ডেভিড বেকহামের খামারবাড়িতে কী নেই

তিন মহাদেশে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২টি বাড়ি কিনেছেন সাবেক ফুটবলার ডেভিড বেকহাম ও স্পাইস গার্লসখ্যাত গায়িকা ও ফ্যাশন ডিজাইনার ভিক্টোরিয়া বেকহাম। কিছু বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন, কিছু এখনো আছে। এর মধ্যে ‘কটসওল্ডস এস্টেট’টা মনে হয় তাঁদের একটু বেশিই প্রিয়। করোনার সময় থেকে খামারবাড়িটির নানা রকম ছবি ও তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে আসছেন বেকহাম দম্পতি। সেই সময় থেকেই নিবিড়ভাবে বাড়িটির বিবর্তন ফলো করছেন হাসান ইমাম

খামারবাড়িতে পোষ্যদের সঙ্গে স্যার ডেভিড বেকহামছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

ডেভিড–ভিক্টোরিয়া দম্পতির চার সন্তান—তিন ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। বাকি তিন সন্তানকে নিয়ে হল্যান্ড পার্কের বাড়িতে থাকেন বেকহাম দম্পতি। লন্ডনের বিলাসবহুল এই বাড়িতে থেকেও একটা গ্রামীণ বাড়ির জন্য টান অনুভব করছিলেন ডেভিড। তারই খোঁজে ২০১৬ সালে হঠাৎ একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে পড়েন। প্রায় ছয় মাস ধরে খুঁজেও মনমতো জায়গা না পেয়ে প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। একদিন অক্সফোর্ডশায়ারের চিপিং নরটনের একটি গ্রামের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন।

এলাকাটিকে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামীণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মেগান মার্কেলকে বিয়ের পর ব্রিটিশ রাজা চার্লসের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি এই এলাকারই একটি বাড়িতে উঠেছিলেন। এ ছাড়া তারকাদের কাছে জনপ্রিয় সোহো ফার্মহাউস বেকহামদের বাড়ির কাছেই।

বেকহামের গাড়িটি কটসওল্ডস এলাকায় আসতেই দেখেন, দুটি ক্ষতিগ্রস্ত বার্ন হাউস (শস্যাগার), একগাদা ইট ও ময়লা–আবর্জনার পাশে একদল লোক দাঁড়িয়ে। গাড়ি থামিয়ে তাঁদের উদ্দেশে হাঁক দিলেন বেকহাম, ‘হেই, এখানে কী হচ্ছে?’ তাঁরা জানালেন, শস্যাগার সারাইয়ের চেষ্টা করছেন। সঙ্গে সঙ্গে বেকহাম বললেন, ‘কাজ বন্ধ করো।’ এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে ২৬ একর জায়গাসহ খামারবাড়িটা কিনে নেন ডেভিড বেকহাম।

এই এলাকাটিকে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সুন্দর গ্রামীণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

বাড়িটি বেকহাম যখন কেনেন, তত দিনে বিশাল খরচ করে লন্ডনের নতুন বাড়িতে উঠে গেছেন ডেভিড-ভিক্টোরিয়া। এরপরই দূরের এক গ্রামে এস্টেট কেনাটা যে ভিক্টোরিয়া ভালোভাবে নেবেন না, সেটা ডেভিডও বুঝতে পেরেছিলেন। তাই সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলারে নতুন জায়গাটি কেনার খবর ভিক্টোরিয়াকে দিয়েছিলেন কিছুটা নাটকীয় ঢঙে। হাসতে হাসতে ডেভিড বেকহাম বলেন, ‘তাকে (ভিক্টোরিয়া) খবরটি জানানোর আগে আমি একটি জায়গায় বসালাম। তারপর একটি রিফ্রেশিং ড্রিংকস হাতে ধরিয়ে দিয়ে জানালাম, “আমি এটা কিনে ফেলেছি।”’

কটসওল্ডসে কী আছে

একটি ঘর আগে থেকেই ছিল, সেখানে আরও নতুন দুটি ঘর যুক্ত করেন ডেভিড
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

