সেন্ট মার্টিনে এবার রাতযাপন করা যাবে কত দিন, ট্রাভেল পাস লাগবে কি?

সেন্ট মার্টিন দ্বীপছবি : আবুল হাসনাত

দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। তবে রাতযাপন করা যাবে শুধু ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে। দ্বীপে যেতে পর্যটকদের নিতে হবে ট্রাভেল পাসও।

আজ ২৫ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

তবে এবার দ্বীপে পর্যটক যাওয়ার দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবেন। প্রত্যেক পর্যটককে দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পথে পর্যটকবাহী একটি জাহাজ
ছবি: প্রথম আলো

গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। ওই সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আজ ২৫ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছে।

২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবেন। একই দিন ফিরে আসতে হবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান ‘প্রথম আলো’কে বলেন, ‘আগের প্রজ্ঞাপনে যা ছিল, সেটাই অনুসরণ করা হবে।’

অর্থাৎ এবার সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াতের সময়সীমা বাড়লেও রাতযাপনের ক্ষেত্রে গত বছরের নিয়মই বহাল থাকছে।

এদিকে এবারও সেন্ট মার্টিনে যেতে পর্যটকদের ট্রাভেল পাস নিতে হবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের একজন কর্মকর্তা ‘প্রথম আলো’কে জানান, গতবারের মতো এবারও ট্রাভেল পাস নিয়ে পর্যটকদের দ্বীপে যেতে হবে। এ বিষয়ে কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

গত বছরের প্রজ্ঞাপনে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বেশ কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছিল। সেসবের মধ্যে আছে—

রাতে সমুদ্রসৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আলো না জ্বালানো।

শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন না করা।

কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয়ও নিষিদ্ধ।

সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।

সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চালানোও নিষিদ্ধ।

আরও পড়ুন