default-image

মৌলভীবাজারের আরেক উপজেলা কমলগঞ্জ থেকে আসা পিচঢালা রাস্তাটা গ্রামের ভেতর দিয়ে গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্টের সামনের মূল সড়কে মিশেছে। সাতসকালে আমরা সে রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করি। কেবল ঘুম থেকে উঠতে শুরু করেছে মানুষ। তবে দৃষ্টি কাড়লেন ঠেলাওয়ালারা। হরেক পণ্য নিয়ে শ্রীমঙ্গল শহরে যাচ্ছেন তাঁরা। কারও ঠেলায় কলা, কারও আনারস। কেউ বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কাঁঠাল। রাধানগরে ছোটখাটো একটা বাজার আছে। ঠেলাওয়ালাদের কেউ কেউ সেখানেও থেমেছেন। তাঁদেরই একজন মো. ফরিদ। ভোরের আলো ফোটার আগেই কমলগঞ্জের এক গ্রাম থেকে শ্রীমঙ্গলের পথ ধরেছেন তিনি। সকালে পৌঁছেছেন রাধানগর। শহর তখনো চার কিলোমিটারের পথ। চা-বিড়ির বিরতি শেষে সে পথেই হাঁটা ধরেন ফরিদ। আমরাও তাঁদের পথ ধরে সামনে এগোই।

default-image

পথেই একটা সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিই। বাংলাদেশের কয়েকটি সুন্দর রাস্তার মধ্যে আমার তালিকায় শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানঘেরা রাস্তাটাও আছে। বৃষ্টির পর চারপাশটা একেবারে সবুজ হয়ে আছে। লাউয়াছড়া অরণ্যের রাস্তা ধরে কমলগঞ্জের ভেতরের কয়েকটা চা-বাগানে চক্কর দিই। এরপর ফিরে আসি রিসোর্টে। রুমে ঢুকতেই আবারও বৃষ্টি শুরু।

নাশতা করে সকালের ট্রেনে ঢাকায় ফেরার কথা। কিন্তু ঝুম বৃষ্টিতে না ভিজে ঢাকায় ফেরাটা ঠিক মেনে নিতে পারলাম না! তাই দৌড় দিলাম রিসোর্টের সবুজ আঙিনায়।

‘চৌষট্টি চক্কর’ নামে দেশ ঘোরার যে ভ্রমণযাত্রা আমরা শুরু করেছি, তারই পঞ্চম চক্কর শ্রীমঙ্গল। বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দে যাত্রাটা পূর্ণতা পেল। নাশতা শেষে ভেজা কাপড় ব্যাগে ভরে চলে এলাম বাসস্ট্যান্ডে। বাসে উঠেই ঘুম। মাঝে ঘুম ভেঙেছে দু-একবার। শেষবার ঘুম ভাঙলে দেখি আবারও সেই ঢাকা!

default-image

জেনে নিন

ঢাকা থেকে ট্রেন ও বাসে যেতে পারেন শ্রীমঙ্গল শহরে। সকাল, দুপুর ও রাতে ঢাকা থেকে চারটি আন্তনগর ট্রেন শ্রীমঙ্গল স্টেশন হয়ে সিলেটে যায়। দেশের বিভিন্ন রোডে ট্রেনের টিকিটের সংকট থাকলেও এ রোডে নিয়মিত টিকিট মেলে। বাসে যেতে চাইলে মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে সারা দিনই বিভিন্ন পরিবহনের এসি ও নন-এসি বাস পাওয়া যায়। হোটেল কিংবা রিসোর্টের রুম আগে থেকে নিশ্চিত করে যাওয়া ভালো।

ভ্রমণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন