টেকনাফ থেকে দৌড়ে তেঁতুলিয়ায় গেলেন তিন তরুণ, সাইকেলে সঙ্গী আরেকজন
১৮ দিনে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ দৌড়ে পাড়ি দিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে গেছেন তিন তরুণ। পুরো অভিযাত্রায় সাইকেল চালিয়ে তাঁদের সঙ্গ দিয়েছেন আরেক তরুণ। ‘ডুওটির রান ফর বাংলাদেশ’ নামে এই ব্যতিক্রমী যাত্রা ৮ মে বিকেলে তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত ম্যারাথনে অংশ নিতে গিয়ে তাঁদের পরিচয় ও বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব থেকেই জন্ম নেয় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দৌড়ে যাওয়ার স্বপ্ন। অবশেষে স্বপ্নটা বাস্তবেও রূপ দিলেন চার তরুণ।
দলের সদস্যরা হলেন নোয়াখালীর আসিফুল হক (২২), টাঙ্গাইলের এহসানুল হক (১৭) ও পঞ্চগড়ের আসিফ আকবর (২২)। তাঁদের সঙ্গে পুরো পথ সাইকেলে সঙ্গ দেন কক্সবাজারের মো. আবদুল্লাহ (২১)।
দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত দৌড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতি রক্ষা, নারীশিক্ষা ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য।
দলনেতা আসিফুল হক বলেন, ২০২৫ সাল থেকেই তাঁরা এই অভিযানের পরিকল্পনা শুরু করেন। প্রথমে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরুর লক্ষ্য ঠিক করা হলেও পরে সময় ও বাস্তবতার কারণে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়। অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে টানা দুই মাস রানিং, সাইক্লিং ও সাঁতারের অনুশীলন করেন তাঁরা।
তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাজেট। আসিফুল বলেন, ‘আমরা সবাই শিক্ষার্থী। এত দীর্ঘ একটি যাত্রা সম্পন্ন করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ আমাদের ছিল না। পরে এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। তাঁরা আমাদের সাহস দেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।’
এরপর ২১ এপ্রিল ভোরে যাত্রা শুরু করেন তাঁরা। স্থানীয় সহযোগিতা ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপ পাওয়ার পর শুরু হয় তাঁদের স্বপ্নযাত্রা। টাইটেল স্পনসর হিসেবে পাশে দাঁড়ায় অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড।
দীর্ঘ পথচলায় প্রতিদিনই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের। কখনো তীব্র গরম, কখনো ঝড়-বৃষ্টি, আবার কখনো গভীর রাতের ফাঁকা মহাসড়ক পেরিয়ে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তবে শারীরিক ক্লান্তি তাঁদের থামাতে পারেনি।
যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় মানুষ তাঁদের স্বাগত জানান। কেউ পানি ও ফল দিয়েছেন, কেউ করতালি দিয়ে উৎসাহ জুগিয়েছেন। অনেক জায়গায় স্থানীয় তরুণেরাও তাঁদের সঙ্গে কিছুদূর দৌড়ে অংশ নেন।
আসিফুল হকের ভাষ্য, ‘আমাদের কাছে এই জার্নিটা ছিল একই সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চার আর চ্যালেঞ্জের। বাংলাদেশের ‘আয়রনম্যান’ মোহাম্মদ সামছুজ্জামান আরাফাত ২০ দিনে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া দৌড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন। আমরা চেষ্টা করেছি ১৮ দিনে যাত্রা শেষ করে সেই রেকর্ড ভাঙতে।’
আসিফুল আরও বলেন, পুরো অভিযানের সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং অংশ ছিল যমুনা নদী পার হওয়া। প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার নদীপথ সাঁতরে পার হতে হয়েছে তাঁদের। প্রবল স্রোতের মধ্যে সেই অভিজ্ঞতা ছিল সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও কঠিন।