গত ১৩ আগস্ট রাতে আমরা রওনা দিই সুনামগঞ্জের উদ্দেশে। এ যাত্রার সমস্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন হিল্লোল শেখর সমাদ্দার দাদা। এ যাত্রায় আরও নতুন কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। সুনামগঞ্জে নেমে সকালের নাশতা করে আমরা রওনা দিই তাহিরপুরের দিকে। হাওর আর পাহাড়ের মেলবন্ধন যে এত সুন্দর আর মনোমুগ্ধকর হতে পারে, জানা ছিল না। ভ্রমণে আমাদের জন্য নির্ধারিত বোটের নাম ছিল ‘কিশতি’। নামটা কিছুটা অন্য রকম। এ ছাড়া ‘জলতরঙ্গ’, ‘গল্পতরী’, ‘হাওর বিলাস’ ইত্যাদি নানা রকম সুন্দর নামে বোট ছিল ২০০টির মতো। তাহিরপুর আসার পথে হাওরে নেমে গোসল করে নিই। চারপাশের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখে আমাদের একজন বলেই বসল, সুইজারল্যান্ড চলে এসেছি আমরা।

সত্যিই! আমাদের দেশটা কত সুন্দর। অথচ আমরাই অনুভব করতে পারি না। সেদিন ঘোরার পাশাপাশি দুপুরের খাবারে ছিল হাওরের রুই মাছ, ভাত, ভর্তা। আর রাতে ছিল হাঁসের মাংস, ভাত, ডাল, ভর্তা, ছোট মাছ। আর কী লাগে! তবে সেদিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল বৃষ্টি। তার আগে আকাশের কালো মেঘের পাহাড়ের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার দৃশ্য কখনো ভোলার নয়। বৃষ্টি থামার পর আমাদের নৌকা হাওরের মাঝে নিয়ে যাওয়া হয়। ধীরে ধীরে পরিষ্কার আকাশে উঠে আসে চাঁদ! সেই চাঁদের আলোয় আড্ডা দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিন।

পরের দিন মোটরবাইকে করে বারিক্কাটিলা। ১৬ জনের জন্য ৮টা বাইক। বাজারের মধ্যে দিয়ে, এক পাশে পাহাড় রেখে আমরা এগিয়ে যাই। বর্ডারের কাছ দিয়ে জাদুকাটা নদী, মেঘালয়ের পাহাড়—সব মিলিয়ে পরিবেশটা ঠিক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে জাদুকাটা নদীতে পাথর তোলার দৃশ্য কেন যেন ভালো লাগল না। এভাবে অনেক সুন্দর কিছুই আমরা নিজ হাতে নষ্ট করে ফেলি। আবার পাহাড়ের অর্ধেক বাংলাদেশে, বাকিটা ভারতে—এই ভাগাভাগিও কেমন যেন অদ্ভুত। এরপর আমরা গেলাম লাকমাছড়া। পানিতে পা ভেজাতে বরাবরই আমার ভালো লাগে। সেখানেও এত ব্যতিক্রম হয়নি। ওখানের স্থানীয় ছোট্ট একটা মেয়ের সঙ্গে পরিচিত হই আমরা, নাম তার সুফিয়া। সে ওখানকার স্কুলে পড়াশোনা করে। পরিবারসহ সেখানেই থাকে। সব মিলিয়ে সুন্দর কিছু সময় নিয়ে আমরা ফিরে আসি। নৌকায় ফেরার পথে আরেকবার গোসল করে নিই। তারপর নৌকা থেকে নেমে সুনামগঞ্জ ফিরে এসে রাতের বাস ধরে ঢাকায় আসি।

সব মিলিয়ে দুইটা দিন স্বপ্নের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। দলের অনেকের সঙ্গে যে প্রথম সাক্ষাৎ, ফেরার সময় তা ভুলেই গিয়েছিলাম, যেন অনেক দিনের পরিচয়! এখনো ছবিগুলো দেখলে মনে হয়, কত সুন্দর সময় কাটিয়েছি আমরা।