পুরো একটা ডায়েরি তোমার ছবি দিয়ে ভরা

যে দলের সমর্থকই হন না কেন, লিওনেল মেসির খেলা ফুটবল-ভক্তমাত্রকেই মুগ্ধ করে। কিংবদন্তিতুল্য এই ফুটবলারের বিশ্বকাপ শেষ হচ্ছে ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে। শিরোপা শেষ পর্যন্ত যাঁর হাতেই উঠুক, জাদুকরি কিছু মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য তাঁকে টুপিখোলা অভিবাদন জানানোই যায়। তাই মেসির কাছে খোলা চিঠি আহ্বান করেছিলাম আমরা। এখানে পড়ুন কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থী আঞ্জুমান সরকারের লেখা

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর দর্শক অভিবাদনের জবাবে মেসি
ছবি: রয়টার্স

প্রিয় মেসি, সব ভালোবাসার পরিণতি হয় না। তোমার প্রতি আমার ভালোবাসাও তেমনই। এখন বুঝি, এটা আসলে শ্রদ্ধা। কিন্তু এক যুগ আগেও এটা পাগলামি ছিল। ২০০৬ সাল। বোধ হয় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তোমার সঙ্গে পরিচয়। খেলা না বুঝলেও মেসি নামটাই বুঝতাম। এমনকি আব্বুকেও বলে রাখতাম, মেসি মাঠে নামলে যেন আমাকে ডেকে দেয়। আসলে আমার কাছে ফুটবল আর মেসি, দুটি অভিন্ন নাম।

আরও পড়ুন

যত বড় হতে থাকি, তোমার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে। কোন পত্রিকায় তোমার ছবি দিয়েছে, কোথায় তোমাকে নিয়ে প্রতিবেদন এসেছে, সবই আমার জানা চাই। পত্রিকায় ছাপানো তোমার ছবি কেটে ডায়েরিতে রেখে দিতাম। পুরো একটা ডায়েরি শুধু তোমার ছবি দিয়েই ভরা। তোমাকে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে কত যে তর্ক হয়েছে, হিসাব নেই। এতে অবশ্য একটা লাভ হয়েছে। আমার জন্মদিনে আমার বন্ধুরা তোমার ছবি উপহার দিত। আমি নিজের ছবি আর তোমার ছবি পাশাপাশি রাখতাম।

২০১১ সালে পরীক্ষার জন্য ঢাকা আসা হয়নি। নয়তো সেবারই তোমাকে চোখের সামনে দেখার সুযোগ হতো। অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। বন্ধুরা তো মজা করে মেসির বউ বলেই ডাকত। এখন অবশ্য পাগলামী কিছুটা কমেছে, কিন্তু ভালোবাসা একই আছে। তোমার পেনাল্টি শট দেখতে আমার ভয় করে। চোখ বন্ধ করে রাখি।

হয়তো কোনো দিন সরাসরি দেখার ভাগ্য হবে না। কিন্তু জেনে রেখো, দূর থেকে শুভকামনা পাঠাব সারা জীবন। আমার চোখে তুমিই সেরা।

আঞ্জুমান সরকারে
ছবি: সংগৃহীত