কেনার পর স্ত্রী ও সন্তানদের জায়গাটি দেখাতে নিয়ে যান ডেভিড। প্রথমবার ঘুরিয়ে এনে বলেন, ‘কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোমরা আর এখানে এসো না।’ তারপর ১৪ মাস এখানে টানা কাজ করেছেন ডেভিড বেকহাম। এই সময়ে আগের দুটি বাড়ির সঙ্গে একই আদলে আরেকটি নতুন বাড়ি তৈরি করিয়েছেন। একই সঙ্গে বিখ্যাত বাগান নকশাকার মার্কাস বার্নেটকে দিয়ে দারুণ এক বাগান তৈরি করিয়েছেন। মার্কাস লন্ডনের বিখ্যাত চেলসি ফ্লাওয়ার শোতে তিনবার পদক জেতা গার্ডেন ডিজাইনার।

১৪ মাস পর পরিবার নিয়ে আবার সেখানে যান ডেভিড। এবার দেখে সবাই মুগ্ধ। এই খামারবাড়িতে থাকতে ভিক্টোরিয়ার কেমন লাগে? সাংবাদিকের এক প্রশ্নে একবার ডেভিড বেকহাম বলেছিলেন, ‘এখানে থাকতে সে খুবই পছন্দ করে। জায়গাটিকে সে ভালোবাসে। এই বাড়িতে এলেই সে লম্বা সময় ধরে ঘুমায়, বই পড়ে, বিকেলে সন্তানদের নিয়ে গ্রামের পথে হেঁটে বেড়ায়।’

খামারবাড়িটি যখন একটু একটু করে তৈরি হচ্ছিল
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

কেনার সময় জায়গাটিতে শুধুই একটা পাইনগাছ ছিল। ১০ বছর পর সেই জায়গাই ফুলে–ফলে ঘেরা এক অভিজাত হলিডে হোমে পরিণত হয়েছে। ফুলের বাগান ছাড়াও এখানে এখন আছে নানা রকম শাকসবজি, বেরি আর মসলার বাগান, সুইমিংপুল, ফুটবল মাঠ, মৌবাগান, বিলাসবহুল ট্রি হাউস, স্পাসহ নানা রকম সুবিধা। জলচর পাখিরা যেন অবাধে বিচরণ করতে পারে, সে জন্য তৈরি করা হয়েছে একটা চমৎকার জলাশয়। সেখানে যত্নে বেড়ে ওঠা শেওলা আর জলজ উদ্ভিদ যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা।

ছুটি কাটাতে খামারবাড়িতে নিয়মিত আসেন ডেভিড বেকহাম ও ভিক্টোরিয়া
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

সাধারণত এই কটসওল্ডস এস্টেটেই কাটে বেকহামদের উইকেন্ড। প্রতি শুক্রবার সকালে আগে চলে আসেন ডেভিড, দুপুরের দিকে সন্তানদের নিয়ে আসেন ভিক্টোরিয়া। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত থেকে আবার লন্ডনের বাড়িতে ফিরে যান তাঁরা। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বন্ধুদের কেউ না কেউ আসেন আর মুগ্ধ হয়ে ফিরে যান। এই বাড়িতে যাঁরাই অতিথি হয়েছেন, একটা বিষয়ে কমবেশি তাঁরা সবাই একমত, বাড়িগুলোর যতটা যত্ন নেওয়া হয়েছে, একইভাবে যত্ন নিয়ে সাজানো হয়েছে বাগান ও খোলা মাঠ।

