গোলাম রব্বানীর কাছে তালিম নিতে শুরু করেন কানিজ। গুরুও তাঁকে ভালোবাসেন নিজের মেয়ের মতো করে। গুরুকে হতাশ করেননি কানিজ। জাতীয় একটি মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০১১ সালে এটিএন বাংলা আয়োজিত ‘মেঘে ঢাকা তারা’ নামের একটি রিয়েলিটি শোতে হন চ্যাম্পিয়ন। মূলত সেখান থেকেই কানিজের জীবনে পরিবর্তনের শুরু। এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পরিবার থেকেও পেয়েছেন পূর্ণ সমর্থন। ২০১৩ সালে হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী।

চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী নয়, ছোটবেলা থেকে সংগীতশিল্পীই হতে চেয়েছেন কানিজ। ভেবে রেখেছিলেন, উচ্চতর পড়াশোনাও সংগীত নিয়েই করবেন। কানিজের সেই স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে স্নাতকোত্তর করছেন তিনি। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি যে কোক স্টুডিওর মতো বড় একটি প্ল্যার্টফর্মে গান গাওয়ার সুযোগ পাবেন, সেটি তাঁর ভাবনায় ছিল না। কানিজ বলেন, ‘সব সময় স্বপ্ন দেখতাম, বড় প্ল্যার্টফর্মে কাজ করব। কিন্তু আমার স্বপ্ন যে এত তাড়াতাড়ি বাস্তবে রূপ নেবে, ভাবিনি। কারণ, এখানে যাঁরা কাজ করেছেন, সবাই অনেক বড় মাপের শিল্পী, বলতে কি, সবাই আমার আইডল। প্রায় অপরিচিত একজন হিসেবে তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে পারা যেমন সৌভাগ্যের, তেমনি অনেক চ্যালেঞ্জেরও বটে। কেননা আমি যদি ভালোটা না দিতে পারি, তাহলে কোক স্টুডিওর ইমেজেও একটা প্রভাব পড়বে। কিন্তু (সংগীতশিল্পী শায়ান চৌধুরী) অর্ণব দাদাসহ সবার সহযোগিতায় আমি আমার সর্বোচ্চটা দিতে পেরেছি।’

কোক স্টুডিও বাংলার ইউটিউবে কানিজের গাওয়া ‘সব লোকে কয়’ ৪ মাসে দেখেছেন ৭২ লাখের বেশি দর্শক। শুধু ভিউয়ের বিচারেই নয়, পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকেও দারুণ প্রশংসা পেয়েছেন কানিজ।

স্নাতকোত্তরে লোকসংগীতের ওপর জোর দিচ্ছেন কানিজ। ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গানের কারণে পড়াশোনাকে কখনো বাধাগ্রস্ত করিনি। সব সময় ব্যালান্স করে চলার চেষ্টা করেছি। এত দিন যেহেতু সংগীত নিয়ে ছিলাম, বাকি জীবনও সংগীতের সঙ্গেই থাকতে চাই। আপাতত কিছু মৌলিক গানের কাজ করছি, সেগুলো প্রকাশ করব। আর যেহেতু লোকসংগীত নিয়ে পড়াশোনা করছি, তাই ইচ্ছা আছে হারিয়ে যাওয়া লোকসংগীতগুলোকে গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করে নতুন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেব।’