বইয়ের সূত্র ধরেই তাহলে অনুসন্ধান করেছেন...

জন র‌্যাডফোর্ড ও সুসান মারিয়া ফারিংটনের ‘টুমস ইন টি’তে জেমস ফিনলের মালিকানাধীন বাগানগুলোর সমাধির বর্ণনা আছে। বইটা সাহস জুগিয়েছে। বইতে যা রয়েছে, সেগুলো আগে খুঁজেছি। তারপর একটি এলাকায় যখন গিয়েছি, সেখানকার শিক্ষক, সাংবাদিক, স্থানীয় লেখকদের কাছে নতুন কোনো তথ্য পেলে খুঁজে দেখেছি। যে যখন যেভাবে তথ্য দিয়েছে, সময়কাল বিবেচনা না করে সেখানে ছুটে গিয়েছি। এ জন্য মাঝেমধ্যে কিছু বিভ্রান্তকর তথ্যও পেয়েছি।

বইয়ের বাইরে নতুন কিছু পেয়েছেন?

বইয়ে বর্ণিত অনেক কিছু লুপ্ত হয়েছে। অনেক সময় জায়গাটিও খুঁজে পেতে দুষ্কর হয়েছে। আবার জায়গাটি পেলেও দেখা গেছে সমাধি নাই হয়ে গেছে। যেমন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পাত্রখোলা টি-এস্টেট সিমেট্রি সম্পর্কে বইয়ে উল্লেখ আছে, কিন্তু বর্ণিত জায়গাটিই শনাক্ত করতে পারিনি। সেখানে সড়ক তৈরি হয়েছে, স্থানীয় লোকজন বলছেন, কেউ কোনো সমাধি দেখেননি। কানাইঘাটের লোভাছড়া চা-বাগান ও চুনারুঘাটের আমু টি-এস্টেটে এমন দুটি সমাধি পেয়েছি, যার উল্লেখ র‌্যাডফোর্ডদের বইতে নেই।

প্রামাণ্যচিত্রটি সম্পর্কে কিছু বলুন...

‘টুমস: টি প্লান্টারস সিমেট্রিজ ইন সিলেট’ ৩০ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত এটা নিয়ে কাজ করেছি। সমাধিভূমিগুলো সংরক্ষণ ও পর্যটন আকর্ষণের জন্য নিজ উদ্যোগে এটি নির্মাণ করেছি।

সমাধিক্ষেত্র পর্যটনের গুরুত্ব কতখানি?

পৃথিবীজুড়ে সমাধিস্থল জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সব থেকে বড় উদাহরণ মিসরের পিরামিড ও আগ্রার তাজমহল। আর টি-প্লান্টারসদের সমাধি পৃথিবীর সব দেশেও নেই। বিশ্বে চা উৎপাদনকারী দেশ রয়েছে মাত্র ৩৫টি। এই সমাধিভূমিগুলোর কথা জানলে বিদেশি পর্যটকেরা বাংলাদেশ ভ্রমণে আগ্রহী হবেন। এখানে যাঁরা শায়িত আছেন, তাঁদের অনেক উত্তরসূরি রয়েছেন, যাঁরা সমাধিভূমিগুলো পরিভ্রমণে আসতে পারবেন।

আপনি তো আরও কয়েকটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন...

‘টুমস’ আমার চতুর্থ প্রযোজনা। আগের তিনটিও ইতিহাসনির্ভর। ভ্রমণ করতে গিয়েই খুঁজে পাওয়া বিষয়বস্তু ও চরিত্র নিয়ে কাজ করতে আনন্দ পাই। তাই এগুলোকে বলছি ট্রাভেল ডকুমেন্টারি। এ ধরনের প্রামাণ্যচিত্রের আলাদা ক্ষেত্র তৈরি হয়নি দেশে। আমি আশাবাদী, ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই হবে। শুধু ট্রাভেল ডকুমেন্টারি নয়, হেরিটেজ ট্যুরিজমেরও বিকাশ হবে বাংলাদেশে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সজীব মিয়া