বাড়িগুলো যেমন

ফার্মহাউসের সবজি ও ফুলের বাগান
ছবি: কান্ট্রি লাইফ ম্যাগাজিনের ইনস্টাগ্রাম থেকে

পুরোনো বার্নহাউস দুটির আদলে নতুন আরও একটি বাড়ি বানিয়ে পুরো আবাসিক এরিয়াটি দেখতে ইংরেজি ‘E’ অক্ষরের মতো হয়েছে। বাড়ির ছাদগুলো অনেকটা বাংলাদেশের দোচালা স্টাইলে গড়া। ঘরে প্রবেশের পরই চোখে পড়বে এন্ট্রান্স হল। যেখানে কিছুটা সংস্কার করে পুরোনো বার্নহাউসের কাঠামোই রাখা হয়েছে। পাথরের দেয়াল আর কাঠের বিম অন্দরে অনেকটা গ্রামীণ এলিগেন্ট চেহারা দিয়েছে। পুরো বাড়িতেই বড় বড় আর্টওয়ার্ক ঝোলানো আর স্টেটমেন্ট লাইটিং করা।

বাড়ির অন্দরে অতিথিদের নিয়ে বেকহামের ৫০তম জন্মদিন উদযাপন
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

বাড়িতে ডেভিড–ভিক্টোরিয়ার মাস্টার বেডরুম ছাড়াও চার সন্তানের জন্য আলাদা রুম আছে। অতিথিদের থাকার জন্যও আলাদা ঘর আছে। মাস্টার বেডরুমের দরজাটা মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত উঁচু, যা এই সময়ের ট্রেন্ড। এই দরজা খুললেই বাইরের আলো এসে অন্দর ঝলমল করে, আর সামনে চোখ মেললেই ফুলের বাগান। যে বাগানের গোলাপ দিয়েই ডেভিডের ৫০তম জন্মদিনের বেশির ভাগ টেবিল সাজানো হয়েছিল। নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র বেকহাম–এ এই বাড়ির অনেকটাই দেখানো হয়েছে ক্লোজ শটে। সেখানে দেখা যায় অন্দরে আরামদায়ক সোফা, কোজি বসার জায়গাসহ নানা রকম উপকরণে সাজানো দেয়াল। প্রতিটি বেডরুমের সঙ্গেই আছে লাগোয়া ওয়াশরুম।

আরও পড়ুন

প্রকৃতিপ্রেমী বেকহাম

নিজ হাতে নানা রকম গাছের চারা রোপন করেছেন বেকহাম
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

এই বাড়ির দরজা ও গাঢ় ধূসর কাচের জানালা যেন আধুনিক সময়েরই প্রতিনিধিত্ব করে। তবে ষোলো শতকে তৈরি হেরিটেজ বাড়িগুলোর সঙ্গে তার কোনো বিরোধ যেন নেই। দরজা বা জানালাগুলো খুললেই যেদিকে চোখ যায়, নানা রকম ফুল ও শোভাবর্ধক গাছপালায় ঘেরা বাগান।

ডেভিড বেকহাম বলেন, ‘আমি আর ভিক্টোরিয়া হার্টফোর্ডশায়ারের যে বাড়িতে থাকতাম, সেখানে তো ১০০ একর জায়গা ছিল। কিন্তু সেখানকার গাছপালার প্রতি তেমন মনোযোগ দিইনি। অথচ এখানে আসার পর থেকে আমি যেন বৃক্ষপ্রেমী হয়ে গেছি। বিশেষ করে লকডাউনের পুরোটা সময় আমি গাছপালা নিয়ে মেতে ছিলাম। তবে সব সময় আমি গাছ ভালোবাসি, বিশেষ করে ওক।’

খামারবাড়িতে ডেভিড ও ভিক্টোরিয়া
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

বাড়িটির পূর্ব দিকে গাছপালাঘেরা দুটি লম্বা পাখার মতো জায়গার শেষভাগে সুইমিংপুল, যা প্রকৃতির সঙ্গে দারুণভাবে মিশে গেছে। বিলাসী জীবন ফেলে গ্রামীণ পরিবেশ আর প্রকৃতির প্রতি ডেভিডের এই টান অনুভবের কারণও নাকি বহু পুরোনো। ডেভিড বেকহাম বলেন, ‘আমি পূর্ব লন্ডনের ছেলে। যেখানে এপিং ফরেস্ট (লন্ডনের বিশেষ বনাঞ্চল) ছাড়া গ্রামীণ জীবনের কিছু জানার সুযোগ তেমন ছিল না। প্রকৃতির প্রতি এই ভালোবাসা হয়তো আমার নানার কাছ থেকে পেয়েছি। মনে পড়ে, ফুটবল খেলতে গিয়ে তাঁর বাগানের গোলাপের ডগা ভেঙে দিতাম। আর এখন ভিক্টোরিয়া ভালোবাসে দেখে খামারবাড়িতে তার পড়ার ঘরের জানালার পাশে চেরি ব্লসম লাগিয়েছি। তবে এখনো আমি সব ধরনের গাছ চিনি না।’

