ফিলিপাইন ভ্রমণে যাচ্ছেন? আপনার জন্য ১০ পরামর্শ
সাত হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে ফিলিপাইন। নীলাভ-সবুজ জলরাশি, সাদা বালুর সৈকত, সমুদ্র থেকে উঠে আসা প্রবালপাহাড় আর দারুণ সব স্কুবা ডাইভিং সাইটের জন্য বিখ্যাত এই দ্বীপরাষ্ট্র। ইদানীং বাংলাদেশিদেরও জনপ্রিয় এক গন্তব্য হয়ে উঠেছে ফিলিপাইন। সেখানে আপনার সফর সহজ করতে ১০ পরামর্শ দিয়েছেন বাবর আলী
ভিসা
ফিলিপাইনে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা লাগে। নির্ভরযোগ্য ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসমেত আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে মেলে স্টিকার ভিসা। ভিসা বাবদ খরচ হতে পারে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া যাত্রার তিন দিন আগে ই-ট্রাভেল ফরম (etravel.gov.ph) পূরণ করতে হবে। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি। ইমিগ্রেশনে সময়ক্ষেপণ ও ঝক্কি এড়াতে এই ফরম পূরণ করে রাখাটা অতীব জরুরি।
বিমান পরিবহন
বাংলাদেশ থেকে ফিলিপাইন যাওয়ার সরাসরি কোনো ফ্লাইট এখন পর্যন্ত নেই। সব ফ্লাইটেই ন্যূনতম একটি ট্রানজিট থাকে। চায়না সাউদার্ন, থাই এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, এয়ার এশিয়াসহ বেশ কিছু ফ্লাইট একটি বিরতিসহ ঢাকা–ম্যানিলা নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। ট্রানজিটে ক্ষেত্রবিশেষে তিন থেকে আট ঘণ্টা অন্য দেশের এয়ারপোর্টে কাটাতে হয়।
নিতে হয় অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট
ফিলিপাইন ভালোমতো ঘুরে দেখতে চাই ১২ থেকে ১৫ দিন সময়। যেহেতু এটি একটি দ্বীপপুঞ্জ, তাই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটই ভরসা। কিছু ক্ষেত্রে ফেরিতেও যাওয়া যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফেরির টিকিট আর আগেভাগে করে রাখা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিটের দাম কাছাকাছি। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য ফিলিপাইনে অনেক বাজেট এয়ারলাইনস আছে। তার মধ্যে এয়ার এশিয়া, সেবু প্যাসিফিক ও ফিলিপাইন এয়ারলাইনস অন্যতম।
জলক্রীড়ার স্বর্গ
জলের ওপর বা নিচ থেকে সমুদ্র দেখার জন্য আদর্শ জায়গা ফিলিপাইন। পুরো দেশের নানা দ্বীপজুড়েই আছে স্নরকেলিং কিংবা স্কুবা ডাইভিংয়ের দারুণ সব জায়গা। কায়াকিং, র্যাফটিং ইত্যাদির সুব্যবস্থাও আছে। যাঁরা ওয়াটার অ্যাকটিভিটি করতে চান, ফিলিপাইন তাঁদের ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা।
জীববৈচিত্র্যের দেশ
ফিলিপাইন অতি বৈচিত্র্যময় দেশ। প্রাণী কিংবা উদ্ভিদ—দুই ক্ষেত্রেই কথাটা সত্য। প্রচুর স্থানীয় উদ্ভিদ ও প্রাণী আছে। বোহলের বনে যেমন দেখতে পাবেন অতি ক্ষুদ্র প্রাইমেট টারসিয়ের, তেমনি এই দ্বীপপুঞ্জের জলে মিলবে বৃহদাকার হোয়েল শার্কের দেখা। ঘন সন্নিবিষ্ট প্রাকৃতিক বনের পাশাপাশি মিলবে মনুষ্যসৃষ্ট বন।
বর্ণিল সব খাবার
নানা দ্বীপপুঞ্জের সমষ্টি বলে খাবারেও আছে বৈচিত্র্য। বাংলাদেশিদের মতো ফিলিপিনোদেরও প্রধান খাবার ভাত। ফিলিপাইনের জাতীয় খাবার ‘অ্যাডোবো’-তে ভাতের সঙ্গে যুক্ত করা হয় নানা রকমের মাংস। পানিবেষ্টিত থাকায় ফিলিপিনো কুইজিনে প্রচুর সামুদ্রিক খাবারও উপস্থিত থাকে। হালাল খাবারের জন্য ‘জলিবি’র মতো ফুড চেইনগুলোর ওপর ভরসা করতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে দারুণ লেগেছে ফিলিপাইনের বেকারি। এত স্বল্প মূল্যে এত দারুণ স্বাদের খাবার আমাদের দেশে কল্পনাও করা যায় না।
আবহাওয়া
ফিলিপাইনে ওভাবে শীত নেই। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কমে মাত্র। বছরজুড়েই গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকে। তবে ভ্রমণের জন্য অপেক্ষাকৃত শুষ্ক মৌসুম বেছে নেওয়াই ভালো। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল অবধি ফিলিপাইনের আবহাওয়া শুষ্ক থাকে। এরপরই শুরু হয় বর্ষা মৌসুম। বর্ষায় ফিলিপাইনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ঘূর্ণিঝড়। প্রতিবছরই টাইফুনে আক্রান্ত হয় ফিলিপাইনের নানান দ্বীপ। তাই জুলাই থেকে অক্টোবর অবধি সময়টা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
বাহন
মোটরসাইকেল কিংবা স্কুটি চালাতে জানলে ফিলিপাইনে ঘোরাঘুরিটা সহজ হয়ে যায়। বেশির ভাগ দ্বীপে স্কুটি ভাড়া পাওয়া যায়। পাসপোর্ট ও বৈধ লাইসেন্স জমা রেখে খুবই স্বল্প মূল্যে আধা দিন কিংবা পুরো দিনের জন্য ভাড়া নেওয়া যায় এসব স্কুটি। একজন বা দুজনের জন্য গাড়ি ভাড়া করার চেয়ে স্কুটিতে ঘুরলে বড় অঙ্কের মুদ্রা সাশ্রয় হয়। আর গণপরিবহন হিসেবে জিপনি (একধরনের ছোট বাস) ফিলিপাইনে খুবই জনপ্রিয়।
ভাষা
একসময় স্পেনের উপনিবেশ থাকলেও ফিলিপাইনে ইংরেজির চল খুব বেশি। ইমিগ্রেশন অফিসার থেকে শুরু করে পথের ধারের খাবার বিক্রেতা—সবাই বেশ ভালো ইংরেজি বলে। ইংরেজি জানা থাকলে ভাষা নিয়ে কোনো মুশকিলে পড়তে হবে না।
রুটম্যাপ
ম্যানিলা থেকে আকাশপথে বোহল হয়ে শুরু করা যেতে পারে ফিলিপাইন ভ্রমণ। ধীরে ধীরে অসলব, মোলবোল, সেবু, পালাওয়ান, এল নিডো, কোরন হয়ে আবার ম্যানিলায় শেষ করা যেতে পারে যাত্রা। তবে উল্টো দিক থেকে ম্যানিলা হয়ে কোরন থেকেও যাত্রা শুরু করা যেতে পারে। ওয়াটার অ্যাকটিভিটিতে আগ্রহী ব্যক্তিরা এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন বোরাক্যায় আইল্যান্ড কিংবা তুব্বাহাতা রিফ।