতো ব্যস্ত ফারিণ। সিনেমাটি আজ কলকাতার হলে মুক্তি পাচ্ছে। ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা নিয়ে দুরু দুরু বুকে কলকাতার অলিগলিতে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ ফোন। ওপাশ থেকে একজন বললেন, ‘দিদি, আপনার ফটোশুট করা হবে।’
সিনেমার প্রচারণায় কত কিছুই না করতে হচ্ছে। ফটোশুটে গিয়ে দেখেন, সেই ‘সানন্দা’, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শৈশবের অনেক স্মৃতি। যার জন্য শৈশবে মায়ের কত বকা খেতে হয়েছে।
ফারিণ বলেন, ‘তখন আমার বয়স সাত কি আট বছর হবে। আমার মা নিয়মিত “সানন্দা” রাখতেন, পড়তেন। “সানন্দা” কী, তখনো বুঝতাম না। হাতে নিয়ে পড়তে চাইলে মায়ের বকা খেতাম। ওটা রেখে দাও। ওটা তোমার জন্য নয়। আমার জ্বালায় একসময় আম্মা ম্যাগাজিনটি লুকিয়ে রাখতেন।’
‘সানন্দা’র ফটোশুট করার সময় ফারিণের মনে সেই দিনগুলোর ছবি ভাসছিল। তাঁর কাছে এটা জীবনের একটি চক্র পূর্ণ করার মতো।
এ জন্য ফটোশুটের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে মায়ের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘ছোটবেলায় চুরি করে যে ম্যাগাজিন পড়ার জন্য বকা দিতে, সেটার জন্য শুট করলাম দেখো।’
আপনার মা কী বলেছেন, এমন প্রশ্নে ফারিণ বলেন, ‘মা শুনে হাসলেন। বললেন, তোমাকে কোথায় বাধা দিতাম। তখন ছোট ছিলে। তোমার জন্য সেটা উপযুক্ত ছিল না। কারণ, এটা তো একটা বয়সের ব্যাপার আছে।
সেই তুলনায় আমি খুকি ছিলাম। শৈশবে সেগুলো নিয়ে বিদ্রোহী ব্যাপার থাকলেও এখন বুঝি, সেটা আমার জন্য নয়। ওই সময়েই যা ছিল। ওটা ওখানেই শেষ। “সানন্দা”য় কখনো ফটোশুট করব, সেটা ভাবিনি। এবার সুযোগ এল। তাই মনে পড়ে গেল স্মৃতি।’