মৌমাছিদের খামারও আছে এই বাড়িতে
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

শুরুতে একটি ম্যাপলগাছ থাকলেও ১০ বছরে এখানে লাগানো হয়েছে শত শত গাছ। যার মধ্যে আছে ম্যাপল, পাইন, ওক, ইয়ো, বিচ। শুরুতে বাড়ির লাগোয়া জায়গাগুলোতে বাগান তৈরির কাজটি করেছিলেন মার্কাস বার্নেট। পরে বাকি জায়গাগুলোতে ডেভিড নিজেই বনায়ন করেছেন। যেটাকে তিনি ‘মানসিক প্রশান্তি’ হিসেবে দেখেন। প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো নতুন আইডিয়া নিয়ে কটসওল্ডস এস্টেটে ফেরেন ডেভিড বেকহাম, ‘জায়গাটি নিয়মিত পরিষ্কার ও গোছগাছ করতে ভালোবাসি। এখানে এসে বাগান থেকে প্লাম তুলে সেটা দিয়ে জ্যাম বানিয়ে পাউরুটির ওপর লাগাতে পারলেই স্বর্গের সুখ পাই।’

  জলাশয় ঘিরে

জলাশয়ের পাড়ে আছে ল্যাভেন্ডারের বাগান
ছবি: কান্ট্রি লাইফ ম্যাগাজিনের ইনস্টাগ্রাম থেকে

জলচর পাখির আনাগোনা বাড়াতে পাঁচ বছর আগে করোনার সময় এখানে তৈরি করা হয় একটি জলাশয়। কাঠের বাঁকানো পথ দিয়ে এটি ঘেরা। এই পথ আবার জলাশয়ের মধ্যে ছোট্ট দ্বীপে একটা ঘরে গিয়ে মিশেছে। পুরোটাকে দেখলে মনে হবে যেন ফিতা দিয়ে সুন্দর করে বাঁধা ল্যাভেন্ডারের আঁটি (কেউ কেউ অবশ্য বেকহামের স্বাক্ষরের আদল বলে মনে করেন)। গত বছর ডেভিড বেকহামের ৫০তম জন্মদিনে এক বন্ধুর কাছ থেকে উপহার পাওয়া সাতটা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ডেভিডের জার্সির নম্বর) হাঁস এখানে চরে বেড়ায়।

ইগলু আকৃতির ঘরে সনা বাথ নেওয়ার ব্যবস্থা আছে
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

আগে থেকেই আছে একদল কানাডিয়ান রাজহাঁস ও আরও কিছু অন্য প্রজাতির হাঁস। এই জলাশয়ের পাশে ফুলের বাগানের কাছেই আছে বি গার্ডেন (মৌবাগান), যেখান থেকে নিয়মিত মধু আহরণ করে বেকহাম পরিবার।

খামারবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা মধু বয়ামে ভরা হচ্ছে
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

কয়েক মাস আগে বেকহামদের এই খামারবাড়িতে গিয়েছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অ্যালান টিচমার্শ। আর সেখান থেকে উপহার পাওয়া ‘গোল্ডেন বিজ’ মধুর বয়ামের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ারও করেন। বয়ামে লেবেলের নিচ দিকে ছোট করে লেখা, ‘মেড ইন আওয়ার গার্ডেন বাই ড্যাড অ্যান্ড ক্রুজ।’ ড্যাড মানে বেকহাম আর ক্রুজ তাঁর ছোট ছেলে।

