সব পোশাকেই মানিয়ে যায়

নাগরার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক, সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, জিনস, লেহেঙ্গা, হট প্যান্ট কিংবা স্কার্ট। পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে লাল, কমলা, হলুদ বা গাঢ় রঙের নাগরা মন্দ লাগে না। শুধু কর্মক্ষেত্রে শার্ট, ব্লেজারের সঙ্গে নাগরা মানাবে না। দৈনন্দিন ব্যবহারের নাগরায় থাকতে পারে ছাপা নকশা কিংবা হালকা কাজ। দাওয়াতের জন্য বেছে নিতে পারেন জামদানির নকশা করা বা জমকালো পাথর বসানো নাগরা। আছে প্রাকৃতিক রঙে রাঙানো নাগরা। এই জুতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ডেনিমের ব্যবহার।

ডেনিম দিয়ে নাগরা তৈরি করেন চৌধুরী’স-এর স্বত্বাধিকারী রুবাইয়াত চৌধুরী। রংবেরঙের এই নাগরাগুলো পুরোপুরি হাতে বানানো। তিনি বলেন, ‘এখন সবাই চায় চলতি ধারার নকশা। ফ্যাশন আর আরাম—দুটি ব্যাপারই নিশ্চিত করতে হয় ডিজাইন করার সময়।’ নাগরার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, স্টাইল তৈরির পাশাপাশি সাজে ঐতিহ্যবাহী ভাবও ধরে রাখে। মেঝেছোঁয়া পোশাকগুলো বা ম্যাক্সি ড্রেসের সঙ্গে খুব ভালো মানায় নাগরা। একটু নিরীক্ষা করতে চাইলে সিল্কের গাউনের সঙ্গেও পরে ফেলতে পারেন। এ ক্ষেত্রে জমকালো নকশার নাগরা বেছে নেওয়া ভালো। একদম সুতির পোশাকের সঙ্গে এক রঙের কিংবা চামড়ার নাগরা ভালো মানাবে। সাজে এথনিকভাব চাইলে নাগরা হতে পারে আদর্শ অনুষঙ্গ।

সুতায় কাজে অভিনব

একসময় কাসুরি নাগরা একচেটিয়া বাজার দখল করে রেখেছিল। এখন সৃজনশীল মানুষের হাত ধরে দেশীয় নাগরার সম্ভারে বেশ পরিবর্তন এসেছে। উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ড আলাদাভাবে এ জুতা উৎপাদনে কাজ করছে। সাদাসিধা থেকে জমকালো—সব ধরনের নকশার নাগরাই দেশে তৈরি হচ্ছে। দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা। পমপম বা ঝুনঝুনি লাগানো নাগরা জনপ্রিয় কিশোরী বা তরুণীদের মধ্যে। বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেও কিন্তু অনায়াসে পরতে পারেন নাগরা। জরি, পুঁতি, চুমকি দিয়ে বানানো হচ্ছে বিয়ের নাগরা। সুই-সুতায় এমব্রয়ডারি করা, কিংবা ডলার বসানো দৃষ্টিনন্দন এসব নাগরার চাহিদা ছিল, আছে, থাকবে। পাখির সঙ্গে পাতার নকশা যখন সুতায় সুতায় ফুটে ওঠে, চোখ ফেরানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিয়ের দাওয়াত কিংবা উৎসবে সচরাচর যাঁরা হিল পরেন না বা পরতে চান না​, বেছে নিতে পারেন নাগরা। চামড়া কিংবা ডেনিমের সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে জামদানি কাপড়ে তৈরি নাগরা। জামদানিই ধ্যান-জ্ঞান, এমন একজন মানুষ ‘বেনে-বৌ’-এর স্বত্বাধিকারী ফারহানা মুনমুন। নাগরার ওপরও চাপিয়েছেন নিজের পছন্দ। তিনি জানান, ‘রঙিন নাগরা এখন সবাই পছন্দ করছে। ডিজাইন করার জন্য তাই আমি রং আর মোটিফকে প্রাধান্য দিই।’ তিনি মনে করেন, জামদানির মতো নাগরার ভেতরেও একটা আভিজাত্য আছে।