জলাধারের পাশে আরও একটি ছোট্ট বসার জায়গা আছে। সেখানে উড–ফায়ার হট–টাব বসিয়ে ঠান্ডা পানিতে উষ্ণতা খোঁজা ছাড়াও ইগলু আকৃতির ঘরে সনা বাথ নেওয়ার ব্যবস্থা আছে।

  চাষ করা শাকসবজি

নানা রকম গাজর আছে এই বাগানে
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

মৌমাছির বাগানের পাশেই সুন্দর ওকগাছের ডাল দিয়ে ঘেরা গরু–ছাগলের খামার। আরেক পাশে কাঠের সাদা বেড়া দিয়ে ঘেরা কিচেন গার্ডেন। যার মধ্যে এস্পেলিয়ার (ছেঁটে বিশেষ শেপ দেওয়া) করা প্লাম ও পিয়ারগাছের পাশে বেড়ে উঠেছে কেইল, পেঁয়াজ, আলু, রসুন, গাজরসহ নানা রকম সবজি। বিভিন্ন সময়ে এই কিচেন গার্ডেনের গাজরের ভিডিও পোস্ট করতে দেখা যায় ডেভিডকে। এই বাড়িতে থাকার সময় ফার্মহাউসের সবজিতেই রান্না হয় তিন বেলার খাবার, আবার লন্ডনে ফেরার সময় গাড়িতে তাঁদের সঙ্গে চেপে বসে শাকসবজির ঝুড়ি।

গ্রিনহাউসের সামনে মিষ্টি আলু দেখাচ্ছেন বেকহাম
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

এখানে আরও আছে একটি বড়সড় গ্রিনহাউস। মাঝখানে ২০ জনের বসার ব্যবস্থাসহ বিশাল একটি টেবিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেকহাম পরিবারকে যাঁরা ফলো করেন, টেবিলটি তাঁদের চেনার কথা। কারণ, নানা সময় অতিথি আপ্যায়নে এই টেবিলের ব্যবহার চোখে পড়ে। এখান থেকে বেরিয়ে ধনুক আকৃতির পথ দিয়ে হেঁটে সামনে গেলেই আরেকটি গ্রিনহাউস। সেখানে বেড়ে উঠছে টমেটো, মরিচ, বেলপেপার, শসা, সুগন্ধি পাতা।

কাছেই ছোট্ট মুরগির খামার। নানা প্রজাতির মুরগি আছে। ছুটে বেড়াচ্ছে, খুঁটে খাচ্ছে, ঠোকাঠুকি করছে, আবার সন্ধ্যা হলেই ঘরে ঢুকছে।

ছেলেদের সঙ্গে রান্না রান্না করছেন ডেভিড বেকহাম
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

জমির বিভিন্ন অংশ নানা রকম বসার জায়গা ও একাধিক দৃষ্টিনন্দন ফায়ারপিট (আগুন জ্বালানোর জায়গা)। তেমনই একটা বসার জায়গার পাশে বিশাল বড় এক আধখোলা তাঁবু। মূলত এটা ডেভিড বেকহামের ওয়াইল্ড কিচেন (জঙ্গলের মধ্যে রান্নার জায়গা)। বিখ্যাত দ্য ক্যাশমিয়ার কেভম্যান কোম্পানির তৈরি এই কিচেনে চকচকে তামার টেবিল আর ঝকঝকে চুলা বসানো আছে। আর ডেভিড তো বিভিন্ন সময়েই বলেন, ‘মানসিক প্রশান্তির জন্য রান্না করতে সবচেয়ে ভালোবাসি।’

একটু একটু করে গড়ে তোলা এই হলিডে হোম এখন শুধু ব্রিটেনেই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তের ধনী পরিবারের কাছেই আদর্শ ফার্মহাউস। ১০ বছর ধরে ভালোবাসা আর মমতা দিয়ে এটিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন ডেভিড–ভিক্টোরিয়া।

আরও পড়ুন